• স্বরলিপি ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুরুষ না মহিলা, কেমন সঙ্গী পছন্দ? চান্দ্রেয়ী বললেন…

টেলিভিশনে তিনি স্টার। কিন্তু সিনেমায় সেই জনপ্রিয়তা এল কি? তিনি অর্থাত্ অভিনেত্রী চান্দ্রেয়ী ঘোষ। কেরিয়ার হোক বা ব্যক্তিজীবন— অকপট আড্ডা দিলেন।

Chandrayee Ghosh
চান্দ্রেয়ী ঘোষ।

কেমন আছেন?
খুব ভাল। ভালই থাকি আমি।

বাহ… উত্তর যে দিলেন কোনও নাকি সুর নেই কিন্তু…
মানে?

না! আসলে মানুষ চান্দ্রেয়ী না, ভূত, কার ইন্টারভিউ- সেটা নিয়ে কনফিউশন…
হা হা হা…

সিরিয়াসলি বলুন প্লিজ, অনীক দত্তর ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এ (মুক্তি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি) আপনি মানুষ নাকি ভূত?
‘ভবিষ্যতের ভূত’-এ আমি রূপালী। ক্যাবারে ডান্সার। যার নিজস্ব স্ট্রাগল আছে। এ ছবিতে অনেক মানুষ। অনেক ভূত। কিন্তু কে কোনটা, বা আমি কোন দলে সেটা এখন তো বলতে পারব না (হাসি)।

অফারটা এল কী ভাবে?
এটা খুব মজার। প্রথমে শুচিস্মিতা (দাশগুপ্ত, এই ছবির কস্টিউম ডিজাইনার) একদিন ফোন করে বলল অনীকদাকে তোর ব্যাপারে বলেছি। ফোন করবেন। আমি তো নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। সে ভাবে আলাপ ছিল না অনীকদার সঙ্গে। ফোন করার পর ওর বাড়ি গিয়েছিলাম। স্ক্রিপ্টের একটা অংশ পড়ে শোনাতে বলেছিলেন। তার পর বলেছিলেন, জানাব। তার পর অনেকদিন হয়ে গিয়েছিল, জানায়নি। আমি ভেবেছিলাম হল না। এসএমএস করেছিলাম, আমি পাশ করেছি না করিনি? বলেছিলেন, কয়েকটা মেজর ডিসিশন নিয়ে কনফার্ম করতে পারব। কনফার্ম হল। তার এক মাস পর শুটিং শুরু হয়।

আরও পড়ুন, অল্প বয়সে সাফল্যে পিআর কতটা কাজে লাগল? ঋদ্ধি বললেন...

ক্যাবারে নাচের জন্য নাকি অনেকটা ওজন কমিয়েছিলেন?
এই ছবিটার জন্য প্রায় আট, সাড়ে আট কিলো কমিয়েছিলাম। ক্যাবারের কস্টিউম পরতে হবে শুনেই ওজন কমানোর প্রসেস শুরু করেছিলাম। সে সময় দু’বেলা জিমে যেতাম। চূড়ান্ত ডায়েট করতাম। তবে কোনও রিগ্রেট নেই। কোনও কাজে আমার ১০০ শতাংশ না দিলে তো জাস্টিস করতে পারব না।

আপনার মা (পূর্ণিমা ঘোষ) তো নৃত্যশিল্পী, আপনিও ছোট থেকে নাচ শিখেছেন?
না! মা আমার সবচেয়ে বড় ইন্সপিরেশন। মা আমার পৃথিবী। কিন্তু নাচটা কোনওদিনই আমার স্বতস্ফূর্ত ভাবে আসে না। ছোট থেকেই মা বেরিয়ে গেলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এক এক দিন এক এক রকম অভিনয় করতাম। কোনওদিন টিচার হতাম, কোনওদিন ডাক্তার। ফলে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোট থেকে। সেটা সত্যি হয়েছে। আর এই ছবির জন্য সুদর্শন চক্রবর্তী আমাকে খুব ধৈর্য্য ধরে দেখিয়ে দিয়েছে।


‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর লুকে চান্দ্রেয়ী।

আপনি অভিনেত্রী ঠিকই, কিন্তু প্রাথমিক পরিচিতি মডেলিংয়ে ছিল তো?
ঠিকই। মডেলিংয়ের সময় আমার স্ট্রাগলও ছিল। তখন তো অভিনেত্রী হিসেবে কেউ চিনত না। মডেল হিসেবে চিনত। কিন্তু আমি অভিনয়টাই করব ঠিক করেছিলাম। তাই বহু অফার ছেড়ে দিয়েছিলাম। যেখানে অভিনয়ের সুযোগ নেই, শুধু মডেল হিসেবে মুখ বা চেহারাটা ব্যবহার করতে চেয়েছে কেউ, সেখানে সোজা না বলে দিয়েছিলাম।

