E-Paper

দুনিয়া ডায়েরি: বার্ধক্যে কাবু চিন বিয়ে করতে উৎসাহ দিচ্ছে

চিনে এখন জনসংখ্যার ২৩ শতাংশই ষাটোর্ধ্ব। তাই বিয়ে এবং সন্তানধারণ— দুই সুরাহার দিকে তাকিয়ে দেশ। ‘এক সন্তান নীতি’ ২০১৫-তেই প্রত্যাহৃত।

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫০

প্রতি ১০০০ জনে জন্মহার ৫.৬৩। গত চার বছরে দেশে জন্মহার ক্রমশ কমেছে, ২০২৫-এ রেকর্ড ছুঁয়েছে সর্বনিম্ন হার, আর মৃত্যুহার সেই ১৯৬৮ থেকে ধরলে সর্বোচ্চ! ব্যাপার দেখে চিনা সরকারের ঘুম ছুটেছে। আগে ধারণা ছিল বিপুল জনসংখ্যা মানেই বিস্তর ঝঞ্ঝাট। গায়ের জোরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নীতি বুমেরাং হওয়ার পর চিনের সরকার বুঝেছে যে, সমস্যাটা উল্টো দিক থেকে— জনসংখ্যা কমতে থাকা, বা বয়স্ক জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকা মানে উৎপাদনের শক্তি কমা, অথচ বয়স্কদের জন্য খরচ বাড়া। চিনে এখন জনসংখ্যার ২৩ শতাংশই ষাটোর্ধ্ব। তাই বিয়ে এবং সন্তানধারণ— দুই সুরাহার দিকে তাকিয়ে দেশ। ‘এক সন্তান নীতি’ ২০১৫-তেই প্রত্যাহৃত। বাড়ির কাছাকাছি বিয়ে করতে হবে, এই নিয়মও গত বছর থেকে তুলে দিয়েছে সরকার। বলছে, দেশের যে কোনও জায়গায় বিয়ে করো তা-ই সই, তবু বিয়েটা করো, তবে যদি পরবর্তী প্রজন্ম এসে জনসংখ্যায় হাসি ফোটায়!

পরিবর্তন: জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে চিন।

পরিবর্তন: জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে চিন।

‘বোকামি’ নয়

মরিশাসকে চাগস দ্বীপপুঞ্জ ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে ব্রিটেনের সিদ্ধান্তে না-খুশ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, বোকামি করছে ব্রিটেন। পদক্ষেপটিকে দুর্বলতা হিসেবেই গণ্য করবে চিন ও রাশিয়া। অথচ, আগে এতে সম্মতি ছিল ট্রাম্পের। বেকায়দায় কিয়ের স্টার্মার সরকার, বিরোধীরাও সরব। একদা এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটেনের উপনিবেশ থাকলেও, সাম্প্রতিক কালে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের নির্দেশে ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তা মরিশাসকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে ব্রিটেনকে। যদিও দিয়েগো গার্সিয়া— যেখানে একদা আমেরিকান ও ব্রিটিশ ঘাঁটি ছিল— এখন মরিশাসের থেকে ইজারা নিয়ে রেখেছে তারা। তাই ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হলেও, আপাতত সিদ্ধান্তেই অনড় থাকছে স্টার্মার সরকার।

জ্বলেনি আলো

রুশ সামরিক হামলার জেরে বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ইউক্রেনের রাজধানী কিভ। শহরের ৩৬ লক্ষ মানুষের জন্য যতখানি বিদ্যুতের প্রয়োজন, তার অর্ধেকও মিলছে কি না সন্দেহ। কিছু কিছু জায়গায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এর উপরে তীব্র শীত পড়েছে, তুষারপাত আরও জটিল করে তুলেছে পরিস্থিতি। অবস্থা সামাল দিতে তাই সুযোগ থাকলে নগরবাসীকে কিছু দিনের জন্য অন্যত্র বসবাস করার পরামর্শও দিচ্ছে প্রশাসন। স্কুলগুলি তাদের শীতকালীন ছুটি বাড়িয়েছে, অনেক বাণিজ্যিক সংস্থা বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করেছে। শহরের বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে এগিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও। প্রশাসনের আশা, পরিস্থিতি এখন কঠিন ঠিকই, তবে সামলে নিতে পারবে তারা।

ধীরে চলো

২০১১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে জাপানের ফুকুশিমা দাইইচি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক চুল্লি গলে যায়, তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে ভয়াবহ বিপদ ঘনায়। মালিক সংস্থাটির বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ওঠে, বিশ্বযুদ্ধে ঘরপোড়া জাপানিরা দেশের সব পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করেন। কিন্তু, অধুনা গ্রহের স্বাস্থ্যের খাতিরে জাপানে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির পুনরুজ্জীবন হচ্ছে। এ বার, বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাশিওয়াজ়াকি-কারিওয়ার ছ’নম্বর চুল্লিটি পুনরায় চালুর পরেই কারিগরি সমস্যার জন্য বন্ধ করতে হল। সেই অভিযুক্ত সংস্থাটিরও এটি প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা আবার চালু হয়েছিল। তবে, এ ক্ষেত্রে জাপান ‘ধীরে চলো’ নীতিই নিয়েছে। ২০১১ সালের আগে তাদের মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশই ছিল পারমাণবিক, আর ২০৪০ সালে ২০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুতের লক্ষ্য তাদের, যা-ও অর্জন করা বেশ কঠিন বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের অবহেলায় ফের জেগে উঠতে পারে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি— সার বুঝেছেন তাঁরা।

বৃহত্তম: কাশিওয়াজ়াকি।

বৃহত্তম: কাশিওয়াজ়াকি। ছবি: রয়টার্স।

প্রতিযোগিতায় তৈরি

অর্থনীতির দুনিয়ায় সেরা দেশ কোনটা, তা বোঝার জন্য শুধু দেশের আয় বা আয়বৃদ্ধির হার দেখলেই চলে না। দেখতে হয় তার সামাজিক অবস্থা, শিক্ষাক্ষেত্রের হাল। সুস্থায়ী উন্নয়নের পথে কত দূর চলতে সক্ষম হয়েছে দেশটি, দেখতে হয় তা-ও। ‘ওয়ার্ল্ড কম্পিটিটিভনেস র‌্যাঙ্কিং ২০২৫’ অনুসারে, আর্থিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দড় দেশটির নাম সুইৎজ়ারল্যান্ড। এ ছাড়াও প্রথম পাঁচে রয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকং এসএআর, ডেনমার্ক এবং ইউএই। প্রথম দশে আমেরিকার নাম নেই। আর ভারত? ৬৯টি দেশের মধ্যে ৪১তম স্থানে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Population Mauritius

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy