অডিয়ো শোনা বা ভিডিয়ো দেখার সময়ে অনেকেই সব কথা খেয়াল করেন না। দীর্ঘক্ষণ মিটিং, সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা, পডকাস্ট শুনতে বা দেখতে গিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন বহু মানুষ। সেই সমস্যার হাত থেকে রেহাই মেলার জন্য সাহায্য নেওয়া হয় ট্রান্সক্রিপশন-এর।
ট্রান্সক্রিপশন কী?
যে কোনও অডিয়ো বা ভিডিয়ো কথা শুনে, বয়ান লিখিত আকারে প্রকাশ করার কাজকেই ট্রান্সক্রিপশন বলে। লিখিত আকারে রূপান্তরের সময় কোনও ভাবেই ভাষ্যের অদলবদল করা হয় না। যে ভাষাতে অডিয়ো বা ভিডিয়ো শোনা যায়, সেই ভাষাতে, সেই বক্তব্যেরই লিখিত রূপ দেওয়া হয় ট্রান্সক্রিপশনে। যাঁরা এই কাজ করেন, তাঁদের ট্রান্সক্রাইবার বলা হয়।
ট্রান্সলেশন এবং ট্রান্সক্রিপশনের ফারাক কী?
ট্রান্সলেশন বা অনুবাদের ক্ষেত্রে মূল ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করতে হয় লেখা বা ভাষ্যকে। অন্য দিকে, ট্রান্সক্রিপশন বা প্রতিলিপি তৈরির ক্ষেত্রে একটি ভাষাতেই লেখ্য রূপ তৈরি করতে হয়।
আরও পড়ুন:
কেন প্রয়োজন ট্রান্সক্রিপশন?
যে কোনও বৈঠক বা লেকচারের বক্তব্য ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। সে জন্য আলোচিত বিষয় লিখিত আকারে সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজন। অনেক সময় কোনও গবেষণার কাজেও সেই লিখিত প্রতিলিপির সাহায্য নেওয়া যায়। এ ছাড়া, যাঁরা কানে শুনতে পান না, তাঁরাও প্রতিলিপির সাহায্য নিয়ে পড়াশোনা, গবেষণা বা কর্মক্ষেত্রে নানা কাজ করতে পারেন।
কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রান্সক্রিপশন প্রয়োজন?
আদালতের শুনানির লিখিত প্রতিলিপি তৈরি থেকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ শুনে রিপোর্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন ট্রান্সক্রিপশনের। এ ছাড়া, বিভিন্ন ক্ষেত্রের মিটিং, লেকচার, ইন্টারভিউয়ের প্রতিলিপি তৈরিরও প্রয়োজন পড়ে।
ট্রান্সক্রাইবার হওয়ার জন্য যোগ্যতা—
কোনও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা না থাকলেও ট্রান্সক্রাইবার হওয়া যায়। কাজ করা যায় পূর্ণ সময় বা আংশিক সময়ের জন্য। বেছে নেওয়া যায় ফ্রিল্যান্স পেশা হিসাবেও। তবে মেডিক্যাল বা আইনি ট্রান্সক্রিপশনের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে ডিগ্রি থাকা জরুরি।
কী কী দক্ষতা জরুরি?
ট্রান্সক্রাইবার হওয়ার জন্য আগ্রহীদের শোনা এবং নির্দিষ্ট ভাষা বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। টাইপিং স্পিড ভাল থাকতে হবে। প্রয়োজন একাগ্রতা এবং ধৈর্য্যও।
কোন কোন সরঞ্জাম প্রয়োজন?
যদি কেউ বাড়ি থেকেই কাজ করতে চান, তা হলে তাঁদের ভাল হেডফোন থাকতে হবে। প্রয়োজন ইন্টারনেট সংযোগ-সহ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোন। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে আধুনিক সফটঅয়্যার থাকাও জরুরি।
উপার্জন—
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, নতুনদের ক্ষেত্রে উপার্জন হতে পারে প্রতি অডিয়ো মিনিটে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে এই আয়ের পরিমাণ বেড়ে মাসে ৩০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।