টেলিভিশন আপনাকে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা দিয়েছে। এখন ‘আমি সিরাজের বেগম’-এও আপনার চরিত্র নিয়ে দর্শক আলাদা করে আলোচনা করেন…
হ্যাঁ, আমি যে চরিত্রটা এখন করছি সেটা ইতিহাসে পড়া। একটা নির্দিষ্ট সময়ের গল্প। চ্যালেঞ্জিং। তা ছাড়া আমি তো বেশ কিছু নেগেটিভ চরিত্র করেছি। তাই সব সময়ই চেষ্টা করি একটার থেকে আর একটা যেন আলাদা হয়।

আরও পড়ুন, আর একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেক্সটাকে ব্যবহার করতে হবে, বলছেন রাহুল

এত যে নেগেটিভ চরিত্র করেছেন, রিপিটেটিভ লাগে না?
না। কারণ আমি সব কটা আলাদা করার চেষ্টা করেছি। নেগেটিভ ক্যারেক্টারের প্রতি একটা ভাল লাগা আছে আমার। আলাদা একটা পাওয়ার থাকে। শেষ কয়েক বছরে তো যা করেছি বেশিটাই লার্জার দ্যান লাইফ। তবে অনেক অন্য চরিত্রেও অভিনয় করেছি।

এই অন্য রকম চরিত্র তো আরও বেশি আসতে পারত আপনার কাছে। বিশেষ করে সিনেমায়?
একেবারে আসেনি তা নয়। ‘কিরণমালা’ করার সময় ভয়ঙ্কর ব্যস্ত ছিলাম। ফলে আমিও সময় দিতে পারিনি। এখন বরং টেলিভিশন আর সিনেমা বেশি করে ব্যালান্স করতে পারছি। এখন আসছে অনেক রকম চরিত্র।


ছবির শুটিংয়ে মুনমুন সেনের সঙ্গে চান্দ্রেয়ী।

আপনার টেলিভিশনে তো দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অনেক সিনিয়র বলেন, জুনিয়াররা তাঁদের সম্মান করেন না। সত্যিই কি পরিস্থিতি তেমনই?
অভিযোগটা একেবারে মিথ্যে বলব না। আবার সম্মান দেওয়া হয় না, এটাও নয়। ধরুন, রুকমা। ‘কিরণমালা’ ওর প্রথম কাজ। প্রচুর হিট। কিন্তু এখনও ওর মাটিতে পা। আমার তো পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছে। ধরুন, শ্রীতমা বা গীতশ্রী ওরাও খুব সিনসিয়ার। যাকে যা সম্মান করার করে।

#মিটু নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন। আপনি বিষয়টা কী ভাবে দেখেন?
বহু বছর আগে আমার সঙ্গে যা হয়েছিল, সেটা নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত আমি গিয়েছিলাম। এখন সবাই এটা নিয়ে কথা বলছে বলে আমি নতুন করে এটা নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না। চ্যাপ্টার ক্লোজ।

আরও পড়ুন, বয়ফ্রেন্ড অভিমন্যুর সঙ্গে বড় কাজ করব না, বললেন মানালি

আর সম্পর্ক? চান্দ্রেয়ীর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস এখন কী?
এখন সম্পর্কে কোনও ঢেউ নেই (হাসি)। আসলে আমাকে বোঝাটা খুব মুশকিল। এক এক সময় আমি অসহ্য। আসলে ভাল থাকতে গেলে ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকলে হবে না। সাত দিনে অন্তত দু’দিন আলাদা থাকলে সম্পর্ক ভাল থাকে।

আপনার পুরুষ সঙ্গী পছন্দ না কি মহিলা সঙ্গী, তা নিয়েও নাকি আলোচনা হয়?
(হাসি) যার যা বলার সে বলবেই। আমার এক্সপ্লেন করার কোনও প্রয়োজন নেই। কাউকে বোঝানোরও কোনও দায় নেই আমার।

(সেলেব্রিটি ইন্টারভিউ, সেলেব্রিটিদের লাভস্টোরি, তারকাদের বিয়ে, তারকাদের জন্মদিন থেকে স্টার কিডসদের খবর - সমস্ত সেলেব্রিটি গসিপ পড়তে চোখ রাখুন আমাদের বিনোদন বিভাগে।)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন