টেলিভিশনের পর্দায় সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক্সারসাইজ় (ছবিতে) ভিডিয়ো দেখে আমার মতো আরও অনেকেই শরীরচর্চায় উৎসাহ বোধ করবেন। কিন্তু অনেকেরই জিম বা এক্সারসাইজ় ক্লাবে যাওয়ার সঙ্গতি নেই। আবার মুম্বই, কলকাতা বা দিল্লিতে, সাধারণের জন্য খালি জায়গা বা হাঁটার জন্য ফুটপাতের অভাব। যেটুকু ফুটপাত আছে, সেটুকুও ব্যবসা বা গাড়ি রাখার জন্য ব্যবহার হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাস দিল্লিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বা বিভিন্ন সরকারের পেটোয়া লোকেদের বাংলোর কিছুটা জনসাধারণের ব্যায়ামের জন্য খুলে দিলে, আর বিভিন্ন শহরে সাইকেল আর হাঁটার জায়গার সুবন্দোবস্ত করলে, সাধারণের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবেশের উন্নতি অবশ্যম্ভাবী।

স্বচ্ছ ভারত আন্দোলনের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ভাবে ‘সুস্বাস্থ্য ভারত’ আন্দোলনের পথিকৃৎ হলে অন্যান্য দল বা প্রাদেশিক সরকারও উৎসাহিত হতে পারে।

শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়  বসন্তকুঞ্জ, নয়াদিল্লি

 

যদি এগুলোও

যোগ দিবস পালন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সরাসরি চিঠি লিখেছেন। আচার্য হিসাবে রাজ্যপাল ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন, খুবই ভাল কথা। পাশাপাশি যদি কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্লাসরুম, হস্টেল, শৌচাগার আর ক্যান্টিনের হাল হকিকত দেখে উন্নতির ব্যবস্থা করতেন, বড় ভাল হত।

শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়  সিঙ্গাপুর

 

অম্বেডকর

অম্বেডকর বিষয়ে (২৫-৪ এবং ৯-৬) প্রকাশিত দু’টি চিঠির প্রেক্ষিতে এই চিঠি। সোমনাথ গোস্বামী লিখেছেন, স্কুলের খাতায় অম্বেডকরের উপাধি লেখা হয় ‘আম্বাদাকার’, তাঁদের আদি নিবাস আম্বাদ্বের নাম অনুসারে। ভীমরাওদের আদি নিবাস ছিল ‘আম্বাদ্বে’ নয়, অম্বাবাডে।

উজ্জ্বলকুমার মণ্ডল এবং সীমা মণ্ডল লিখেছেন, সংবিধান রচনায় বাকিদের ভূমিকাও নগণ্য নয়। মূলত, সংবিধান হল একটি যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। এ প্রসঙ্গে জানাই, গণপরিষদের অন্যতম সদস্য টি টি কৃষ্ণমাচারি গণপরিষদে (সংবিধান-সভায়) ১৯৪৮-এর ৫ নভেম্বর গণপরিষদের অধ্যক্ষ ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, ‘‘এই কক্ষ হয়তো অবগত যে, আপনি যে সাত জনকে (সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য) মনোনীত করেছিলেন তাঁদের মধ্যে এক জন পদত্যাগ করেছিলেন এবং তাঁর স্থলে অন্য এক জন মনোনীত হয়েছিলেন। এক জনের মৃত্যু হলে তাঁর জায়গা পূরণ হয়নি। এক জন আমেরিকা চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পদটা খালিই রয়ে গিয়েছে। আর এক জন অন্য কাজে ব্যাপৃত থেকেছেন, সে দিক থেকে তাঁর পদ ফাঁকাই থেকেছে। আর দু’এক জন স্বাস্থ্যের কারণে দিল্লির দূরে থেকেছেন। সে জন্য তাঁরা কোনও বৈঠকে যোগদান করতে পারেননি। ফলত, সংবিধানের খসড়া তৈরির ভার চূড়ান্তরূপে ড. অম্বেডকরের উপর বর্তায়। এবং, এ বিষয়ে আমার কোনও সংশয় নেই যে তাঁর (অম্বেডকরের) উপরে ন্যস্ত কাজটা যে এত প্রশংসনীয় ভাবে তিনি সম্পন্ন করেছেন তার জন্য তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’’ ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদও সংবিধান রচনায় ড. অম্বেডকরের ভূয়সী প্রশংসা করে গিয়েছেন।

সুভাষ সরকার  কলকাতা-৩৫

 

