সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: প্রদীপের তলায়

edit
প্রতীকী ছবি।

এক নিদারুণ খবরের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ওড়িশার ঢেঙ্কানলে ১৫ বছরের এক দলিত মেয়ের উচ্চবর্ণের বাড়ি থেকে ফুল পাড়ার অপরাধে গ্রামের ৮০০ পরিবারের মধ্যে দলিত ৪০টি পরিবারকে একঘরে হতে হয়েছে (‘‘উচ্চবর্ণের’ বাড়ি থেকে ফুল পেড়ে...’, পৃ ৮, ২২-৮)। এটাই পঞ্চায়েতের নিদান ছিল। এই নিদান অনুযায়ী, শুধুমাত্র তাঁদের সঙ্গে গ্রামের অন্যদের কথা বলা বন্ধ নয়, সেই গ্রামের দোকান-বাজারে কেনাবেচা থেকে শুরু করে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ। এমনকি এই দলিতরা কোনও বরযাত্রী বা মৃতদেহ নিয়ে ওই গ্রামের ভিতর দিয়েও যেতে পারবেন না। দলিত শিক্ষকদেরও ট্রান্সফার নিয়ে চলে যেতে হবে।

হায়! ভারতবর্ষের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস পালন করার পরও স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতের ধর্মে, বর্ণে, জাতিতে যে হানাহানি ছিল, তা এখনও রয়ে গিয়েছে! কোন দিশায় ভারত এগোচ্ছে? কে প্রতিকার করবে? রাষ্ট্রশক্তি ক্ষমতায় অন্ধ। মানুষের মধ্যে বিভাজন করা হচ্ছে। বাস্তব এটাই যে, আগামী ভারত বিশ্ববিখ্যাত মন্দির দেখবে। খবরে প্রকাশিত, হাজার বছরের আয়ু দিতে মন্দিরে তামার পাত বসবে। হাজার হাজার প্রদীপ জ্বলে উঠবে। বর্তমান শাসকের বিজয়রথ ছুটবে। আলোয় ভাসবে দেশ। আর সেই প্রদীপের তলার অন্ধকারে জাতি, ধর্ম, বর্ণের বিভাজনে কি তলিয়ে যাবে মানবতা?

নরেন্দ্র নাথ কুণ্ডু, কলকাতা-৮৪

ধাপার পরে

কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছতার সমীক্ষায় মধ্যপ্রদেশের ইনদওর শহর পর পর চার বার দেশের পরিচ্ছন্নতম শহরের তকমা পেল (‘স্বচ্ছতায় ফের সেরা ইনদওর’, পৃ ৮, ২১-৮)। নাগরিক সচেতনতা আর আমাদের সমষ্টিগত অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে না পারলে নিজের শহরকে আমরা নবজাতকের বাসযোগ্য করে রেখে যেতে পারব না।

কিন্তু কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকের সীমাহীন উদাসীনতা ও আংশিক অজ্ঞতা সুস্থ নাগরিক জীবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টাই করি না, আমাদের ফেলে দেওয়া বর্জ্য কোথায় গিয়ে জমা হচ্ছে এবং তা কী ভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। যেমন কলকাতাবাসী জানেন, তাঁদের বর্জ্য শহরের প্রান্তে ধাপার মাঠে গিয়ে পড়ে। কিন্তু আমরা ভাবি না, বছরের পর বছর একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা জমতে থাকলে তা পরিবেশের স্থায়ী ক্ষতিসাধন করে, অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়, বায়ু, জল এবং মাটি বিষিয়ে যায়, নাগরিকের জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি একটি মামলায় জাতীয় পরিবেশ আদালত হরিয়ানা সরকারকে দীর্ঘ দিন ধরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবৈজ্ঞানিক ভাবে আবর্জনা ফেলার জন্য ১৪৬ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। এ রকম ঘটনা বড় শহরগুলিতে ঘটেই চলেছে। জাতীয় পরিবেশ আদালত এখন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আর কোনও স্থানকে নিতান্ত ‘ডাম্পিং সাইট’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বর্জ্য ফেলতে হবে প্রক্রিয়াকরণ করে। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে, যদি সকল নাগরিক এগিয়ে না আসেন। বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রথম ধাপ মানে পচনশীল আর অপচনশীল বর্জ্যের সুষ্ঠু পৃথকীকরণ, যা গৃহস্থের চৌকাঠ থেকে আরম্ভ হয়। মাথায় মন্ত্রের মতো গেঁথে ফেলতে হবে, ‘প্রতি দিন/ দু’টি বিন’।

শান্তনু মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-৯১

জন্মদিবস

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ সম্পর্কিত যে চিঠিটি অমরনাথ করণ  লিখেছেন (‘ঐতিহ্যের ইতিহাস’, ৬-৮) তার প্রেক্ষিতে জানাই, গত ৮ শ্রাবণ (২৪ জুলাই, ২০২০) ‘‘...বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ১২৮তম জন্মদিনটি নীরবে চলে গেল’’— এই দাবি ভুল। করোনা আবহে স্বাস্থ্যবিধিকে মান্যতা দিয়েই প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানগুলি হয়েছে।

