প্রতি বছর হাজার হাজার পড়ুয়া আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড-সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তের দেশে পাড়ি দেন, উচ্চশিক্ষার জন্য। এ জন্য থাকে দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা। যদিও সে সব পরিকল্পনার মাঝেই হানা দেয় মন্দা, মুদ্রাস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
২০২৬-এ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন, এ কথা বললে অত্যুক্তি হয় না। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার (আইএনআর) মূল্য ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী (বুধবার সন্ধ্যা) প্রতি ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৬.৯০ টাকা। এটিই রেকর্ড পতন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতির মতো অর্থনৈতিক কারণে ভারতীয় মুদ্রার দরের এই পতন ঘটছে।
এর ফলে ভারতীয় মুদ্রার (রুপি) দর ইউরো, পাউন্ড, কানাডিয়ান ডলার-এর তুলনায় দুর্বল হচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদেশে পড়াশোনার খরচ। পতনোন্মুখ ভারতীয় মুদ্রার দর আগামী দিনে আরও পড়লে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন পড়ুয়ারা। তাই এখনই বেশ কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
গন্তব্য নির্বাচন
অধিকাংশ ভারতীয় পড়ুয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকাকেই প্রথম পছন্দ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার বদলে অন্য কোনও দেশ বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে ভারতীয় মুদ্রার দর তত কম নয়।
হিসাব বলছে, জার্মানি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের খরচ সাশ্রয়ী। পাশাপাশি নিউজ়িল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলিতেও বর্তমানে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ থাকে। পরিস্থিতি বিচার করে গন্তব্য নির্বাচন করাই ভাল।
শিক্ষার ঋণের ধরন
ভারতীয় মুদ্রার মূল্য কমলে শিক্ষা ঋণের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। ধরা যায়, বিদেশে যাওয়ার সময় যদি কোনও পড়ুয়া এক ডলার সমান ৮৫ রুপির ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে থাকেন, বর্তমান সময়ে তা ৯৬ টাকার উপর পৌঁছেছে। সে ক্ষেত্রে পরিশোধ কিস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে অনেকখানি। তাই বিদেশি মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করে নেওয়া প্রয়োজন। না হলে ভারতীয় মুদ্রায় ঋণ করাই নিরাপদ। ভারতীয় মুদ্রায় ঋণ নিলে মূল্য যতই কমে যাক না কেন, পরিশোধ কিস্তির পরিমাণে বাড়-বৃদ্ধি হবে না।
আরও পড়ুন:
থাকা-খাওয়া খরচ ও স্বল্প সময়ের চাকরির সম্ভবনা
বিদেশের বড় শহরগুলিতে সাধারণত বসবাসের খরচ আকাশছোঁয়া। তার উপর রয়েছে খাওয়ার খরচ। তাই যদি দেখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করা যায় কি না। তাতে খানিক সুরাহা হবে। না হলে, কয়েক জন পরিচিতের সঙ্গে বাড়ি ভাগ করে ভাড়া নেওয়া যেতে পারে। নিজেরা রান্না করে খাবার খেলেও খরচ কম হয়।
পাশাপাশি, বিদেশের নিয়ম মেনে পড়াশোনার সঙ্গে আংশিক সময়ের কাজের খোঁজ করা যেতে পারে। এ জন্য প্রথমেই দেখে নিতে হবে, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় সেই অনুমতি দিচ্ছে কি না। স্থানীয় মুদ্রায় আয় করতে পারলে থাকা-খাওয়ার জন্য শিক্ষা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
স্কলারশিপ
ভারত সরকারের ‘ন্যাশনাল ওভারসিজ় স্কলারশিপ’ বা বিভিন্ন গ্লোবাল ট্রাস্টের স্কলারশিপ আবেদন করার জন্য অন্তত এক বছর আগে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে যদি অনেক আগে থেকেই থাকে তা হলে স্কলারশিপের খোঁজও আগে থেকেই শুরু করে দেওয়া প্রয়োজন।
সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোন দেশে পাড়ি দিতে চাইছেন এবং কী নিয়ে পড়বেন। চিকিৎসাবিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং, এমবিএ-এর মতো সব কোর্সের খরচ সমান নয়। একই ভাবে ডিগ্রি এবং ডিপ্লোমা কোর্সের খরচও আলাদা। তাই কোন দেশে কী পড়তে যাবেন এবং কত বছরের কোর্স করবেন, পরবর্তীতে পেশাগত দিক কী কী খোলা রয়েছে— সেই সব দিক ভাল ভাবে জেনে বুঝেই এগোনো ভাল।