প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব কমেনি। উড়োজাহাজ আবিষ্কারের পর থেকে ক্রমশই যাত্রী পরিবহণে কমেছে জাহাজের কদর। কিন্তু দেশ-বিদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আজও নির্ভরশীল সমুদ্রবন্দরের উপরই। প্রাচীনকাল থেকেই সমুদ্রপথে পণ্য আমদানি ও রফতানি করা হয়। সমুদ্র বন্দরে কী ভাবে ঢুকবে আমদানি জাহাজ, কী ভাবে বেরোবে রফতানি জাহাজ, তার নির্দেশ দিয়ে থাকেন ডক পাইলট বা পোতশ্রয় পরিচালক। মূলত তাঁর ইঙ্গিতেই জাহাজ আসে-যায়।
ডক পাইলটদের কাজ—
পণ্য আমদানি রফতানির সময় বিশাল জাহাজকে কী ভাবে নিরাপদে সমুদ্র থেকে সরু জলপথ দিয়ে জেটি বা ডকে নিয়ে আসতে হয়, তা দেখাশোনা করেন তাঁরা। একই ভাবে সরু জলপথ পেরিয়ে জেটি থেকে সমুদ্রে জাহাজ বের করার কাজও তাঁদের।
১। নিরাপদে জাহাজ পরিচালনা করা- সমুদ্রের জলপথে এবং বন্দরের মোহনায় জলের গভীরতা এক নয়। এই বালুচর অংশে থাকে লুকোন পাথর, জলের গভীরতাও সর্বত্র সমান নয়। তাই জলস্রোত, জোয়ার-ভাটা সম্পর্কিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জাহাজ পরিচালনার কাজ করতে হয় তাঁদের।
২। পথ নির্দেশনা- বন্দর সীমানায় জাহাজ প্রবেশের সময় কেমন গতি থাকবে, কোন পথে চালাতে হবে, তার নির্দেশ জাহাজের ক্যাপ্টেনকে দেন ডক পাইলটই।
৩। টাগবোটের সমন্বয়- বিশালাকার জাহাজকে শক্তিশালী ছোট ছোট টাগবোট ব্যবহার করে ডকে ঢোকানো হয়। পাইলট রেডিয়োর মাধ্যমে এই টাগবোট ব্যবহার করে কী করে ডকে প্রবেশ করাতে হবে, তার পরামর্শ দেন ডক পাইলট।
৪। বার্থিং বা ডকে ঢোকানো- ডকের সঙ্গে একটি বিশাল জাহাজকে লাগানোর কাজটি কঠিন। পাইলট তার নিখুঁত হিসাবের মাধ্যমে জাহাজটিকে জেটিতে নোঙর বাঁধতে সাহায্য করেন।
আরও পড়ুন:
কোন যোগ্যতা প্রয়োজন?
সরাসরি এই পদে নিয়োগের সুযোগ মেলে না। এ জন্য দীর্ঘ পেশাদারি অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। মূলত মার্চেন্ট নেভি-র উচ্চপদাধিকারিকেরাই এই পেশায় আসতে পারেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা—
দ্বাদশে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিত নিয়ে পড়াশোনা করে বিএসসি ইন নটিক্যাল সায়েন্স বা সমতুল কোর্স করে মার্চেন্ট নেভিতে কেরিয়ার শুরু করতে হয়।
পেশাগত অভিজ্ঞতা—
সাধারণত সমুদ্রগামী জাহাজে চার পাঁচ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয় ডক পাইলট হিসাবে কাজ শুরু করার জন্য। এর মধ্যে মাস্টার বা চিফ অফিসার পদে এক বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকাও জরুরি।
শংসাপত্র—
পরবর্তী ধাপে কেন্দ্রের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং প্রদত্ত মাস্টার মেরিনার ফরেন গোয়িং (এফজি) বা ফার্স্ট মেট এফজি সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
বয়স—
ডক পাইলট পদে কাজের জন্য বয়স হতে হবে ৫৫ বছরের মধ্যে। শিক্ষানবিশ ডক পাইলটদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ৪০ বছরের মধ্যে।
শারীরিক সক্ষমতা—
প্রার্থীদের দৃষ্টিশক্তি এবং শারীরিক সক্ষমতা খতিয়ে দেখে নেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। তাঁর দেওয়া শংসাপত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কেমন হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া?
সব যোগ্যতা থাকলে, লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রার্থীর পথনির্দেশনার জ্ঞান এবং জাহাজ পরিচালনার দক্ষতা যাচাই করা হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট পোর্টের জলপথ চেনার জন্য ছ’ মাস থেকে এক বছরের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষা দিয়ে ওই নির্দিষ্ট পোর্টের জন্য ‘পাইলটেজ লাইসেন্স’ অর্জন করতে হয়।
কাজের সুযোগ—
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে জওহরলাল নেহেরু বন্দর বা বিশাখাপত্তনম বন্দর, দেশের বিভিন্ন বন্দরে কাজের সুযোগ রয়েছে।
বেতন—
নিযুক্তদের বেতন বছরে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বেশি হতে পারে।