×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement
Powered By
Co-Powered by
Co-Sponsors

Bengal polls: নাগরিক পরিষেবা দিতে পারবেন, ঐশীকে প্রশ্ন

নীলোৎপল রায়চৌধুরী
জামুড়িয়া ০৬ এপ্রিল ২০২১ ০৭:০২
প্রচারে ঐশী ঘোষ।

প্রচারে ঐশী ঘোষ।
ছবি: ওমপ্রকাশ সিংহ

কেউ জানতে চাইছেন, ‘‘জলসঙ্কট মেটাতে পারবে তুমি?’’ কারও প্রশ্ন, ‘‘রাস্তা-নর্দমা তো বেহাল। ঠিক হবে?’’ অনেকে আবার প্রার্থীর থেকে ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থায় প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের টাকা আদায়ের আশ্বাসও চাইছেন।

প্রচারে বেরনো জামুড়িয়া কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী ঐশী ঘোষের কাছে অভিযোগের ঝাঁপি উল্টে দিচ্ছেন সাধারণ ভোটারেরা। পাশাপাশি, বিধায়ক হয়ে সে সব সমস্যার সমাধান তিনি করতে পারবেন কিনা, সে প্রশ্নও করছেন তাঁরা। সোমবার সকালে চুরুলিয়া পঞ্চায়েতের চিচুরবিল গ্রাম থেকে প্রচার শুরু করেন ঐশী। তার পরে তালডাঙা, দেশেরমহান, জয়নগর হয়ে পিয়ালডাঙায় প্রচার সারেন।

চিচুরবিলে প্রচারে গিয়ে রাস্তা নিয়ে অভিযোগ শোনেন ঐশী। প্রার্থীর কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১১-র পরে রাস্তার সংস্কার হয়নি। দেশেরমহানে প্রচারে গেলে তাঁর কাছে জলকষ্টের কথা তুলে ধরেন বাসিন্দারা। জয়নগরে প্রচারে গিয়ে ঐশীকে শুনতে হয়, গ্রামে ঢোকার মুখে দেড় কিলোমিটার রাস্তার হাল খুবই খারাপ। পরিস্রুত জলের ব্যবস্থা নেই। অভিযোগ ওঠে, শখানেক পরিবারের থেকে টাকা নিয়েও শৌচাগার গড়ে দেওয়া হয়নি। পিয়ালডাঙাতেও জলের সমস্যার কথা তোলেন গ্রামবাসীর একাংশ।

Advertisement

গোবিন্দপুরের প্রচারে ঢুকতেই সেখানকার বাসিন্দারা সিপিএম প্রার্থীকে জানান, গ্রামে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর পাইপ পাতলেও, জল আসেনি। গ্রাম লাগোয়া অজয় নদের জল শুকিয়ে গিয়েছে। অবৈজ্ঞানিক ভাবে বালি উত্তোলন হওয়ায় এখন বালি খুঁড়েও জল মিলছে না।

ঐশী বলেন, ‘‘বিধানসভার বেশির ভাগ জায়গাতেই জল সমস্যার কথা শুনতে হচ্ছে। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গও উঠছে। চিচুরিয়া পঞ্চায়েতের ডাঙালপাড়ায় তাঁর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে, ৫০ জনের বেশি বাসিন্দা একটি অর্থলগ্নি সংস্থায়
টাকা খুইয়েছেন।’’ সঙ্গে যোগ করেন,
‘‘জয়ী হলে সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দেব।’’

এ দিন জামু়ড়িয়ার যে অঞ্চলে ঐশী প্রচার করেন, সেটি ‘সন্ত্রাসদীর্ণ’ বলে অভিযোগ সিপিএমের। ঐশীও বলেন, ‘‘সর্বত্র সন্ত্রাস হয়েছে। তার জেরে, ইচ্ছা থাকলেও অনেকে সাহস করে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। আমরা ওঁদের অভয় দিতে চাই।’’ সেখানে কয়েকটি পথসভা করেন তিনি। নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে সন্ত্রাসের রাজনীতি করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। এখনও সন্ত্রাস করে টিকে থাকতে চাইছে। মীনাক্ষীদি (নন্দীগ্রামের সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়) শিখিয়েছেন, কী ভাবে লড়াই করতে হয়।’’ সঙ্গে সংযোজন, ‘‘গায়ে হাত তুললে লড়াই হবে। ভয় পাবেন না। আমাদের জানাবেন। আমরা চাই, আপনারা নিজের ভোট নিজে দিন।”

নাগরিক পরিষেবা না পাওয়া বা সন্ত্রাস— সিপিএম প্রার্থীর কোনও অভিযোগকেই গুরুত্ব দিতে নারাজ জামুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংহ। তাঁর দাবি, ‘‘বাম-বিজেপি সবাই দিশাহারা। আমাদের জয় নিশ্চিত।’’ আর বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের দাবি, ‘‘বামেরা অনেক আগেই অস্তিত্ব হারিয়েছে। একই ভাবে তৃণমূলেরও জায়গা হবে ইতিহাসের পাতায়।’’

Advertisement