নিন্দুকেরা

টি টি কৃষ্ণমাচারির উক্তি জানা থাকলেই (বা তা খুঁজে বার করার অধ্যবসায় থাকলেই) যে কেউ অনুধাবন করতে পারবেন, সংবিধান রচনা অম্বেডকরের প্রায় একক কীর্তি। সংবিধান রচনা কার কীর্তি, তা নিয়ে নানা সময়ে দেশ জুড়ে তীব্র বিবাদ বিতর্ক হয়েছে। অনেকেই অম্বেডকরের ভূমিকা গৌণ করে দেখাবার চেষ্টা করেছেন। লেখক-সাংবাদিক অরুণ শৌরির মতো অনেকে পরামর্শদাতা বি এন রাও এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি এস এন মুখোপাধ্যায়কে সংবিধান রচনার পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়ে থাকেন।

তিন বছরের কার্যকালে সংবিধান সভা ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন কর্মরত ছিল। ২৯৯ জন সদস্য ১১৪ দিন ধরে শুধু সংবিধানের খসড়া নিয়ে বিচার বিমর্ষ করেন। ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ সালে সংবিধানসভা রাষ্ট্রের পক্ষে সংবিধান গ্রহণ (adoption) করে। ২৮২ জন সদস্য ২৪ জানুয়ারি ১৯৫০ সংবিধানে নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করেন। সংবিধান গ্রহণের ঠিক তিন দিন আগে, ২৩ নভেম্বর ১৯৪৯ আরএসএস প্রধান মাধব সদাশিব গোলওয়ালকর নিজস্ব মুখপত্র ‘অর্গানাইজ়ার’-এ সদ্য রচিত সংবিধানের নিন্দা ও হিটলারের ইহুদি-সংহারের মুক্তকণ্ঠ প্রশংসা করলেন। "To keep up purity of the nation and its culture, Germany shocked the world by her purging the country of the Semitic races, the Jews. National pride at its highest has been manifested here. Germany has also shown how well-nigh impossible it is for races and cultures having differences going to the root, to be assimilated into a united whole, a good lesson for us in Hindustan to learn and profit by." লক্ষ লক্ষ ইহুদি নিধনের মধ্য দিয়ে জার্মানের জাতীয় গর্ব উৎকীর্ণ হয়েছে। হিন্দুস্থানের কাছে এক অনুপম শিক্ষা— অনুসরণ করলে ভারত উপকৃত হবে!

সংবিধানে মনুর ছায়া পড়েনি বলে আরএসএস প্রধান উক্ত প্রবন্ধে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করতে ভোলেননি: "Manu’s laws were written long before Lycurgus of Sparta or Solon of Persia. To this day laws as enunciated in the Manusmriti excite the admiration of the world and elicit spontaneous obedience and conformity. ...our constitutional pundits that means nothing." (অর্গানাইজ়ার, নভেম্বর ২৩, পৃ. ৩)।

দেশবাসীর কাছে গুরু গোলওয়ালকর এ বার নিজের লক্ষ্য তুলে ধরলেন, "...the non-Hindu people in Hindustan must either adopt the Hindu culture and language, must learn to respect and revere Hindu religion, must entertain no idea but the glorification of Hindu nation i.e. they must not only give up their attitude of intolerance and ingratitude towards this land and its age-long traditions, but must also cultivate the positive attitude of love and devotion instead; in one word, they must cease to be foreigners or may stay in the country wholly subordinated to the Hindu nation, claiming nothing, deserving no privileges, for less any preferential treatment, not even the citizen’s rights."

সমাজের যে স্তর থেকে ড. বি আর অম্বেডকরের উত্থান, তাঁর মেধা, অধ্যবসায়, দৃঢ়তা, নিরলস কর্মতৎপরতা ও পর্যাপ্ত জ্ঞান সম্পর্কে কারও মনে অণুমাত্র দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-সন্দেহ থাকলে ভারত তাঁকে কি সে দিন মুহূর্ত মাত্র মেনে নিত? না তাঁকে সেখানে পৌঁছতে দিত? তিনি সংবিধানে মনুর ছায়া পড়তে দেননি, বললে কি অতিশয়োক্তি হবে?

অতুলকৃষ্ণ বিশ্বাস  ভূতপূর্ব ভাইস চ্যান্সেলর, ড. বি আর অম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়, মুজফ্ফরপুর, বিহার

 

আরও রেকর্ড

‘দু’টি রেকর্ড’ চিঠিতে (১৬-৬) উচ্চ মাধ্যমিকের রেজ়াল্টে দু’টি রেকর্ডের কথা পড়লাম। সংবর্ধনা মঞ্চে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে, মেধাশীর্ষে থাকা ছাত্রছাত্রীদের কারও মায়ের বদলি সংক্রান্ত বেনজির আবদারটাও আরও একটি রেকর্ড।

দেবব্রত সেনগুপ্ত  কোন্নগর, হুগলি

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়