Advertisement
E-Paper

বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন যাচাইয়ে কৃত্রিম মেধার ব্যবহার, পড়ুয়াদের মাথায় রাখতে হবে কয়েকটি বিধি

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের আবেদন খতিয়ে বাছাইয়ের কাজে কৃত্রিম মেধার সংযোজন হয়েছে। তাই আবেদনপত্র পাঠানোর সময় বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৮

ছবি: এআই।

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে বদলেছে পড়াশোনার ধরন। ডিগ্রি অর্জনের সঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধিতে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে সমান ভাবে। কিন্তু একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে প্রযুক্তির সংযোজনের কারণে বিদেশে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির আবেদনও নাকচ হতে পারে।

কী ভাবে ভর্তির আবেদন যাচাই করে কৃত্রিম মেধা?

  • সংবাদসংস্থাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম মেধার সাহায্যে পড়ুয়াদের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরের পরীক্ষা-সহ ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম (আইইএলটিএস), স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট-এর (স্যাট) স্কোর খতিয়ে দেখা হয়।
  • এ ছাড়াও আবেদন, অনুমোদনপত্র, কাজের অভিজ্ঞতার শংসাপত্রের নথিও যাচাই করে নেয় ওই প্রযুক্তি। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আবেদনকারীদের বিষয়ে একটি সার্বিক রিপোর্ট তৈরি করা হয়। যা যাচাই করেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের বিশেষজ্ঞেরা। তবে, বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র থেকে যোগ্যদের বাছাই করে নেওয়ার জন্য পুরোপুরি ভাবে কৃত্রিম মেধার উপর নির্ভর করেন না তাঁরা।
  • ব্রিটেনের ক্ষেত্রে আবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন খতিয়ে দেখার জন্য আলাদা একটি সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটিস অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিশন সার্ভিস-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদন খতিয়ে দেখা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর ২৫ লক্ষ আবেদন বাছাই করা হয়ে থাকে। সেই আবেদনে অন্য কোনও নথি থেকে তথ্য ‘চুরি’ করা হয়েছে কিনা, তাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করে নেয় ওই মাধ্যম।
  • সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্টস ভিসা খতিয়ে দেখার জন্য কৃত্রিম মেধা চালিত বিশেষ মাধ্যম ব্যবহার করার কাজ শুরু হয়েছে। যাতে কোনও দেশ থেকে আসা পড়ুয়ারা অসৎ উদ্দেশ্যে ওই দেশের ভিসা ব্যবহার করতে না পারে। ‘সিম্পলিফাইড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক’-এর (এসএসভিএফ) অধীনে আবেদনপত্রের সঙ্গে দেওয়া নথি খতিয়ে দেখার নিয়ম আরও কঠিন হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, আবেদনকারীর ইতিহাস, ব্যাঙ্কের নথি-সহ আরও বেশ কিছু নথি বর্তমানে জমা দিতে হয়। কৃত্রিম মেধা সবুজ সঙ্কেত দিলে তবেই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

তাই বিদেশে পড়তে আগ্রহী পড়ুয়াদের বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

১। পড়ুয়াদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং আনুষঙ্গিক নথি জমা দিতে হবে। কোনও তথ্যের সাপেক্ষে সঠিক নথি না থাকলে তা আবেদনে উল্লেখ করা যাবে না।

২। অনুমোদনপত্র, স্টেটমেন্ট অফ পারপাস-এর (এসওপি) লেখা নিজেকেই লিখতে হবে। দক্ষতা বা মেধার সাপেক্ষে প্রমাণপত্র জমা দিতে না পারলে, সেই বিষয়টি এসওপি-তে উল্লেখ করা যাবে না। অন্যথায় আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

৩। অনলাইনে শংসাপত্র অর্জন করেছেন কিংবা রিসার্চের পোর্টফোলিও তৈরি করেছেন— এমন বিষয় আবেদনে উল্লেখ করা যেতে পারে। এতে কৃত্রিম মেধার মাধ্যমে নথি যাচাই পদ্ধতিতে এগিয়ে থাকার সুযোগ মিলবে।

৪। এসওপি-তে প্রার্থীদের কোন কোন বিষয় নিয়ে পড়েছেন, পড়াশোনার বাইরে আর কী কী বিষয় নিয়ে আগ্রহ রয়েছে— এই সমস্ত বক্তব্য সহজ এবং স্পষ্ট ভাষায় লেখা প্রয়োজন। জটিল ভাষায় নিজের বক্তব্য লিখে পেশ করলে যন্ত্রের কাছে তা বোধগম্য না-ও হতে পারে। এতে আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

এ ছাড়াও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, কিংবা শিক্ষা বিভাগের বিধি নিয়মিত ভাবে নজরে রাখতে হবে। যাতে আবেদনের সময় কোনও নিয়ম অজানা না থেকে যায়।

Abroad Education Student Visa Rules Foreign Students
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy