যাত্রী ভেবে বাসের গতি কমিয়েছিলেন চালক। সামনের দরজায় নীচের সিঁড়িতে পা রেখেই নিমেষে কন্ডাক্টরের ডান হাত থেকে বেশ কিছু টাকার নোট ছিনিয়ে পালিয়েছিল ওই ব্যক্তি। চোখের সামনে হাত থেকে টাকা ছিনতাই হতে দেখে কিছু না ভেবেই ছিনতাইবাজের পিছনে ছুটতে থাকেন কন্ডাক্টর। প্রায় একশো মিটার ছুটে ছিনতাইবাজকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। ধৃতের নাম রাজু শিকদার। তার বাড়ি উল্টোডাঙায়।

পুলিশ সূত্রের খবর, বসিরহাট-ধর্মতলাগামী একটি বেসরকারি বাস শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ উল্টোডাঙার হাডকো মোড়ের কাছে আসতেই এক যুবক বাসটিকে হাত দেখায়। যাত্রী ভেবে যুবককে তুলতে বাসের গতি কমান চালক। বাসের কন্ডাক্টর, বসিরহাটের বাসিন্দা নিতাই মাইতির কথায়, ‘‘বাসটির গতি একটু কমাতেই নিমেষের মধ্যে যুবকটি বাসে উঠে আমার ডান হাত থেকে আড়াই হাজার টাকা ছিনিয়ে বাস থেকে নেমে দৌড়তে থাকে। কিছু না ভেবেই আমি চিৎকার করে যুবকের পিছু নিই।’’

কন্ডাক্টরের চিৎকারে বাসটি তখন দাঁড়িয়ে পড়েছে। হাডকো মোড় থেকে একশো মিটার ছুটে গিয়ে নিতাইবাবু দেখেন, উল্টোডাঙা রেল স্টেশন লাগোয়া বস্তির গলিতে যুবকটি ঢুকে মিলিয়ে যায়। কিন্তু তার পরেও চেষ্টা ছাড়েননি কন্ডাক্টর। কিছু ক্ষণ খোঁজাখুজির পরে দেখেন, যুবকটি যে রঙের জামা পরে ছিল তেমনই জামা একটি ঘরের সামনে দড়িতে টাঙানো। তা দেখে ঘরে ঢুকেই যুবককে চিনতে পারেন কন্ডাক্টর। পরে স্থানীয়দের ঘটনাটি জানান। খবর পেয়ে মানিকতলা থানার পুলিশ গিয়ে যুবককে পাকড়াও করে নিয়ে যায়। 

স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এক জন যুবকের পিছনে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে ছুটতে দেখে ভিড় জমে যায়। এ দিকে, ওই ঘটনার পরে হাডকো মোড়ে বাসটি থেকে সব যাত্রীরা নেমে অন্য বাসে যান। পরে কন্ডাক্টর মানিকতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ দিকে, কন্ডাক্টরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে পুলিশ। লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘ছিনতাইবাজকে ধরতে কন্ডাক্টর যে ভূমিকা নিয়েছিলেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। শীঘ্রই তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে।’’