Advertisement
E-Paper

সমাজসেবার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে পাঠ্য বিষয়েই! মিলবে কি উপযুক্ত রোজগারের দিশা?

সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজসেবা বিষয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার দিকগুলি চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি, সেই সমস্যা সমাধানের উপায়ও খোঁজার চেষ্টা করা হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪০
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

অন্যের প্রয়োজনে পাশে থাকতে পছন্দ করেন অনেকেই। তকমা জোটে পরোপকারী হিসাবে। সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ব্যক্তিগত স্তরে হোক বা কোনও সংস্থার অংশীদার হয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজ নিভৃতে চালিয়ে যান তাঁরা। সমাজসেবার এই ইচ্ছেকে বাস্তবায়িত করতে শিক্ষাক্ষেত্রে মূল ধারার পাঠক্রম হিসাবে সোশ্যাল ওয়ার্ক পড়ানো হয়। সেখানে আলোচনা করা হয় সমাজসেবার যাবতীয় খুঁটিনাটি। পড়াশোনা শেষে সুযোগ মেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরিরও।

সোশ্যাল ওয়ার্ক বিষয়টি কী?

সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজসেবা বিষয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার দিকগুলি চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি, সেই সমস্যা সমাধানের উপায়ও খোঁজার চেষ্টা করা হয়। কী ভাবে কোনও ব্যক্তি এবং সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা-ই পড়ানো হয় এই কোর্সে।

সমাজকর্মীদের দায়িত্ব

১) সমাজের কোন স্তরের মানুষ কী কী সমস্যায় ভুগছেন, তা চিহ্নিত করা।

২) সমস্যা সমাধানের জন্য সকলকে সচেতন করতে আউটরিচ প্রোগ্রাম বা প্রচার কর্মসূচি গড়ে তোলা।

৩) প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্যায় জর্জরিতদের তৎক্ষণাৎ সাহায্য করা।

৪) তাঁদের পুনর্বাসন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা করা।

৫) অন্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গড়ে তোলা এবং অনুদানের ব্যবস্থা করা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

আগ্রহীরা দ্বাদশের পর স্নাতকস্তরে সোশ্যাল ওয়ার্ক বিষয় নিয়ে পড়তে পারেন। দ্বাদশে ন্যূনতম ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকলেই পড়ুয়ারা বিএসডব্লিউ বা বিএ ইন সোশ্যাল ওয়ার্ক কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে কলেজগুলিতে ভর্তির জন্য প্রবেশিকার আয়োজন করা হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে কুয়েট ইউজি-র মতো প্রবেশিকার নম্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্নাতকের পর পড়ুয়ারা স্নাতকোত্তরও (এমএ ইন সোশ্যাল ওয়ার্ক বা এমএসডব্লিউ) করতে পারেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। সে ক্ষেত্রে স্নাতকে ন্যূনতম ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ নম্বর থাকা প্রয়োজন। স্নাতকত্তরে ভর্তির জন্যও অনেক সময় কুয়েট পিজি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হতে হয়। সুযোগ থাকে পিজি ডিপ্লোমা করারও। এর পর গবেষণার জন্য এমফিল বা পিএইচডি-র সুযোগ মেলে।

দেশে কোথায় পড়ানো হয়?

১) টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস, মুম্বই।

২) দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়।

৩) জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

৪) মাদ্রাজ স্কুল অফ সোশ্যাল ওয়ার্ক, চেন্নাই।

৫) বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়।

৬) বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

৭) আইআইএসডব্লিউবিএম, কলকাতা।

৮) সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ।

৯) কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়।

১০) উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

ইন্টার্নশিপ

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের আগে পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়ারা বিভিন্ন সংস্থায় ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন। এর মাধ্যমে বাস্তবে সমাজকর্মীদের কী ভাবে বা কেমন ধরনের কাজ করতে হয়, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।

চাকরির সুযোগ

১) সরকারি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, দফতর থেকে রাজ্য সরকারি দফতর, সরকারি সংস্থায় কাজের সুযোগ মেলে।

২) বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় সব সময়ই প্রয়োজন হয় সমাজকর্মীর।

৩) বেসরকারি সংস্থাগুলিতেও কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি, হিউম্যান রিসোর্স অথবা কমিউনিটি আউটরিচের কাজের সুযোগ থাকে।

৪) শিক্ষকতা বা গবেষণার সুযোগও থাকে।

Social Work social work course social work career
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy