গায়ক হতে চেয়েছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত নেন, অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করবেন। ‘ভুল করে’ কমেডিতে পা রাখার আগে বেশ কিছু ‘সিরিয়াস’ চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। তিনি কপিল শর্মা। ভারতীয় তারকা কৌতুকশিল্পীদের মধ্যে প্রথম সারিতেই তাঁর নাম আসে। তবে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই অবসাদের শিকার হয়েছিলেন তিনি। কেন জানেন?
কর্মজীবন খুব মসৃণ ছিল না কপিলের। কৌতুকশিল্পী হিসাবে প্রতিযোগিতা জেতেন, শো শুরু করেন। কিন্তু তা বেশি দিন চলেনি। নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, নাম জড়ায় নানা বিতর্কে। তবে এখন তিনি জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে নিয়মিত অনুষ্ঠান করেন, যার দর্শকসংখ্যা নেহাত কম নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কপিল বলেন, “মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই অবসাদ ঘিরে ধরে আমাকে। ভীষণ ভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ি আমি। লোকজন বলতে শুরু করে, ‘ওর দিন শেষ হয়ে গিয়েছে’। তার পরে আমার বিয়ে হয়। এর পরে আমার শো আবার শুরু হয়। ৩০০টিরও বেশি পর্ব করি।” কপিলের কথায়, জীবনে একমাত্র অনিশ্চয়তারই নিশ্চয়তা আছে। সাধু উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়া উচিত, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ভাল হতে থাকে, মত কপিলের।
কপিলের বাবা জিতেন্দ্র কুমার পঞ্জ ছিলেন পঞ্জাব পুলিশের হেড কনস্টেবল। ২০০৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে হার মানেন তিনি। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ সিজ়ন ৩’ জিতে, হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক নিয়ে বাবার জন্য অঝোরে কেঁদেছিলেন কপিল। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার অনুষ্ঠান যখন শুরু হল, মনে আছে আমি বাড়ির বাইরে রাত ৯টার সময় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতাম। আশেপাশের প্রত্যেক বাড়িতে টিভি চলত, সকলের হাসির আওয়াজ কানে আসত। মনে মনে ভাবতাম, বাবা থাকলে এটা দেখে কতটা আনন্দ পেতেন। প্রত্যেক দিন ওঁর কথা মনে পড়ে। কিন্তু কিছু কিছু মুহূর্তে প্রচণ্ড কষ্ট হয়।”
আরও পড়ুন:
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে বহু দিন ধরেই গুঞ্জন, কপিলের জীবনীছবি তৈরি হবে। এ প্রসঙ্গে কপিল বলেন, যাঁরা এই ছবির প্রযোজক তাঁরা আদতে অভিনেতারই বন্ধু। যদিও কপিল মনে করেন, তিনি সবেমাত্র জীবনকে বুঝতে শুরু করেছেন। অন্য দিকে কপিলকে সম্প্রতি, ‘কিস কিসকো পেয়ার করুঁ ২’ ছবিতে দেখা গিয়েছে। ২০১৫ সালের ছবির সিক্যুয়েল এটি। বক্সঅফিসে বিশেষ সাফল্য লাভ করতে পারেনি এই ছবি।