১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
কমলশ্বর মুখোপাধ্যায়: একজন বামপন্থী হিসাবে এটুকু বলতে পারি, আমার দল যাঁকে বাছবে বা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তার সঙ্গে একমত।
২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
কমলেশ্বর: রং দেখে ভোট দিই। একদম লাল পতাকা দেখে ভোট দিই। লাল পতাকা যেখানে, আমার ভোট সেখানে।
আরও পড়ুন:
৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
কমলেশ্বর: প্রথম কথা, বামদলে পরীক্ষা দিতে দিতেই প্রার্থী হয়। দেখা হয়, প্রার্থী গণ আন্দোলনের সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন করে আর পরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। রইল বাকি অন্যান্য দলের প্রার্থীর কথা। আমার মতে, তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা উচিত বা রাজনীতির চর্চার মধ্যে থাকা দরকার। সেই জায়গা থেকে বলব, অবশ্যই তাঁর রাজনৈতিকমনস্কতা দেখে জনগণের ভোট দেওয়া উচিত। যদিও সেটা হয় না অনেক ক্ষেত্রেই।
৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
কমলশ্বের: প্রথম কথা, আমি বিধায়ক হতে চাই না। শুধু বিধায়ক কেন, কোনও রাজনৈতিক পদেই থাকতে চাই না। কারণ, আমার মতে সেই যোগ্যতা আমার নেই। দ্বিতীয় কথা, যে কোনও বিধায়কের কাছেই শুধু তাঁর অঞ্চল নয়, রাজ্যের সার্বিক উন্নতি কাম্য। একই সঙ্গে তিনি যেন সৎ, নীতি এবং নিয়মনিষ্ঠ হন। এবং আবারও বলব, তিনি যেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হন। জনগণের পাশে যেন তাঁকে পাওয়া যায়।
অকপট কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
৫. আপনার পেশা জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
কমলশ্বর: সংস্কৃতিকর্মী হিসাবে বলতে হলে বলব, এ রাজ্যে সংস্কৃতির যে অবনমন হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি, সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। সাংস্কৃতিক পরিবেশ বদলানো দরকার। এই নিয়ে আমার কোনও দ্বিধা নেই।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
কমলেশ্বর: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একশো শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচন হোক, সবাই চাই। কিন্তু সেটা এই বাজারব্যবস্থায় কতটা হওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বুর্জোয়া গণতন্ত্রে নয়। সে কারণেই একশো শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আদৌ সম্ভব কি না, সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে।
৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
কমলেশ্বর: অবশ্যই দলবদলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ, একটি দলের প্রতীকে যখন কেউ প্রার্থী হচ্ছেন, তখন তাঁর অন্য দলে চলে যাওয়া মানে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। কোনও প্রার্থীকে লোক ঠকানোর অধিকার গণতন্ত্রের দেওয়া উচিত নয়।
৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
কমলেশ্বর: সাহিত্যের ভাষা ব্যবহার না করলেও ভাষার শালীনতার দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
কমলেশ্বর: সমানাধিকার সর্বাগ্রে আসবে। এই কথা আমাদের সংবিধানের মূল বক্তব্য। আমিও বরাবর তাকেই সমর্থন করে এসেছি।
১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
কমলেশ্বর: স্বল্পমেয়াদি ভাতা হয়তো সাময়িক ভাবে কিছু মানুষকে সাহায্য করে। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির মানুষকে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে ভাতা কিন্তু সমাধান নয়। সে ক্ষেত্রে সবার আগে কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। আমার মতে, চাকরির বিকল্প ভাতা হতে পারে না।
বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
কমলেশ্বর: গণতন্ত্রে কখনওই বিরোধীশূন্য রাজনীতি হওয়ার কথা নয়। তাই সেটি রাজনীতির জন্য ‘সুস্থ’ ব্যবস্থাও নয়। সব সময়েই দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক মতামতের প্রয়োজন।
১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
কমলেশ্বর: আবার বলব, জনপ্রিয় মুখেরও কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা অবশ্যিক। না হলে জনতার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।
১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
কমলেশ্বর: চিরকালীন পছন্দের রাজনীতিবিদ লেনিন। আর এই প্রজন্মের কথা বললে বলব, মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।