×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৩ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: এ কেমন খেলা?

০৫ মার্চ ২০২১ ০৭:৪১

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৪০.২ ওভারে ভারতের খেলা সংক্ষিপ্ততম টেস্ট ম্যাচ কার্যত দেড় দিনে শেষ হল মোতেরায়। ভারত ইংল্যান্ডকে হারাল ১০ উইকেটে। এর আগেও ভারতের খেলা টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১৬১.২ ওভারে, ইডেন গার্ডেন্সে। সেই টেস্টে ভারত হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দেখা যাবে একাধিক টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়েছে দু’দিনেই। তবু ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে চলতি দিন-রাতের টেস্ট সিরিজ়ের তৃতীয় টেস্ট নাটকীয় ভাবে মাত্র দেড় দিনে শেষ হওয়ায় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর বির্তক। মার্ক ওয়, মাইকেল ভনদের মতে, মোতেরার পিচ খেলার উপযোগী ছিল না। আবার, সুনীল গাওস্কর, বিরাট কোহালি ও রোহিত শর্মাদের মতে, উইকেটে তেমন কোনও জুজু ছিল না। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ে কৌশলগত ভুল ছিল। গাওস্করের মতে, ব্যাটসম্যানরা বলের কাছে পৌঁছতে পারেননি। বর্তমান প্রজন্মে স্পিন বল খেলার মতো দক্ষ ব্যাটসম্যান খুব কম দেখা যাচ্ছে।

দেড় দিনে ভারত টেস্ট ম্যাচ জিতলেও গড়পড়তা ক্রিকেটপ্রেমীরা খুশি হতে পারেননি। ব্যাট-বলের দ্বৈরথ, সেঞ্চুরি, অসাধারণ বোলিং, হ্যাটট্রিক, তাক-লাগানো ফিল্ডিং— এগুলো হল টেস্ট ম্যাচের সনাতন বৈশিষ্ট্য। এর জন্য ক্রিকেটভক্তরা মুখিয়ে থাকেন। দেড় দিনে পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ শেষ— এ যেন বাসরঘর সাজানোর আগেই ভেঙে ফেলা। চাই খেলার উপযোগী নিরপেক্ষ ২২ গজ। ব্যাটসম্যানদের দরকার টেস্ট ম্যাচ খেলার ধৈর্য ও মানসিকতা, ফিল্ডিং ও কিপিং-এর দক্ষতা, সর্বোপরি খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা।

হারানচন্দ্র মণ্ডল, কলকাতা-১২৩

Advertisement

বিচিত্র পিচ

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি হল আমদাবাদে। কিন্তু এমন পিচ তৈরি করা হল যে, মাত্র ১৪০ ওভারেই (দেড় দিনের একটু বেশি) খেলায় ইতি। এখানকার ঘূর্ণি পিচে ৩০টি উইকেটেই খেলার নিষ্পত্তি হয়ে গেল। স্পিনাররা পেলেন ২৮টি। ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন জো রুট-কে দেখে মনে হল, ব্যাটসম্যান হয়েও ৫টি উইকেট নিয়ে নিজেই অবাক। ভারতীয়রা এই পিচ নিয়ে অভিযোগ তোলেননি। তাঁদের চোখ লর্ডসের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। তবে পিচ নিয়ে ইংল্যান্ড মোটেও সন্তুষ্ট নয়। ক্ষমতাশালী দেশটির এই বিচিত্র পিচ আইসিসি-র কুনজরে আসবে কি না, সময় বলবে। তবে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক হিসেবে আমরা একটু অন্য ভাবে ব্যাপারটাকে ভাবার অনুরোধ জানাচ্ছি। টেস্ট ম্যাচের পাঁচ দিনের টিকিট কাটেন দর্শকরা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের বদলে মাত্র দেড় দিনেই যদি খেলার ফয়সালা হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে দর্শকরা এ ধরনের ক্রিকেটে তেমন আগ্রহ দেখাবেন তো?

শক্তিশঙ্কর সামন্ত, ধাড়সা, হাওড়া

নামকরণ

মোতেরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দু’দিকের দুটো প্যাভিলিয়নের নামকরণ দুই ‘স্পনসর’ রিলায়েন্স আর আদানি গ্রুপের নামে হয়েছে। এ দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের সরিয়ে দেওয়া হল কেন? শিশুরা যখন স্টেডিয়ামে এসে মা-বাবাদের জিজ্ঞেস করবে যে, অম্বানী আর আদানিরা ক’টা টেস্ট বা ওয়ান-ডে ম্যাচ খেলেছে, তখন বড়দের মুখের অবস্থা দেখার মতো হবে। কোনও বিনিয়োগকারী যদি নতুন করে মুম্বই বা দিল্লি শহর তৈরি করেন, তখন কি শহরের নামও বদলে তাঁর নামে করে দেওয়া হবে?

অরূপরতন আইচ, কোন্নগর, হুগলি

চাই টাকা

মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে সুমিত ঘোষের লেখা ‘দুই মালিকের গপপো’ (রবিবাসরীয়, ২১-২) লেখাটি নিঃসন্দেহে মনোগ্রাহী এবং হৃদয়বিদারক। তা সত্ত্বেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। যেমন, ‘এটিকে মোহনবাগান’ বা ‘এসসি ইস্টবেঙ্গল’ শুনতে ভাল না লাগলেও এর বিকল্প কী? আজ কর্পোরেট সংস্থা না এলে এই দলগুলোর ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াত? শুধুমাত্র ক্লাব সদস্য বা কিছু ছোটখাটো স্পনসর দিয়ে ক্লাব হয়তো টিকে থাকত। কিন্তু, সর্বভারতীয় স্তরে বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে আইলিগ খেলা মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল ক্রমশ আইএসএল-এর কাছে ধারে এবং ভারে পিছিয়ে পড়ছে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলা, তথা ভারতের সেরা খেলোয়াড়দের প্রধান লক্ষ্য আইএসএল।

ফিফা আগামী ফুটবল বর্ষে আইলিগ-এর পরিবর্তে আইএসএল-কে ভারতের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টের স্বীকৃতি দেবে— এই ঘোষণায় ক্লাবগুলো বুঝতে পেরেছে, আইএসএল না খেললে চলবে না। তার জন্য প্রচুর টাকার দরকার, যা কর্পোরেট সংস্থার সাহায্য ছাড়া অসম্ভব। ভারতীয় দলে না খেলেও শুধুমাত্র আইপিএল-এর দৌলতে অনেক ক্রিকেটার আজ কোটিপতি। তেমনই, আইএসএল খেলে বর্তমান ফুটবলাররা পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি টাকা রোজগার করছেন, এবং ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়ন ঘটেছে। ক্রমবর্ধমান খরচ সামলাতে বিশ্ব ফুটবলে প্রায় সকল দেশ কর্পোরেটকে স্বাগত জানিয়েছে।

লেখকের আপত্তি কোথায়— কর্পোরেটে, না অবাঙালি কর্পোরেটে? কলকাতার ফুটবল অবাঙালি ফুটবলার ছাড়া অসম্পূর্ণ। বলরাম, জার্নেল সিংহ, রহমান, অরুময়নৈগম, হাবিব, নইম, শ্যাম থাপা, বিজয়ন, ভাইচুং প্রমুখ আজও উজ্জ্বল। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে, শুধুমাত্র কলকাতার ফুটবলকে ভালবেসে তাঁরা এখানে খেলে বাংলার ফুটবলকে ভারতসেরা করেছিলেন। যদি অবাঙালি ফুটবলারকে মেনে নিতে পারি, তবে অবাঙালি ব্যবসায়ীতে আপত্তি কেন?

শরদিন্দু ঘোষ চৌধুরী, নৈহাটি , উত্তর ২৪ পরগনা

স্মৃতির ইডেন

‘বাংলার প্রথম ক্রিকেট যোদ্ধা’ (১৩-২) প্রবন্ধটি পড়ে গড়ের মাঠ ও ইডেন গার্ডেন্সের প্রচুর মুহূর্তের কথা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল। ষাট বছর ধরে আমি কলকাতার ক্রিকেটের সাক্ষী। স্কুলে পড়ার সময় থেকে ইডেনে যাওয়া শুরু কাকার সঙ্গে। ফজল মাহমুদের পাকিস্তানের (হানিফ মহম্মদ, জাভেদ বার্কি, নাসিমুল গনি প্রমুখ) সঙ্গে ও ইংল্যান্ডের টেড ডেক্সটারের দলের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ ইতিমধ্যে দেখা হয়ে গিয়েছে। নরি কন্ট্রাক্টরের ভারত বিপুল রানে জিতেছিল। এর পরই ভারতকে ফাস্ট বোলিং রপ্ত করাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় থেকে চার জন ফাস্ট বোলারকে (চেস্টার ওয়াটসন, স্টিয়ার্স, লেস্টার কিং ও রয় গিলক্রিস্ট) ভারতের চারটি জ়োনে রঞ্জি ও দলীপ ট্রফি খেলতে দেওয়া হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রয় গিলক্রিস্ট বিশ্বের ব্যাটসম্যানদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন হেলমেট, আপার থাইপ্যাড, রিব গার্ড, রিস্ট/এলবো গার্ড ছিল না, বাউন্সার বা বোলিং সংক্রান্ত বিধিনিষেধও ছিল না।

ইডেনে জয়সীমা, আব্বাস আলি বেগের হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল চার দিনের খেলার (১৯৬৩) বিভিন্ন ঘটনা, যেমন— পঙ্কজ রায়ের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি, শ্যাম সুন্দর মিত্রের অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস, চুনী গোস্বামীর সাহসী ব্যাটিং, বোলিং ও দুর্দান্ত ফিল্ডিং, বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। গিলক্রিস্ট এত বদমেজাজি ছিলেন যে, পঙ্কজ রায়কে বোল্ড করে আম্পায়ারকে দু’হাত তুলে কিছু জিজ্ঞাসা করছিলেন, যা আমরা দর্শক আসনে বসে বুঝিনি। পর দিন সংবাদপত্রে দেখলাম, এলবিডব্লিউ না পাওয়া বিরক্ত গিলক্রিস্ট আম্পায়ারকে বলেছিলেন, “এ বার এটা আউট তো?”

গিলক্রিস্ট মেজাজ হারানোর ফলস্বরূপ হায়দরাবাদের অধিনায়ক জয়সীমা তাঁকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামাননি, উত্তেজিত দর্শকদের কথা ভেবে।

শিবরূপম গুহ, কলকাতা-১০৭

Advertisement