দুপুর ১২টায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর রমেশভবনে কার্যনির্বাহী সমিতির পদাধিকারীদের কয়েক জন, গ্রন্থাগারিক, সহ-গ্রন্থাগারিকগণ এবং বহু কর্মিবন্ধু উপস্থিত হয়ে ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রেখে, ভবনে অবস্থিত মনীষীদের প্রতিকৃতি ও প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান করেছেন। বিকেলে অনলাইন আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বিভিন্ন পদাধিকারী ও সাধারণ সদস্যদের উপস্থিতিতেই এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

রতনকুমার নন্দী, সম্পাদক, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ

অ-চিকিৎসা

কলকাতা বা শহরতলির হাসপাতালগুলোয় মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে সংবাদমাধ্যম বিরক্ত এবং উদ্বিগ্ন। কিন্তু গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর ৩০-৪০ কিমি দূরে হাসপাতালে পৌঁছতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় মারা যান, সে খবর কেউ রাখেন না। আমার গ্রাম পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে, গলসি থানার অধীনে লোয়া গ্রাম। এখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল। এক সময় ২০টি গ্রামের লোক চিকিৎসার জন্য এর উপর নির্ভরশীল ছিলেন। ধীরে ধীরে সেখানে ডাক্তার আসা অনিয়মিত হল, এক সময় এক জন কম্পাউন্ডার এটি দেখাশোনা করতেন। দু’বছর হতে চলল তিনি অবসর গ্রহণ করেছেন। তার পর থেকে সম্পূর্ণ পরিষেবা বন্ধ। মানুষকে এখন প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গাড়ি ভাড়া করে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে। আমাদের এই পরিষেবা না পাওয়ার অভ্যাস চিরকালীন। আর করোনা পরিস্থিতিতে এই বঞ্চনা চরমে উঠেছে।

চন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাঁতরাগাছি, হাওড়া

পিতার দাবি

কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ঋতুকালীন ছুটির পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার (‘ভাঙবে সংস্কার, তবু ধন্দ ছুটিতে’, ২৩-৮) প্রসঙ্গে বলতে চাই, কাজের জায়গায় পিতৃত্বকালীন ছুটিও প্রয়োজন। শিশুর স্কুলে ভর্তি, পেরেন্টস মিটিং, স্কুল-ফি জমা দেওয়া, বাবার অনেক কর্তব্য থাকে। এ ছাড়াও আছে জরুরি চিকিৎসা বা অন্য কোনও সঙ্কট, যেখানে এক জন পিতার ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অণু-পরিবারে বহু কর্মরত মা-বাবা এই সমস্যার সম্মুখীন। সরকারি, বেসরকারি— যে কোনও প্রতিষ্ঠানে কম করে তিন মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা শুধু দরকার নয়, মানবিকও বটে।

সুপ্রতিম প্রামাণিক, আমোদপুর, বীরভূম

মঙ্গলের জমি?

‘শৌচালয় কেমন হবে চন্দ্রযানে’ (১১-৮) সংবাদে জানা গেল নাসার ব্যবস্থাপনায় এক বঙ্গসন্তান তিন হাজার টাকায় মঙ্গলগ্রহে এক একর জমি কিনে ফেলেছেন। আমরা, যারা নাসার কাজকর্মের কিছু খবর রাখি, তারা এই খবর পড়ে  বিস্মিত। নাসা এ রকম কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত বলে জানা নেই। আইনত এ ভাবে গ্রহান্তরে জমির মালিকানা দেওয়াও যায় না। কারণ এ ব্যাপারে কিছু আন্তর্জাতিক বিধি আছে শুনেছি (আউটার স্পেস ট্রিটি ১৯৬৭ এবং স্পেস অ্যাক্ট ২০১৫)। এগুলো আসলে কিছু ভুঁইফোঁড় সংস্থা অর্থের বিনিময়ে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। বছর তিরিশ আগে চাঁদের জমি বিক্রি হচ্ছে এবং লোকে কিনেছে বলেও শোনা গিয়েছিল। মঙ্গলগ্রহের জমি বেচা নিয়ে এমনই এক সংস্থার নাম অনেকেই জানেন, যারা ২৯.৯৯ ডলারের বিনিময়ে এক একর জমি বিক্রি করছে। আরও বেশি খরচ করলে সাজিয়েগুজিয়ে সার্টিফিকেট দিচ্ছে। এটা নিছক মজাই। এ ভাবে নাসার নাম উল্লেখ করাটা আপত্তিকর।

শংকর লাহিড়ি, কলকাতা-১০৩

প্রতিবেদকের উত্তর: নাসার ব্যবস্থাপনায় জমি বিক্রি হয়নি। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন