Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু

নাটক দেখতে গিয়ে

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৪ ০০:৩৮

নাটক দেখতে গিয়ে

শনিবারের দুপুর অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস। নাটকের টিকিট জুটল ব্যালকনিতে। সেখানে কিছু আসন তখনও ফাঁকা ছিল হঠাৎ ঢুকলেন স্ফীত পেশি সমৃদ্ধ কয়েক জন নবযুগের দূত। তাঁদের প্রবেশ পত্র শোভিত ছিল না সম্ভবত। তবে পশ্চাতে শক্তপোক্ত গুঁড়ি ছিল নিশ্চয়। কাজেই টর্চধারী কর্মচারীকে সন্তুষ্ট করে আসনে বসে পড়লেন। বসার কায়দাটি আমার আশৈশব দেখা এই ঐতিহ্য মণ্ডিত প্রেক্ষাগৃহে অভিনব। তাঁরা আসনের পিছন থেকে লম্ফ দিয়ে রাজকীয় ভাবে আসন গ্রহণ করলেন। তবে হ্যাঁ, নাটকের গাম্ভীর্য তাঁদের বেশিক্ষণ আটকে রাখেনি। প্রথম অর্ধের পর ওই আসন ফাঁকা হয়ে যায়। যে সময়টুকু ছিলেন এই নয়া নাট্যমোদীরা, স্বমহিমাতেই ছিলেন। এ বার আসি অ্যাকাডেমির চঞ্চল দর্শকদের কথায়। কবি লিখেছিলেন, ‘আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত’। এঁদের কথা ভেবেই মনে হয় লিখেছিলেন। শনিবার কর্মস্থল থেকে অনেকেই সঠিক সময়ে এসে প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করতে পারেন না ঠিকই কিন্তু বাকিদের দেখেছি অকারণে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। নাটক শুরু হওয়ার পর প্রেক্ষাগৃহে ঢোকেন। তার পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রেও হল। মৃত্যু দৃশ্য দিয়ে নাটক শুরু। তারই মাঝখানে অন্ধকারে বলের মতো কালো কালো মাথা। কিন্তু আমরাও মেসি বা রোনাল্ডো নই। কাজেই তাদের ট্যাকল করতে না-পেরে নাকানি-চোবানি অবস্থা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চার পাঁচটি হোঁচট। শয়ে শয়ে টর্চের ঝলকানি এবং শেষ কালে প্রেক্ষাগৃহের কর্মচারীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্বিতণ্ডা। মুঘল রাজপুত্র নাটকে কটা যুদ্ধ করেছেন, সে গুনতি না-করে সকলে এই বাক্যুদ্ধেই মন দিলেন। ফলে, নাটকের অত্যন্ত করুণ একটি দৃশ্য দ্বিতীয় বার অভিনয় করতে গিয়ে এক বিশ্রী পরিস্থিতির অবতারণা হল। ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ সামলাতে ব্যালকনিতে ছুটে এলেন নাট্যদলের এক অসাধারণ অভিনেতা। সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন আসন-শ্রেণির পিছনে। তাঁকে ধন্যবাদ। অভিনেতাদের তাঁর কাছে দর্শক সামলানো শেখা উচিত। এমন রসিক পরিস্থিতির পরিসমাপ্তি রসহীন ভাবে হবে, তা হয় না। গরমের ঠেলায় কবি যতই লিখুন—‘নাই, রস নাই’। তিনি তো আর নাটক দেখতে অ্যাকাডেমিতে আসেননি। এলে টের পেতেন একটি প্লাস্টিকের প্যাকেটই যথেষ্ট। নাটকের যাবতীয় সংগীত, অনবদ্য ডায়লগ, অসাধারণ দৃশ্য ছাপিয়ে উঠল সেই রসিক বাদ্যযন্ত্রের কড়-কড়। এর সঙ্গে মোবাইল টুকটাক সুন্দর সহযোগিতা করল। কাজেই বৃদ্ধ শাহজাহান পুত্রশোকে কেমন হাহাকার করলেন, তেমন ভাবে টেরই পেলাম না।

সোনালি দত্ত। বেলুড় মঠ, হাওড়া

Advertisement

রাষ্ট্রপতি-কন্যার প্রতিবাদ

‘সারদা: অমিতের তোপের পাল্টা অধীরের’ (২১-৪) খবরটি পড়ে স্তম্ভিত হলাম। পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্রের সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কুৎসাসূচক যে অভিযোগ আপনারা ছেপেছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমার ভাই বা আমি, কেউই সারদা গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনও ভাবে বিন্দুমাত্র জড়িত নই। মদন মিত্র কিছুমাত্র তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এমন একটা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন, এটা অত্যন্ত বিসদৃশ এবং আপত্তিকর।

এটাও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে এই বিষয়ে আমার বাবা— যিনি একটি সাংবিধানিক পদে আসীন এবং যাঁর স্থান দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে— তাঁর নামও সম্পূর্ণ বিনা কারণে জড়ানো হয়েছে।

আমি দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, এমন মানহানিসূচক অভিযোগ প্রকাশ করে আপনারাও সেই অন্যায়ের শরিক হয়েছেন। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। নয়াদিল্লি

প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত

আনন্দবাজার পত্রিকার নববর্ষ ক্রোড়পত্রে (‘বাঙালি মানেই’, ১৫-৪) মহাশ্বেতা দেবীর ‘বাড়িভর্তি: বই’-এর প্রবন্ধে (পৃষ্ঠা ৮) অতুল গুপ্তর পৌত্র প্রতুলচন্দ্র গুপ্তর উল্লেখ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত অতুলচন্দ্র গুপ্তের পুত্র। প্রসঙ্গত, প্রতুলবাবুর বাড়িতে যে পুস্তক ভাণ্ডার ছিল তার এক বিরাট অংশই মরাঠা ইতিহাস ও সিপাহি বিদ্রোহ নিয়ে, যা তিনি এশিয়াটিক সোসাইটিকে দান করেন।

শৈলেন্দ্রনাথ সেন। কলকাতা-২

সংশোধন
অভিরূপ সরকারের লেখায় (‘গরিবের চাহিদা...’, ২২-০৪) বাবাসাহেব অম্বেডকরের জন্মদিন ১৪ জুলাই ছাপা হয়েছে। এটি হবে ১৪ এপ্রিল। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy