সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন-এর (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এরই মধ্যে পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি দেখার আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধি করল বোর্ড। ২৩ মে থেকে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে ২৪ মে করা হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক পড়ুয়াই পোর্টাল খুলতে পারছিলেন না, তাই এই আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে নম্বর যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য কোনও সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি। ২৬ মে থেকে ২৯ মে ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে পড়ুয়াদের। যদিও পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি দেখা নিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের তরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে গত কয়েক দিনে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি। এক পড়ুয়া অভিযোগ তোলেন, খাতার প্রতিলিপি অত্যন্ত ঝাপসা, নিজের হাতের লেখা বুঝতেই অসুবিধা হচ্ছে।
অন্য আর এক পড়ুয়ার অভিযোগ, গণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে ‘স্টেপ মার্কিং’-এর নম্বর দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ওএসএম পদ্ধতিতে নম্বর যাচাই করার ফলে স্টেপ মার্কিং দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ নম্বর যাচাই প্রক্রিয়াই সঠিক ভাবে হয়নি বলে অভিযোগ।
পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার দাবি, খাতা দেখার আবেদনের জন্য মূল্য কেটে নেওয়া হয়েছে, অথচ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে খাতাও দেখা যায়নি। বোর্ডের হেল্পলাইন বা টেলি-কাউন্সেলিং সার্ভিস থেকেও এই অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ দেখানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কোনও সঠিক সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুন:
যদিও এই সব অভিযোগই এক প্রকার নস্যাৎ করে দিয়েছে সিবিএসই বোর্ড। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, পরবর্তী বছর থেকে যেন আর অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাতা দেখা না হয়। তবে সূত্রের খবর, পরের বছরও একই পদ্ধতিতে খাতা দেখা হবে। এই বছর থেকে প্রথম চালু হয়েছে ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখা। আর প্রথম বছরই প্রায় ৯৮ লক্ষ খাতা ডিজিটালি স্ক্যান করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যার মধ্যে শুরুর দিকে প্রায় ৬৮ হাজার খাতায় স্ক্যানিং সংক্রান্ত সমস্যা দেখা গিয়েছিল। পরে যাচাই করার পর দেখা যায় আসল সমস্যা রয়েছে মাত্র ১৩ হাজার খাতায়।
জানা গিয়েছে, এই ১৩ হাজার খাতায় সমস্যার কারণ হিসাবে পড়ুয়াদেরই দায়ী করেছেন সিবিএসই কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানিয়েছে, হালকা কালির কলম ব্যবহার করার জন্যই এমন হয়েছে। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমের ছোট বা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনাকেও অনেক বড় করে দেখানো হচ্ছে বলে দাবি বোর্ডের। যদি কোনও পড়ুয়ার সত্যি নম্বর যাচাই নিয়ে সমস্যা থাকে তা হলে নম্বর যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে।
তবে, এর পরেও পোর্টালে টাকা জমা দেওয়ার সময় চরম অদ্ভুত ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। টাকা জমা দেওয়া পরিমাণ বার বার বদলে যাচ্ছে বলে দাবি। সূত্রের খবর, যান্ত্রিক ত্রুটি, খাতা দেখতে না পাওয়া-সহ একাধিক দাবি নিয়ে হর্ষ খারবান্দা নামক এক পড়ুয়ার অভিভাবক সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি লিখেছেন। খাতা দেখতে চাওয়ার আবেদনের সময় আরও ৭ থেকে ১০ দিন বৃদ্ধি করা ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা শোনা, হেল্পলাইনগুলিকে সচল করার দাবি জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।