Advertisement
E-Paper

কলকাতাতেও কোটির ক্লাবে ‘বর্ডার ২’! সানি দেওলের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কি প্রসেনজিৎ?

এ বারের সরস্বতীপুজোয় তিনটি বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছে। ঘাড়ের কাছে শ্বাস ফেলেছেন সানি দেওল। বাংলা ছবি কি টক্কর দিতে পারল?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০০
কোন ছবি কেমন ব্যবসা করল?

কোন ছবি কেমন ব্যবসা করল? ছবি: সংগৃহীত।

এ বছরের সরস্বতীপুজো ঘটনাবহুল। ২০২৬-এ বাঙালির প্রেমদিবসে প্রেক্ষাগৃহে একটাও ভালবাসার ছবি নেই! আরও বড় ব্যতিক্রম, স্ক্রিনিং কমিটির রক্তচক্ষুকে পাত্তা না দিয়ে ‘বর্ডার ২’-এর প্রেক্ষাগৃহ দখল।

বক্সঅফিস বলছে, এ বছরের সরস্বতীপুজোয় মুক্তি পেয়েছে ‘বিজয়নগরের হীরে’, ‘হোক কলরব’, ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল।’ স্ক্রিনিং কমিটির নিয়ম অনুযায়ী বাংলার সমস্ত প্রেক্ষাগৃহে তিনটি বাংলা ছবিকেই আগে জায়গা দিতে হবে। তার পর জায়গা পাবে বড় বাজেটের হিন্দি ছবি।

স্ক্রিনিং কমিটির এই নির্দেশ কি মানা হয়েছে? আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে খবর, খোদ কলকাতাতেই একাধিক প্রেক্ষাগৃহে দুটো করে শো পেয়েছে তারকাখচিত দেশপ্রেমের ছবি ‘বর্ডার ২’! তার জেরে তিনটি বাংলা ছবি শো পেয়েছে একটি করে। কোনও কোনও প্রেক্ষাগৃহে তিনটি বাংলা ছবি জায়গাই পায়নি! যেমন, কোনও প্রেক্ষাগৃহে ‘বর্ডার’ দুটো করে শো পেয়েছে। তার সঙ্গে কোনও প্রেক্ষাগৃহে জায়গা করে নিয়েছে চন্দ্রাশিস রায়ের ‘বিজয়নগরের হীরে’ আর রাজ চক্রবর্তীর ‘হোক কলরব’। অথবা অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। তালিকায় নবীনা, প্রাচী, মিনার, বিজলি, গ্লোব, অশোকা ইত্যাদি।

ব্যতিক্রম বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহ (সাবেক স্টার থিয়েটার)। এখানে তিনটি ছবিই জায়গা পেয়েছে। অর্থাৎ, এই প্রেক্ষাগৃহ ছাড়া ২৩ জানুয়ারি বাকি কোনও প্রেক্ষাগৃহেই তিনটি বাংলা ছবির একসঙ্গে জায়গা হয়নি।

‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’, ‘হোক কলরব’ কেমন ব্যবসা করল?

‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’, ‘হোক কলরব’ কেমন ব্যবসা করল? ছবি: সংগৃহীত।

এক সপ্তাহ পরে তা হলে তিনটি বাংলা ছবির বক্সঅফিস কেমন? সানির ‘ঢাই কিলো কা হাত’-এর সঙ্গে কেউ কি পাঞ্জা লড়তে পারলেন?

বক্সঅফিসের পরিসংখ্যান বলছে, এখানেও এক এবং অদ্বিতীয় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরিবেশক রাজকুমার দামানি জানিয়েছেন, কলকাতাতেও এক সপ্তাহের মধ্যে ‘বর্ডার ২’-এর ঝুলিতে কয়েক কোটি টাকা উপার্জন!

বড় বাজেটের হিন্দি ছবির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ‘বিজয়নগরের হীরে’। এ বারের সরস্বতীপুজোয় প্রসেনজিৎ ছোটদের মনোরঞ্জনের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন। চার বছর পরে পরিচালক চন্দ্রাশিস ফিরিয়ে এনেছেন ‘কাকাবাবু-সন্তু’কে। তাতেই বুঁদ বাঙালির আট থেকে আশি। ছবির প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা এবং মহেন্দ্র সোনির তরফ থেকে আনন্দবাজার ডট কমকে জানানো হয়েছে, প্রথম দু’দিনেই ৯০টিরও বেশি শো ‘হাউসফুল’ হয়েছে। দিন যত এগিয়েছে, সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। ছবি পা রেখেছে কোটির ক্লাবে।

ছবিমুক্তির একদিন পরেই কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, এ বছর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ। “এই ঘোষণা ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে”, দাবি নবীনা প্রেক্ষাগৃহের মালিক নবীন চৌখানি, বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, মিনার-বিজলি প্রেক্ষাগৃহের মালিক সুরঞ্জন পাল, পরিবেশক এবং হলমালিক শতদীপ সাহার। প্রত্যেকে উচ্ছ্বসিত ছবির ভাল ফলাফল নিয়ে। প্রত্যেকের কথায়, “বুম্বাদা আক্ষরিক অর্থেই এখনও টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’। বছরের যে কোনও সময়েই ওঁর ছবি দেখতে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসেন। দাদা কখনও হলমালিকদের ঝুলি ফাঁকা রাখেন না।”

তা হলে বাকি দুটো ছবির ফলাফল কী? বক্সঅফিসে দুটো ছবিই যে ভাল ফল করতে পারেনি, এ কথা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন হলমালিকেরা। জয়দীপের কথায়, “বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহে বাকি দুটো ছবি মোটামুটি ব্যবসা করেছে। তবে কোনও শো-ই হাউসফুল হয়নি।” একই বক্তব্য বাকি হলমালিকদেরও। তাঁদের মতে, তিনটি বাংলা ছবি মুক্তি পেলেও আদতে লাভের মুখ দেখেছে ‘কাকাবাবু আর সন্তু’। প্রসেনজিৎ এখনও ধারে এবং ভারে কাটেন, অস্বীকার করেননি কেউই।

নতুন সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে রানি মুখোপাধ্যায়ের ‘মর্দানি ৩’। ‘বর্ডার ২’-এর শো কমে এ বার প্রেক্ষাগৃহ দখলে এই ছবিটি। উত্তর কলকাতার হলগুলো থেকে সরে গিয়েছে বাকি বাংলা ছবি। ব্যতিক্রম প্রসেনজিৎ অভিনীত ছবিটি। ব্যবসা দেওয়ায় এখনও শ্রীকান্ত-মহেন্দ্রের ছবিটিই টিকে রয়েছে শহর এবং শহরতলিতে।

Sunny Deol Prosenjit Chatterjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy