দুধ না খেলে হবে না ভাল ছেলে! না কি, পুষ্টির জোগান পূরণ কমবে ডিম না পেলে? প্রশ্নটা নতুন করে মাথা তুলেছে। নব্বই দশকে সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার প্রচার চালানো হত, লেখা হয়েছিল স্লোগান, ‘সানডে হো ইয়া মনডে— রোজ় খাও আন্ডে’ (রবি হোক বা সোম ডিম খাও রোজ)। তিন দশক পর ডিমের পুষ্টি আদৌ অপরিহার্য কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমাজমাধ্যমে হৈ চৈ। কিন্তু উত্তরটা দেবেন কে?
সচেতন মানুষ জানেন, এ উত্তর একমাত্র দিতে পারেন একজন পুষ্টিবিদ। কোনও মানুষের শরীরের গ়ড়ন-পিটন অনুযায়ী তাঁর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আর সেই কাজটিই পেশাদারিত্বের সঙ্গে করে থাকেন পুষ্টিবিদ।
কোন খাবারে কী উপকার, শরীরের ভর অনুযায়ী কাকে খেতে হবে কোন খাবার, কেমন পরিমাপে— সে সব পরামর্শই দেন পুষ্টিবিদ। কী ভাবে একজন পেশাদার পুষ্টিবিদ হওয়া যায়— রইল বিস্তারিত।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
পুষ্টিবিদ্যা বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য কোনও স্বীকৃত বোর্ড থেকে বিজ্ঞান শাখায় দ্বাদশ উত্তীর্ণ হতে হবে। সে ক্ষেত্রে পাঠ্যে জীববিদ্যা ও রসায়ন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কলেজেই ভর্তির সময় দ্বাদশে রসায়ন ছিল কি না, দেখা হয়। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে।
বেশ কিছু কলেজে স্নাতকে পুষ্টিবিদ্যা পড়ার জন্য দ্বাদশে বায়োসায়েন্স, বায়োলজি, পদার্থবিদ্যা এবং পুষ্টিবিদ্যাকে মান্য ধরা হয়।
কোন কোন কোর্স পড়া যায়?
নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্স, ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন এবং হোম সায়েন্স (এ ক্ষেত্রে নিউট্রিশনে স্পেশ্যালাইজ়েশন থাকা জরুরি) নিয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করা যায়। এর পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমএসসি-র পর পিএইচডিও অর্জন করতে পারেন পড়ুয়ারা। এ ছাড়া, পুষ্টিবিদ্যায় এক বছরের পিজি ডিপ্লোমা কোর্সও করতে পারেন পড়ুয়ারা। স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি-র ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা পুষ্টিবিদ্যায় নিউট্রিশন ও ডায়েটেটিক্স, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন, ফুড সায়েন্স এন্ড নিউট্রিশন, পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন, স্পোর্টস নিউট্রিশন, পেডিয়াট্রিক্স নিউট্রিশন-এই সমস্ত বিষয়গুলিতে স্পেশ্যালাইজ়েশন করা যায়। যা পরবর্তীকালে এই ক্ষেত্রগুলিতে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
রাজ্যের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়?
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেল্থ, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়-সহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেই পড়ানো হয় এই বিষয়টি।
মূলত কোন কোন কাজ করতে হয়?
১। পাবলিক হেলথ নিউট্রিশনিস্টরা সামগ্রিক ভাবে জনসাধারণের খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিয়ে কী করে তাদের জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো যায়, সে বিষয়ে কাজ করেন।
২। পেডিয়াট্রিক নিউট্রিশনিস্টরা শিশুদের রোগমুক্তি ও তাদের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সুষম খাদ্যাভাসের দিকটিতে নজর দেন।
৩। স্পোর্টস নিউট্রিশনিস্টরা খেলোয়াড়দের শরীর সুস্থ রাখার উদ্দেশ্যে কাজ করেন।
৪। ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্টরা সাধারণত চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করে রোগীদের পুষ্টির বিষয়টির উপর নজর রাখেন, যাতে তাঁদের দ্রুত রোগমুক্তি ঘটে।
এই চারটি ভাগে মুলত কাজ করতে হয় পুষ্টিবিদ্দের। তবে এই বিভাগগুলির ছাড়াও আরও নানা ধরনের চাকরি ও স্বাধীন ভাবে কাজের সুযোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, বহুজাতিক সংস্থা, স্কুল, নিজস্ব ক্লিনিক, ফিটনেস সেন্টার, ডায়াবেটিক ক্লিনিক ইত্যাদি জায়গায় চাকরির সুযোগ মেলে।