Advertisement
E-Paper

ইরান-যুদ্ধের আঁচ কি পড়বে রাজ্যের স্কুলগুলিতেও! অপ্রতুল রান্নার গ্যাস ভাবাচ্ছে মিড-ডে মিল নিয়ে

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে অন্তর্গত কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের শিক্ষকেরা এ দিন বেরিয়েছিলেন জ্বালানীর সন্ধানে। কাঠের দোকান থেকে সুরাহা না হওয়ায় জঙ্গল থেকেই গাছ কেটে আনার চেষ্টা করেন তাঁরা। কোথাও আবার বিডিও অফিসে দ্বারস্থ হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ২১:০৯
যুদ্ধের আঁচ মিড ডে মিলে !

যুদ্ধের আঁচ মিড ডে মিলে ! ছবি: সংগৃহীত।

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে রান্নার গ্যাস নিয়ে এ দেশে শুরু হয়েছে উদ্বেগের পরিবেশ। এই অবস্থায় স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কর্তৃপক্ষ।

পর্যাপ্ত গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়া গেলে রান্না হবে কী করে? মঙ্গলবার থেকেই এ বিষয়ে নানা জায়গায় সমস্যার ছবি উঠে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে অন্তর্গত কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের শিক্ষকেরা এ দিন বেরিয়েছিলেন জ্বালানীর সন্ধানে। কাঠের দোকান থেকে সুরাহা না হওয়ায় জঙ্গল থেকেই গাছ কেটে আনার চেষ্টা করেন তাঁরা। কোথাও আবার বিডিও অফিসে দ্বারস্থ হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

রাজ্য সরকারের মিড-ডি মিল-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক বলেন, “ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল থেকে এই সমস্যা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু সমস্যা হওয়ার কথা নয়। স্কুল কলেজকে গ্যাস বণ্টনের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের তালিকায় রাখার হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। মঙ্গলবার মথুরাপুরের ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতি জানান, তাঁদের স্কুলে প্রায় ২২০০ পড়ুয়া। প্রতিদিন অন্তত ১৫০০ পড়ুয়ার জন্য মিড-ডে মিল রান্না হয়। তিনি বলেন, “সে প্রতিদিন প্রায় দেড়খানা সিলিন্ডার ফুরিয়ে যায়। গ্যাসের জোগান না থাকলে কী ভাবে খাবার দেওয়া হবে পড়ুয়াদের?” প্রধানশিক্ষক দাবি করেছেন, গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী সংস্থার তরফে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এর পর থেকে আর সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না। সে কারণেই বিকল্পের পথে হেঁটেছিলেন তাঁরা। তিনি বলেন, “কাঠের দোকানে এখন আর জ্বালানী পাওয়া যায় না। তা ছাড়া, ছোটদের আমরাই শেখাই গাছ না কাটার কথা। কী করে গাছ কেটে রান্না করব আমরা?”

পরিস্থিতি প্রায় একই বাঁকুড়ার খ্রিশ্চান কলেজিয়েট স্কুলের প্রধানশিক্ষক কামাক্ষা বিশ্বাস বলেন, “আপাতত সমস্যা হবে না বলে জানানো হয়েছে। আমাদের স্কুলে ২টি করে সিলিন্ডার লাগে প্রতি তিন দিনে। তার জোগান না পেলে রান্না করা যাবে না। ফলে উদ্বেগ তো রয়েছেই।”

নদিয়ার বড়জাগুলি গোপাল অ্যাকাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক রাজকুমার হাজরা বলেন, “আমাদের বাড়তি গ্যাস মজুত নেই। মঙ্গলবার রান্না হয়েছে। বুধবারের জন্য আর সিলিন্ডার নেই। সরবরাহকারীদের তরফে আমাদের অবশ্য মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যদি গ্যাসের সরবরাহ থাকে তা হলে পাওয়া যাবে।” তাঁরা ইতিমধ্যে বিষয়টি বিডিও অফিসে জানিয়ে রেখেছি। প্রায় ৭০০ পড়ুয়া মিড ডে মিল খেয়ে থাকে ওই স্কুলে।

বাগুইআটির অন্নদাসুন্দরী হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের তরফে জানা গিয়েছে, তাঁদেরও সরবরাহকারী সংস্থা আশ্বাস দিয়েছে, আগামী দিনেও গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাবে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধানশিক্ষক তাপসকুমার বিশ্বাসও সে কথাই জানিয়েছেন। কলকাতার অন্য স্কুলগুলির মতো যাদবপুর বিদ্যাপীঠের মিড-ডে মিলের খাবার কমিউনিটি কিচেন থেকে আসে। তাই আপাতত কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানশিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য।

কিন্তু আশঙ্কার কালো মেঘ কাটছে না। ইতিমধ্যেই হুগলি জেলাশাসক দফতরের মিড-ডে মিল বিভাগ থেকে স্কুল শিক্ষা দফতরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত গ্যাস সিলিন্ডারে অভাবে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা আশঙ্কাজনক ভাবে ব্যাহত হতে পারে।

মিড ডি মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্তা অবশ্য বলেন, “কোন কোন জেলায় এই সমস্যা হচ্ছে তা জেনে পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলা হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে অন্তর্গত কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের শিক্ষকেরা এ দিন বেরিয়েছিলেন জ্বালানীর সন্ধানে। কাঠের দোকান থেকে সুরাহা না হওয়ায় জঙ্গল থেকেই গাছ কেটে আনার চেষ্টা করেন তাঁরা। কোথাও আবার বিডিও অফিসে দ্বারস্থ হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

school War gas
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy