Advertisement
E-Paper

যে দলের নীতি নেই, সেখানে কোনও আদর্শহীন তারকা যোগ দিলে মানুষের কোনও লাভ হয় না: লগ্নজিতা

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনাচিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মরসুমে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৯
রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে নিজের মতামত জানালেন লগ্নজিতা।

রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে নিজের মতামত জানালেন লগ্নজিতা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার অনলাইন।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

লগ্নজিতা: রাজ্যের প্রতিটা মানুষের অভিভাবক হয়ে থাকতে পারবেন, এমন কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই। যিনি প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন এবং ভারতের সংবিধান মেনে যা যা করণীয় করবেন, তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই।

২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?

লগ্নজিতা: দল তাঁকেই প্রার্থী হিসাবে বেছে নেয়, যাঁর ধ্যানধারণার সঙ্গে দলের সামঞ্জস্য রয়েছে। ভোট দেওয়ার সময়ে প্রার্থীকে দেখি আবার তিনি কোন দল থেকে দাঁড়াচ্ছেন, সেটাও দেখি। দলের নীতি কী, এবং ভবিষ্যতে মানুষের জন্য কী কী করবে, সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

লগ্নজিতা: অবশ্যই প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হওয়া উচিত। যাঁরা যোগ্যতম, তাঁদেরই একমাত্র মানুষের সামনে নিয়ে আসা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতির দুর্ভাগ্য, এমন মানুষেরও দৌরাত্ম্য রয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের রয়েছে। আর জেতার পরে বিধায়কের প্রশিক্ষণ হলে ভালই হয়। ভোটের সময়ে প্রার্থীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্যে আনা হয়। তেমনই কোনও প্রার্থী দ্বিতীয় বার বিধায়ক নির্বাচিত হলে আরও একটা বিষয় মানুষকে জানানো উচিত— গত পাঁচ বছরে তিনি তহবিলের অর্থ দিয়ে ঠিক কী কী উন্নয়নের কাজ করেছেন?

Advertisement

৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

লগ্নজিতা: বিধায়ক হলে চেষ্টা করতাম, আমার বিধানসভা কেন্দ্রের যে সব স্কুল বেহাল অবস্থায় আছে, যে স্কুলগুলিতে প্রান্তিক মানুষ তাঁদের সন্তানদের পাঠান, সেগুলিকে ঠিক ভাবে সক্রিয় রাখতে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিও যাতে সচল থাকে, সেই দিকটিও দেখতাম। যাতে আমার অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষেরা ন্যূনতম চিকিৎসা পেতে পারেন।

 ৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

লগ্নজিতা: অভিযোগ নেই। অন্য যে কোনও পেশার মতো এখানেও কিছু সমস্যা রয়েছে। কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। যেগুলি রয়েছে সেগুলিও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহমর্মী হয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

লগ্নজিতা: নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার দায় নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। প্রতিটি দল, নির্বাচন কমিশন এবং প্রত্যেকে যদি অঙ্গীকারবদ্ধ হন দুর্নীতিমুক্ত রাখা হবে, তা হলেই একমাত্র সম্ভব।

৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

লগ্নজিতা: ভারতে ইতিমধ্যেই দলবদলের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী একটি আইন রয়েছে। সেই আইন বলবৎ করলেই যথেষ্ট। গণতান্ত্রিক দেশ, নেতারা এক দল থেকে আর এক দলে যেতেই পারেন। কিন্তু দলবদলের উদ্দেশ্যে যদি কোনও প্রলোভন বা প্রতিশ্রুতি লুকিয়ে থাকে, তা হলে মানুষের তো আপত্তি থাকবেই। মানুষই তো তাঁদের ভোট দিয়ে আনেন।

৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

লগ্নজিতা: রাজনীতিতে দুর্বৃত্তদের প্রবেশ অবাধ হলে অপশব্দের প্রয়োগ বাড়বেই। আটকানো সম্ভব নয়। আর ভাষাজ্ঞান আসে শিক্ষা থেকে। শুধু রাজনীতি নয়, সমাজে সকলেরই ভাষা নিয়ে একটু সচেতন হওয়া উচিত।

৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

লগ্নজিতা: তিনটেই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। দেশজ সংস্কৃতি যদি বহুত্ববাদ হয়ে থাকে, তা হলে দেশের উন্নয়নে প্রত্যেক দেশবাসীর সমান ভূমিকা থাকা উচিত। সেটা তখনই সম্ভব, যখন প্রত্যেক দেশবাসীর সমান অধিকার থাকবে।

১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

লগ্নজিতা: ভাতা একটা সাময়িক সমাধান হতে পারে। কিন্তু ভাতা-সর্বস্ব রাজনীতি হলে বা রাজনীতির প্রেক্ষাপট কেবল ভাতা হলে তা একটা সমস্যা। সমাজের অর্থনীতি ঠিক রাখার জন্য যেটুকু ভাতা রাখা যায়, তা রেখে বাকিটা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে রাজনীতিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

লগ্নজিতা: অবশ্যই বিরোধীশূন্য রাজনীতি থাকা উচিত নয়। বিরোধীরা শক্তিশালী হলে, গণতন্ত্রও শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর হবে।

১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যাবে এমন বহু তারকা রয়েছেন, যাঁরা রাজনীতিতে এসে অতীতের পেশা থেকে দূরে চলে গিয়েছেন। কেবল রাজনীতিটাই মন দিয়ে করেছেন। তারকারা রাজনীতিতে আসতেই পারেন। কিন্তু কোনও দল তারকার খ্যাতিটাই শুধু ব্যবহার করতে চাইলে, সেখানে সমস্যা রয়েছে। দলের মতো তারকারও যদি নির্দিষ্ট কোনও আদর্শ না থাকে, তা হলে তাঁর রাজনীতিতে আসায় মানুষের কোনও লাভ হয় না।

১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

সংবিধান মেনে যিনি কাজ করেন, দরিদ্র মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেন না এবং দুর্নীতিতে বিশ্বাস করেন না, তিনিই পছন্দের রাজনীতিবিদ। তবে এ কী ভাবে সম্ভব তা অবশ্য জানা নেই!

Celebrity Voter Interview Lagnajita Chakraborty
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy