Advertisement
E-Paper

‘ওষুধের দাম কমানোর ফল কি আদৌ সাধারণ মানুষ পাবে?’ বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া রচনা-দেবদূতের, রুদ্রনীলের কী মত?

তবে ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষে বাংলার সাধারণ মানুষের কথা ভেবে কোনও ঘোষণা নেই। এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন স্তরে। এ ব্যাপারে কী বলছেন বিনোদনদুনিয়ায় তৃণমূল, বাম ও বিজেপি শিবিরের তারকারা?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৮
বাজেট নিয়ে রচনা, দেবদূত, রুদ্রনীলের কী মত?

বাজেট নিয়ে রচনা, দেবদূত, রুদ্রনীলের কী মত? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রবিবাসরীয় দুপুরে দেশের বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই নিয়ে নবম বার তিনি বাজেট পেশ করলেন তিনি। বাজেট মানেই সাধারণ মানুষের ভাবনায় থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, ট্রেনের টিকিট, ওষুধপত্রের দাম কমল কি না। করের বোঝা কমল কি না। প্রতি বছরের মতোই এ বারও কিছু জিনিসের দাম কমানোর প্রস্তাব রয়েছে, সেইসঙ্গে কিছু জিনিসের দাম বৃদ্ধিরও। তবে একটাই অভিযোগ এ বার বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যাচ্ছে। তা হল, বাজেটে বাংলার জন্য তেমন কোনও ভাবেননি অর্থমন্ত্রী। বাংলার মানুষের কথা ভেবে তেমন কোনও ঘোষণা নেই বাজেটে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এই অভিযোগ করেছেন। কী বলছেন কলকাতার বিনোদনদুনিয়ায় তৃণমূল, বাম ও বিজেপি শিবিরের তারকারা?

বাজেট প্রসঙ্গ উঠতেই হুগলির সাংসদ তথা তৃণমূল নেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় হতাশা প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন, “আমাদের রাজ্য নিয়ে কোনও কিছুই তো হল না। আমরা অনেক কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। তার কিছুই এ বার হল না।” সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে, এমন কিছু ঘোষণা আশা করেছিলেন। জানান রচনা। তাঁর কথায়, “শিল্পী, সাংসদ, বা রাজনীতিবিদ্‌দের জন্য কিছু বলছি না। সাধারণ মানুষ তো অন্তত উপকৃত হোক। তাঁদের কথা ভেবে আয়করের জায়গাটা ভাবলে ভাল হত। সব কিছুর উপরই তো এখন জিএসটি। আশা করেছিলাম, এ বার এ সব একটু কমবে। তাও তো হল না।” পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী সাংসদের স্পষ্ট জবাব, “ওই তো বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি একটা ট্রেন দিয়েছে। ওই টুকুই। করতে হয়, তাই এটুকু করেছে।”

তবে বাজেট নিয়ে স্বভাবতই খুশি বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর মতে এ বছরের বাজেট খুবই যুক্তিসঙ্গত। অভিনেতার বক্তব্য, “ক্যানসারের ১৭টি ওষুধের দাম কমেছে। সোলার প্যানেল, চামড়ার জিনিস, মোবাইলের ব্যাটারির দাম কমেছে। মাইক্রোওয়েভ আজ মধ্যবিত্তের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তারও দাম কমেছে।” বিদেশে পড়াশোনা ও বিমানে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রেও কমছে খরচ। রুদ্রনীলেন মতে, “এগুলো তো আশার কথাই। পশ্চিমবঙ্গ তো ব্যবসার দিক থেকে অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া রাজ্য। সেই জায়গা থেকে সরিয়ে আনতে বিজ়নেস করিডর তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত করিডর তৈরি হচ্ছে, বারণসী থেকে শিলিগুড়ি রেল করিডর। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের পাঁচটি রাজ্যের পর্যটনের দিকটি দেখা হয়েছে।”

প্রকৃতির সম্ভার থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের সেই দিকগুলি ব্যবসায় কাজে লাগায়নি রাজ্য সরকার। দাবি রুদ্রনীলের। অভিনেতার কথায়, “কলকাতা মেট্রোর জন্য কয়েকশো কোটি টাকা বরাদ্দ করছে। বেঙ্গল কেমিক্যাল, সত্যজিৎ রায় টেলিভিশন অ্যান্ড ইনস্টিটিউট-সহ বাংলার বহু খাতেই অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।” তবে এই বাজেটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হিসাবে ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের কথা বলেছেন রুদ্রনীল। তাঁর কথায়, “মহিলাদের স্বনির্ভর করেই এই প্রকল্প। মহিলাদের কল্যাণের কথা মাথায় না রেখে কোনও বাজেটই সফল হতে পারে না। প্রতি রাজ্যের প্রতি জেলায় মেয়েদের পড়াশোনার সুবিধার্থে হস্টেল তৈরি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের অচল অবস্থাকেও এই বাজেট রাস্তা দেখাবে।”

ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাম শিবিরের নেতা তথা অভিনেতা দেবদূত ঘোষ। তবে এই দাম কমায় কি আদৌ সাধারণ মানুষ কোনও ভাবে উপকৃত হবেন? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মধ্যবিত্তেরা উপকৃত হন, এমন কিছু হলে ভাল হত। তাঁর বক্তব্য, “কৃষকদের প্রয়োজনীয় দ্রব্য, পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমলে অন্য বেশ কিছু জিনিসেরও দাম কমে যায়। সেগুলো কিন্তু কমেনি। ওষুধের দাম কমেছে ঠিকই। তবে এর আগেও কয়েকটি ওষুধের দাম কমার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। আমার মা ৮৪ বছর বয়স, শয্যাশায়ী। নিয়মিত ওষুধ কিনি। আমাদের কিন্তু ওষুধ কিনতে কোনও সুরাহা হয়নি। ”

শিক্ষাখাতেও সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হয়নি বলে মত দেবদূতের। স্কুলছুট পড়ুয়াদের সংখ্যা কেন বাড়ছে, কেন তাদের স্কুলে ধরে রাখা যাচ্ছে না, এই সব প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁদের স্টাইপেন্ডও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বামনেতা। পশ্চিমবঙ্গের জন্য তেমন কোনও ঘোষণা নেই বাজেটে, এই অভিযোগে একই সুর দেবদূতেরও। তাঁর কথায়, “কেনই বা ওঁরা বাংলা নিয়ে ভাববেন? বাংলা নিয়ে ওঁদের কোনও মাথাব্যথা নেই। বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য নয়। মুষ্টিমেয় কিছু পরিবারের কল্যাণের কথা ভাবে কেবল। বড়লোককে কী ভাবে আরও বড়লোক করা যায়, এই সরকার সেটাই ভাবে। মোদী সরকার আসার পর থেকে মধ্যবিত্তের জীবন আরামের হয়নি।”

Budget 2026-27 Rachna Banerjee Debdut Ghosh Rudranil Ghosh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy