এ বার মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মতোই একই পথে হাঁটবে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। এখন থেকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলে আরও কড়া পদক্ষেপ করবে বোর্ড।
গত ডিসেম্বরে আয়োজিত সিবিএসই-র পরিচালন সমিতি বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশ করেছে বোর্ড। সেখানে জানানো হয়েছে, এতদিন দশম বা দ্বাদশের পরীক্ষায় কোনও একটি বিষয়ে অসদুপায় অবলম্বনের জন্য পরীক্ষার্থীদের সেই বিষয়ের পরীক্ষাই শুধু বাতিল করা হত। তখন বোর্ডের নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরা ষষ্ঠ বা সপ্তম বিষয় অর্থাৎ অতিরিক্ত বিষয়ের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পেত। এ বার সেই নিয়মই বদল করা হল।
আরও পড়ুন:
মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের মতোই এ বার কোনও একটি বিষয়ের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলেই গোটা পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে সিবিএসই-র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কার্যবিবরণীতে সিবিএসই-র ব্যাখ্যা, বোর্ডের পুরনো নিয়মে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী অসাধু উপায় অবলম্বনের পরেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারত। তবে ২০২৬ সাল থেকেই এমন পরীক্ষার্থীদের অনুত্তীর্ণ বলে গণ্য করা হবে। তারা পরের বছর ‘কম্পার্টমেন্ট ক্যাটাগরি’ বিভাগে দশম বা দ্বাদশের চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে ওই বৈঠকে। জানানো হয়েছে, এ বার থেকে দু’বার দশম শ্রেণির পরীক্ষা হওয়ায় মার্কশিটে দু’টি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরই উল্লেখ করা হবে। পাশাপাশি, পরীক্ষার্থীর চূড়ান্ত ফলাফলও মার্কশিটে জানানো হবে। এ ছাড়া, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নবম এবং একাদশের পড়ুয়াদের আপার (অটোমেটেড পার্মানেন্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি) আইডি তৈরি করা বাধ্যতামূলক। পড়ুয়াদের শিক্ষাগত যোগ্যতার যাবতীয় তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করার জন্যই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সিবিএসই।
একইসঙ্গে, সিবিএসই-র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্কুলগুলি এখন থেকে নিজেরা নিজেদের মূল্যায়ন করে বোর্ডকে সেই তথ্য জানাতে পারবে না। ‘স্কুল কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাশিয়োরেন্স ফ্রেমওয়ার্ক’-এর অধীনে শিক্ষার মান, পরিচালন ব্যবস্থা, পরিকাঠামো, পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের মান-সহ বিভিন্ন মাপকে খতিয়ে দেখে হবে। তার ভিত্তিতে স্কুলগুলিকে এ+ থেকে সি— বিভিন্ন গ্রেড দেওয়া হবে।