গাজায় স্থলপথে অভিযান শুরু করল ইজরায়েল। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ২৩ জন প্যালেস্তিনীয়ের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মারা গিয়েছেন ২৬৭ জন প্যালেস্তিনীয়। এ দিন মারা গিয়েছেন এক জন ইজরায়েলি সেনাও।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের আবেদনে সাড়া দিয়ে বিবদমান দু’পক্ষ পাঁচ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি পালন করে। এর মধ্যেই মিশর থেকে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসে। কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে সময়সীমা পার হতেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। হামাস রকেট হামলা চালাতে থাকে। জবাবে ইজরায়েল প্রবল বিমান হানা চালায়। একই সময়ে নৌসেনা এবং স্থলসেনাও গোলাবর্ষণ করে। তার পরে শুরু হয় স্থলপথে অভিযান। এরই মধ্যে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে শুরু করেছেন অসংখ্য প্যালেস্তিনীয়।
ইজরায়েলি সেনা সূত্রে খবর, খুব নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে স্থলসেনা গাজায় প্রবেশ করেছে। মূলত হামাসের তৈরি করা সুড়ঙ্গগুলি ধ্বংস করা হবে। তবে প্রয়োজনে স্থলসেনা দীর্ঘ অভিযানও চালাতে পারে বলে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানেয়াহু হুমকি দিয়েছেন। সুড়ঙ্গগুলি ধ্বংস করতে বিমান হানাই যথেষ্ট নয় বলে নেতানেয়াহু জানিয়েছেন। তাই এই অভিযান। অভিযানের জন্য রিজার্ভে থাকা আরও ১৮ হাজার সেনাকে ডাক দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই অভিযানে ৬৫ হাজার ইজরায়েলি সেনা অংশ নিচ্ছে।
যদিও ইজরায়েলের এই স্থলসেনা অভিযানে সুফল মিলবে না বলে হামাস হুমকি দিয়েছে। ইজরায়েলি সেনা গাজায় প্রবল বাধার সামনে পড়বে বলে হামাসের দাবি। তারা জানিয়েছে, গাজার বেইট হানোউন শহরে ঢোকার সময়ে ইজরায়েলি সেনার গতি রোধ করা গিয়েছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন ইজরায়েলি সেনা আহত হয়েছে বলে হামাসের দাবি। ইজরায়েলি সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি রকেট লঞ্চারও আছে।
তবে, যুদ্ববিরতির চেষ্টা এখনও চলছে বলে জানা গিয়েছে। প্যালেস্তিনীয় প্রেসিডেন্ট ফতাহ দলের মাহমুদ আব্বাস কায়রোও আছেন। মার্কিন বিদেশ সচিব জন কেরিও মধ্যপ্রাচ্য আসছেন। জর্ডনও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছে। এ দিকে, গাজায় নাগরিক পরিষেবা ও অর্থ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এমনকী, হামাসও তাদের কর্মীদের বেশ কয়েক মাস মাইনে দিতে পারেনি বলে খবর। তাই শান্তি প্রস্তাব মানার শর্ত হিসেবে হামাস বার বার রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে।