‘দুর্ঘটনার পরে রাস্তায় পড়ে শিশু, এগিয়ে এল না সাহায্যের হাত’ (২১-২) শীর্ষক খবরটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দিল্লির জনকপুরীর রাস্তায় দীর্ঘ সময় পড়ে ছিল ছয় বছরের শিশুটি। অথচ এই পুরো সময় ওকে বাঁচানোর জন্য তৎপর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করাতে কেউ ছুটে আসেনি। মৃত শিশুটির দিদা, যিনি নিজেও দুর্ঘটনায় সংজ্ঞাহীন হয়ে বহু ক্ষণ রাস্তায় পড়েছিলেন, অভিযোগ করেন, কেউ যদি সময়মতো তাঁর নাতনিকে হাসপাতালে নিয়ে যেত, তা হলে শিশুটি হয়তো প্রাণে বেঁচে যেত।
রাজধানী দিল্লির মতো মহানগরীতে, নিরাপত্তাবেষ্টিত জনকপুরীর মতো নামী এলাকার রাস্তায় সড়ক-দুর্ঘটনায় যখন এমন ভয়ানক ঘটনা ঘটে, তখন কেন পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসে কোনও সক্রিয় ভূমিকা নিল না? কেন গুরুতর আহতকে রক্ষার জন্য ট্র্যাফিক পুলিশের মাধ্যমে দ্রুত খবর সংগ্রহ করে তারা এর মোকাবিলা করতে পারল না? কার্যত এ সব জরুরি প্রশ্নে মূল ব্যর্থতা ও গাফিলতির দায়ভার সরাসরি পুলিশের উপরেই বর্তায়। তবে সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় এটাই যে, এমন দুর্ঘটনার পর স্রেফ রাস্তায় পড়ে থেকে দেশে এ ভাবে বেঘোরে বহু মানুষই মারা যান প্রতি বছর। কারণ, পুলিশের উটকো ঝামেলার আশঙ্কা ও হাসপাতালের বিভিন্ন খরচ ইত্যাদির ভয়ে সাধারণ মানুষ আহতদের সাহায্য করতে সচরাচর এগিয়ে আসেন না। দিল্লিতে সড়ক-দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে ফের সেটাই প্রমাণ করে দিল।
তবে সাম্প্রতিক এক খবরে জানা গিয়েছে, সড়ক-দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসার জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প চালু করতে চলেছে দিল্লি সরকার। নাম ‘রাহবীর’। এতে উদ্ধারকারীদের জন্য থাকবে ২৫০০০ হাজার টাকা, সঙ্গে একটি শংসাপত্র। সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সড়ক-দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ভারতে। মানবতার স্বার্থে এই কঠিনতর সামাজিক সমস্যার সমাধানে রাজ্য ও কেন্দ্র, উভয় সরকারেরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে সব রকম কার্যকর পন্থা অবিলম্বে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
পৃথ্বীশ মজুমদার, কোন্নগর, হুগলি
ভাতাবৃদ্ধি
দীর্ঘ দিন মৎস্য দফতরে চাকরি করার সূত্রে অনেক মৎস্যজীবী এবং মৎস্যচাষির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। অবসর গ্রহণ করার পর এখনও তাঁদের কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। বেশ কিছু দিন যাবৎ কয়েক জন বৃদ্ধ, অক্ষম মৎস্যজীবী অনুরোধ করেছেন, তাঁদের বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি আমি যেন সরকারের নজরে আনি। তাঁদের বক্তব্য, ২০১২ সালে মৎস্য দফতরের এই ভাতার পরিমাণ বেড়ে হয়েছিল মাসিক এক হাজার টাকা। কিন্তু তার পর চোদ্দো বছর কেটে গেলেও, এই প্রকল্পে আর কোনও টাকা বাড়ানো হয়নি। অথচ, সরকার সম্প্রতি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর অনুদান ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার কথা ঘোষণা করেছে। বর্তমান দৈনন্দিন বাজার দরের কথা মাথায় রাখলে এই যৎসামান্য টাকায় সংসার চালানো বেশ মুশকিল।
তাই তাঁদের অনুরোধ, অন্যান্য ভাতা প্রাপকের মতো এ বার মৎস্যজীবীদের ক্ষেত্রেও বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হোক। তেমনটা হলে এই অশীতিপর মানুষগুলির কিছুটা উপকার হয়। প্রশাসন বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে বাধিত হব।
সঞ্জয় কুমার মিশ্র, জেল রোড, মুর্শিদাবাদ
হয়রানি
আমার পরিচিত এক যুবক জন্মসূত্রে ভারতীয় হয়েও এসআইআর-এর হয়রানির শিকার। তার জন্ম চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু জন্মের শংসাপত্রে তার পিতা ও নিজের নাম বিভ্রাটের কারণে শংসাপত্রটি গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, যুবকটির জন্মের কয়েক মাস পরেই ওর বাবা-মা ওকে ফেলে অজানা কোথাও চলে গেছেন। শৈশব থেকে সে তার মাসির কাছে পালিত ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে বর্তমানে অসংগঠিত একটি সংস্থায় কর্মরত।
বয়সের কারণে স্বাভাবিক ভাবে তার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। এসআইআর শুনানিতে প্রামাণ্য নথি হিসেবে সে নিখোঁজ বাবার কোনও প্রমাণ দিতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্কুলের নথিপত্র দিয়েও ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাচ্ছে না। শুধুমাত্র বাবা-মায়ের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ও ছোট থেকে অন্য কোথাও বসবাস করার জন্য নিরপরাধ ছেলেটিকে অযথা ভুগতে হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে ওর নাম একেবারে বাদ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই রকম ক্ষেত্রগুলিতে কর্তৃপক্ষকে আরও মানবিক হওয়ার অনুরোধ জানাই।
সিদ্ধার্থ দত্তচৌধুরী, ভদ্রেশ্বর, হুগলি
শৌচাগার নেই
জোকা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ডায়মন্ড পার্কে রয়েছে কলকাতা পুরসভার অফিস। নানা কাজে বহু মানুষের এখানে আনাগোনা লেগেই থাকে। অথচ, অফিসে জনসাধারণের জন্য কোনও শৌচাগার নেই। ভিতরের শৌচাগারটি কেবলমাত্র অফিসের কর্মচারীদের জন্য। প্রবীণদের এর ফলে অসুবিধায় পড়তে হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রামপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা-১০৪
একাধিক সমস্যা
ব্যারাকপুর শহরের কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন অঞ্চলে রবীন্দ্রপল্লি একটি জনবহুল অঞ্চল। এই অঞ্চলটি স্থানীয় মোহনপুর পঞ্চায়েতের অধীনে পড়ে। এই পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্বতন হরিচরণ লালা প্রাথমিক স্কুল সংলগ্ন অঞ্চলে বহু বছর ধরে আবেদন করেও এখনও কোনও জলের সংযোগ পাওয়া যায়নি। পার্শ্ববর্তী কিছু জায়গায় মাঝে এক বার জলের পাইপ পোঁতা হয়েছিল কিন্তু এই অঞ্চলে সেটুকুও নেই। এ-দিকে ভূগর্ভস্থ জলের তলও নেমে যাওয়ায় এখানকার বাসিন্দাদের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে মাটির তলা থেকে জল তুলতে হচ্ছে। বর্তমানে এই পাড়ায় দু’টি-একটি করে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়িও তৈরি হয়েছে। সেগুলিতেও একই ভাবে জলের জোগান দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের পাম্প বসানোর সামর্থ্য নেই, তাঁরা জলের অভাবে খুবই কষ্ট পাচ্ছেন।
আর একটি বড় সমস্যা হল এখানে গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহ বা ফেলার কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রাথমিক স্কুলটির উত্তর দিকের একটি ব্যক্তি-মালিকানাধীন ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় লোকেরা বছরের পর বছর আবর্জনা ফেলে সেটিকে কার্যত আবর্জনা ফেলার মাঠে পরিণত করেছে। স্তূপীকৃত আবর্জনার দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা দায়। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে এক বার করে স্তূপীকৃত আবর্জনায় আগুন জ্বালাতে হচ্ছে। তাতে ব্যাপক ভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আবেদন, এই দুই সমস্যার আশু সমাধান করে এই পরিস্থিতি থেকে অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত মুক্তি দিন।
শুভঙ্কর পাল, কলকাতা-১২২
খোলা তার
শিয়ালদহ উড়ালপুলের নীচে অবস্থিত শিশির মার্কেটে স্থানীয় ও বহিরাগত— প্রতি দিন বহু মানুষের আনাগোনা চলে। অথচ, এই বাজারের আনাচে কানাচে, বিশেষত বিভিন্ন দোকানে ও প্যাসেজে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে থাকে মুখ খোলা বিদ্যুতের তার। কোনটিতে বিদ্যুৎ আছে, কোনটিতে নেই, তা কি সাধারণ মানুষের বোঝা সম্ভব? এগুলি ঠিক করার দায়িত্ব কার? পারস্পরিক দোষারোপ না করে এই বিপজ্জনক অবস্থার আশু সমাধান করাই অধিক কাম্য নয় কি?
জয়ন্ত ভট্টাচার্য, কলকাতা-১০৩
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)