• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাস-ট্যাক্সি-অটো, স্বাভাবিক হওয়ার পথে সব পরিবহণ

1
নজরদারি: যাত্রীরা যাতে বাসে নিয়ম মেনে ওঠেন, তা নিশ্চিত করছেন এক পুলিশকর্মী। বৃহস্পতিবার, ধর্মতলায়। নিজস্ব চিত্র

লকডাউনের মেয়াদ বাড়লেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে হলে গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে নবান্ন। পরের পর্বের লকডাউনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রও। ফলে পরিস্থিতি আঁচ করে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যেই গণপরিবহণ স্বাভাবিক করার তৎপরতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পরে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যাবতীয় সতর্কতা বজায় রেখে কন্টেনমেন্ট জ়োন ছাড়া বাকি সর্বত্র পরিবহণ স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। কলকাতার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বাস ছাড়াও ট্যাক্সি, অটো, অ্যাপ-ক্যাব এবং জলপথ পরিবহণও সচল করা হবে। তবে মেট্রো ও লোকাল ট্রেন নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি রেল।

নবান্ন সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পরিবহণ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে পারে সরকার। কলকাতায় ইতিমধ্যেই ১৫টি রুটে সরকারি বাস চালু হয়েছে। শহর ও সংলগ্ন জেলা মিলে কমবেশি আরও ৫০টি রুটে ওই পরিষেবা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। চালু হতে পারে দূরপাল্লার বাসও। বেসরকারি বাস-মিনিবাস সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকারের আলোচনার পরে তাদের উপরেই ভাড়া ঠিক করার ভার দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া ন্যূনতম ২৫ ও সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। মিনিবাসের ক্ষেত্রে যা ন্যূনতম ৩০ ও সর্বাধিক ৪৫ টাকা, জানালেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসু।

‘জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটস’-এর সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সব কিছু স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত যাত্রী পাওয়া নিয়ে সংশয় আছে তাঁদের। নতুন পরিস্থিতিতে সরকারি বাসের ভাড়া না বাড়ায় বেসরকারি বাসে ওঠার ক্ষেত্রে যাত্রীরা কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। 

আরও পড়ুন: ‘অবহেলায়’ মৃত্যু বৃদ্ধের, দেহ ছুঁলেন না কেউই

আরও পড়ুন: বাজার-বিলাসে যে লুকিয়ে বিপদ, বুঝেও বুঝছে না শহর

কন্টেনমেন্ট জ়োনের বাইরে অটো এবং ট্যাক্সি চালানো নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে এ দিন বৈঠক হয় পরিবহণ দফতরের। সেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়, অটোর ক্ষেত্রে সর্বাধিক দু’জন যাত্রী তোলা হোক। সে ক্ষেত্রে বর্তমান ভাড়ার দ্বিগুণ দিতে হতে পারে যাত্রীদের। চালক ও যাত্রীদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে মাঝে একটি প্লাস্টিকের আবরণ বসানো যেতে পারে। বিভিন্ন রুটে যে সব অটো রয়েছে, সেগুলির অর্ধেক থেকে এক তৃতীয়াংশ ‘রোটেশন’ পদ্ধতিতে চলতে পারে। অর্থাৎ, সব অটো এক দিনে নামার অনুমতি পাবে না।

‘প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সি মেনস ইউনিয়ন’-এর সাধারণ সম্পাদক শম্ভুনাথ দে জানিয়েছেন, তাঁরাও ট্যাক্সি চালু করতে চান। ভাড়া ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারকে দিয়েছেন তাঁরা। তবে পরিবহণ দফতর এ নিয়ে কিছু জানায়নি। ট্যাক্সি এবং অ্যাপ-ক্যাব, দু’ক্ষেত্রেই দু’জন করে যাত্রী উঠতে পারবেন।

কলকাতার একটি অ্যাপ-ক্যাব সংস্থা এ দিন পরিষেবা চালু করলেও পর্যাপ্ত গাড়ি পায়নি। কন্টেনমেন্ট জ়োনের বাইরেই চলতে পারবে ক্যাব। আপাতত ক্যাবচালকদের একাংশ ট্রেনে আসা যাত্রীদের হাওড়া স্টেশন থেকে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন। যাত্রীর কাছে ট্রেনের টিকিট থাকলে সেটাই যাতায়াতের অনুমতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রেল সূত্রে খবর, আপাতত বিভিন্ন শহরে আটকে থাকা যাত্রীদের ফেরানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে। সে কাজ মিটলে শহরতলির ট্রেন চালু হতে পারে। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন