Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০২ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

মুভি রিভিউ: সঞ্জুকে ছাপিয়ে গেলেন রণবীর

অময় দেব রায়
২৯ জুন ২০১৮ ১৯:১২
সঞ্জয় দত্তর ভূমিকায় রণবীর কাপুর। ছবি: ইউ টিউব-এর সৌজন্যে।

সঞ্জয় দত্তর ভূমিকায় রণবীর কাপুর। ছবি: ইউ টিউব-এর সৌজন্যে।

ছবি: সঞ্জু

পরিচালনা: রাজকুমার হিরানি

অভিনয়: রণবীর কপূর, পরেশ রাওয়াল, মনীষা কৈরালা, বোমান ইরানি, দিয়া মির্জা, অনুষ্কা শর্মা, ভিকি কৌশল

Advertisement

পোস্টার রিলিজ হতেই একের পর এক মিম। ট্রেলার আসতেই অজস্র স্পুফ। ‘সঞ্জু’কে নকল করে গঞ্জু, মঞ্জু, ছোটু সঞ্জুও এল মুহূর্তে। এমনকী, সে সবও হিট! সমসময়ে এতটা হাইপ কোন ছবিকে ঘিরে হয়েছে! আর হবে না-ই বা কেন? যখন কাহিনির কেন্দ্রে সঞ্জয় দত্ত, পরিচালনায় রাজকুমার হিরানি এবং প্রধান চরিত্রে রণবীর কপূর— দর্শক উন্মাদনা তো খুব স্বাভাবিক। ছুটলাম ৮টা ৪০-এর মর্নিং শো’তে। হাউসফুল। পর্দায় সঞ্জয় দত্তের লুকে রণবীর কপূরের আবির্ভাব হতেই সিটির পর সিটি। গোটা হল উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার। ভয় হল, কিছুই তো শুনতে পাবো না! রিভিউ লিখবো কী করে! যদিও ছবি গতি পেতেই সব শান্ত। মাল্টিপ্লেক্সে এ অভিজ্ঞতা প্রথম বার।

গণমাধ্যমের মুচমুচে খবরের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরতে চায় সঞ্জু। ধেয়ে আসা একের পর এক প্রশ্নবাণের উত্তর দিতে সে উন্মুখ। কিন্তু কে উত্তর দেবে তার হয়ে? কে লিখবে সঞ্জয় দত্তের ‘আসলি কাহানি’? যোগাযোগ করা হয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন জীবনীকার বিনির (অনুষ্কা শর্মা) সঙ্গে। কিন্তু বিনি কোন দুঃখে এক জন টেররিস্টের জীবনী লিখতে যাবেন? একবাক্যে ‘না’। অনেক কষ্টে বুঝিয়েসুঝিয়ে তাঁকে রাজি করানো হয়। বিনি সঞ্জুর জীবনী লিখবেন জানতেই যেচে বারণ করতে আসেন অনেকে। তাতেই উল্টে আগ্রহ বাড়ে জীবনীকারের। শুরু হল সঞ্জুর কাহিনি।

ছোটবেলা থেকে প্রাচুর্যে বড় হওয়া, মৌজ মস্তিতে অনায়াসে যৌবনে পৌঁছে যাওয়া সেলেব্রিটি কিড সঞ্জুর ডিকশনারিতে ক্রাইসিস বলে কোনও শব্দই ছিল না। লড়াই, হেরে যাওয়া কিংবা অপ্রাপ্তির কোনও অনুভবই সে পায়নি। তাই অনায়াসে সেটে শুটিং করতে করতে সঞ্জু স্মোক করে, মাদকাসক্ত হয়ে গভীর রাতে প্রেমিকার ঘরে হানা দেয় আর ‘ড্যাড’ সকলের সামনে শাসন করলে তার অভিমান হয়।

আরও পড়ুন: ছেলের এনগেজমেন্টে পারফর্ম করে তাক লাগিয়ে দিলেন নীতা!

জীবনে প্রথম স্বপ্নভঙ্গ প্রেমিকার কর্পোরেট পাত্রের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হওয়া। অল্প সময়ের ব্যবধানে কানে আসে মায়ের ক্যান্সার ধরা পরার খবর। যা মুহূর্তে সঞ্জুকে বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে গিয়ে পা হড়কে যায়। বেড়ে চলে ড্রাগের মাত্রা।



‘সঞ্জু’ ছবির একটি দৃশ্য। ছবি: ইউ টিউব-এর সৌজন্যে।

বাবা ও ছেলের মাঝে বসে ‘রকি’র প্রিমিয়ার দেখতে চেয়েছিলেন নার্গিস। কিন্তু প্রিমিয়ারে সুনীল দত্ত ও সঞ্জু’র মাঝের চেয়ারটি ফাঁকাই থেকে যায়! মানতে কষ্ট হয় সঞ্জয়ের। গুলিয়ে যেতে থাকে কল্পনা আর বাস্তব। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়ে বাবাকে আঁকড়ে ধরে সঞ্জু। বাবা আমেরিকায় রিহ্যাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। শুরু হয় নেশা ছাড়ানোর লড়াই।

দ্বিতীয় পর্বের লড়াই আরও তীব্র। আরও কঠিন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের লড়াই। যখন গোটা দেশ আঙুল তুলছে। রোজ সংবাদপত্রের হেডলাইন। তখন সবার ঘৃণার পাত্র ‘টেররিস্ট’ সঞ্জু জেলের অন্ধকার ঘরে সত্যের অপেক্ষা করতে থাকে। সংবাদপত্রের ভবিষ্যদ্বাণীকে উল্টে দিতে অটুট থাকে নিজের সংকল্পে, ‘সঞ্জু ইজ নট ফিনিশড।’ এখানেই পরিচালক রাজকুমার হিরানির মুন্সিয়ানা। সঞ্জু আর শুধুমাত্র এক জন সেলেব্রিটি চিত্রতারকার কাহিনিতে থেমে থাকে না। তা হয়ে ওঠে এক ভারতীয় যুবকের জীবনযুদ্ধে ফিরতে চাওয়ায় কাহিনি। হাজার প্রতিকূলতা অতিক্রম করে লড়াইয়ে টিকে থাকার গল্প। আর একই সঙ্গে হতাশায় ভুগতে থাকা যুব সমাজের অনুপ্রেরণার টনিক।

সঞ্জু আসলে ভীষণ ভাবে সম্পর্কের গল্প বলে। ছেলে জেলের কুঠুরিতে রাত কাটালে বাবা ঘরে ফ্যান বন্ধ করে দেন। মাটিতে মাদুর পেতে ঘুমোন। মুন্নাভাইয়ের সেটে নিয়মানুবর্তিতা, নিষ্ঠার পাঠ দেন। বন্ধু কমলেশ (ভিকি কৌশল) প্রথম বার গড়ি কেনার বদলে সেই টাকায় ফ্লাইটে ভারতে আসে। সঞ্জুর সঙ্কটে পাশে থাকবে বলে। স্ত্রী বার বার ছুটে যান বিনির কাছে। অনুরোধ করেন জীবনী লিখতে। এ ভাবেই কখনও বাবা, ছেলে, স্ত্রী, সন্তানকে ছুঁয়ে এক বৃহত্তর সম্পর্কের ডাইমেনশন তৈরি করেন পরিচালক। তবে বোন প্রিয়াকে যখন দেখালেনই ব্যক্তিগত টানাপড়েন দূরে সরিয়ে আর একটু ছুঁয়ে গেলেই পারতেন!

আরও পড়ুন: দেখুন, হায়দরাবাদ বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে কারা উপস্থিত ছিলেন

ট্রেলারেই স্পষ্ট। তবু আরও এক বার বলতেই হয় রণবীর কপূর এতটা নিখুঁত চরিত্রায়ন কী ভাবে সম্ভব করলেন? ছোট চরিত্রে দাগ রেখে গেলেন মনীষা কৈরালা, বোমান ইরানি ও জিম সার্ব। কিছু জায়গায় পরেশ রাওয়ালের অভিনয় অতিরঞ্জিত। এত দিন ভিকি কৌশল ছিলেন হিন্দি সিনেমার পোস্টার বয়। সঞ্জুর পর তিনি নিঃসন্দেহে পুরোদস্তুর মেইনস্ট্রিম। শেষমেশ একটাই কথা, রাজু হিরানি, বিধুবিনোদ চোপড়া ও সঞ্জয় দত্তের জুটি আবারও সুপারহিট।

পুনশ্চ: একটা কথা, সঞ্জুর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে মিডিয়ার তুলোধনা করতে গিয়ে রাজু হিরানি বোধহয় বেমালুম ভুলে গেলেন, সঞ্জয় দত্তের প্রত্যেকটি সৎ কনফেশনের প্রথম সম্প্রচার কিন্তু করেছিল ভারতীয় গণমাধ্যম!

আরও পড়ুন

Advertisement