বেপরোয়া মোটরবাইক, গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান আগেই শুরু হয়েছিল। পুজোর মুখে এ বার শহরের পানশালা, নাইটক্লাব এবং হুক্কা বারের বিরুদ্ধেও অভিযানে নামবে পুলিশ। লালবাজারের খবর, পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ওই নির্দেশ দিয়েছেন। পুজোর সময়ে শহরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতেই ওই পদক্ষেপ বলে দাবি লালবাজারের।

একই ভাবে বেপরোয়া মোটরবাইক ও গাড়ির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে পুজোর সময়ে একের পর এক মোটরবাইক ও গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তার পর থেকেই পুজোর ঠিক আগে ওই ধরনের অভিযান হয়। এ বার সেই অভিযান আরও এগিয়ে আনা হচ্ছে। 

লালবাজার জানিয়েছে, হুক্কা বার নিয়ে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সেগুলিও মানা হচ্ছে না বলে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ মহলে অভিযোগ জমা পড়েছে। তা ছাড়া শহরের বহু নাইটক্লাব এবং হুক্কা বার নির্দিষ্ট সময়ের পরেও খোলা থাকছে। সে সব কারণেই ওই নির্দেশ বলে মনে করছে পুলিশের একাংশ। লালবাজারের একটি সূত্রের বক্তব্য, পুজোর সময়ে শহরে হইহুল্লোড় বাড়বে। সে সময়ে যাতে নাইটক্লাব, পানশালা ও হুক্কাবারগুলিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না-যায়, সে কথা মাথায় রেখেই এখন থেকে রাশ টানার কথা ভাবা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্রের মতে, হুক্কাবার এবং নাইটক্লাবে গভীর রাত পর্যন্ত হইহুল্লোড় হচ্ছে। বহু সময় ওই ধরনের হুল্লোড় থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, নাইটক্লাব ফেরত মত্ত তরুণ-তরুণীরা বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়ে বিপদ ঘটাতে পারেন। খাস কলকাতায় তার উদাহরণও রয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই নাইটক্লাব, পানশালা রয়েছে এমন এলাকায় নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতেও ফের বলেছে লালবাজার। 

সম্প্রতি শেক্সপিয়র সরণিতে কলকাতার একটি মোগলাই রেস্তরাঁর মালিকের ছেলে গভীর রাতে জাগুয়ারে সওয়ার হয়ে বেপরোয়া ভাবে একটি মার্সিডিজ় গাড়িকে ধাক্কা মারে। মার্সিডিজ় গাড়িটি ছিটকে গিয়ে দু’জনকে পিষে দেয়। লালবাজারের নির্দেশ, শহরের এমন দামি গাড়িগুলির উপরেও নজর রাখা হবে। ধনী বাড়ির সন্তানেরা বেসামাল অবস্থায় দামি গাড়িতে সওয়ার হয়ে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ। যে সব গাড়ি নিয়ম বহির্ভূত ভাবে গাঢ় রঙের জানলা ব্যবহার করছে, সেগুলির বিরুদ্ধেও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বেপরোয়া গাড়ি, মোটরবাইক, হেলমেটহীন মোটরবাইকের আরোহী ও চালকের বিরুদ্ধেও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত থেকেই অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে। ওই রাতে এক মোটরবাইকে তিন জন চাপার জন্য ৫৯৯ জনকে এবং হেলমেট ছাড়া মোটরবাইকে চাপার জন্য ৮৭৬ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। বেপরোয়া ও মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য ১৯৭ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে এবং ১৭টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া, ২৮১ লিটার বেআইনি মদ ধরা হয়েছে, ১৫৬টি জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৭৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।