Advertisement
E-Paper

ক্যুইজ নিয়ে মাঠে হাজির ডেরেক

‘অ্যারিথমিয়া’। এই রোগটি মানব শরীরের কোন অঙ্গের সঙ্গে জড়িত? চোখ না হৃদযন্ত্র? স্কুলের চার প্রতিযোগীর দিকে প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছেন ক্যুইজ মাস্টার। পলকের মধ্যে প্রথমে বোতাম টিপে জবাব দিল চেন্নাই ভবন্‌স— ‘হৃদযন্ত্র’। অন্য দিকেই ‘চোখে’ই সায় দিল কোয়েম্বাতুর পিএসবিবিএম। মুহূর্তের নিঃস্তব্ধতা। তার পরেই লাফিয়ে উঠলেন ধুতি পাঞ্জাবি পরা ক্যুইজ মাস্টার ডেরেক ও’ব্রায়েন।

দয়াল সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:১৫
শ্যুটিং চলছে শান্তিনিকেতনে।

শ্যুটিং চলছে শান্তিনিকেতনে।

‘অ্যারিথমিয়া’। এই রোগটি মানব শরীরের কোন অঙ্গের সঙ্গে জড়িত? চোখ না হৃদযন্ত্র?

স্কুলের চার প্রতিযোগীর দিকে প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছেন ক্যুইজ মাস্টার। পলকের মধ্যে প্রথমে বোতাম টিপে জবাব দিল চেন্নাই ভবন্‌স— ‘হৃদযন্ত্র’। অন্য দিকেই ‘চোখে’ই সায় দিল কোয়েম্বাতুর পিএসবিবিএম। মুহূর্তের নিঃস্তব্ধতা। তার পরেই লাফিয়ে উঠলেন ধুতি পাঞ্জাবি পরা ক্যুইজ মাস্টার ডেরেক ও’ব্রায়েন। বললেন, ‘‘হৃদযন্ত্রই সঠিক উত্তর। তোমরা সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছো চেন্নাই ভবন্‌স। অভিনন্দন!’’ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল চেন্নাইয়ের দুই স্কুলপড়ুয়া, মনখারাপ কোয়েম্বাতুরে।

না, টেলিভিশনের পর্দায় বা ইউটিউবে দেখা কোনও ক্যুইজ শো নয়। বুধবার লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন সহযোগে একটি জনপ্রিয় ক্যুইজ শোয়ের শ্যুটিং শুরু হল শান্তিনিকেতনে। বিশ্বভারতী আশ্রম এলাকায় পুরনো মেলার মাঠকেই এ বার বেছে নেওয়া হয়েছে দেশের একশোটি শহরের সাড়ে চার হাজার স্কুলের মধ্যে থেকে উঠে আসা সেরা ষোলোটি স্কুলের দলের চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতার শ্যুটিংয়ের জন্য। বুধবার ছাতিমতলার উল্টো দিকের মাঠে দিনভর শ্যুটিংয়ের পরে আজ, বৃহস্পতিবারও চলবে শ্যুট। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাধ্যমে বাছাই করা হবে ‘সেরা স্কুল’।

Advertisement

ক্যুইজ মাস্টার তথা তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলছেন, ‘‘প্রায় ২৩ বছর ধরে ক্যুইজের এই অনুষ্ঠান চলছে। দেশের কোথায় না শ্যুট করেছি। হিমাচলের সাংলা ভ্যালি, গোয়া, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি-সহ নানা জায়াগায়। কিন্তু, আমার পাড়া শান্তিনিকেতন, যার সঙ্গে লেখাপড়ার ওতপ্রোত যোগ রয়েছে, যে জায়গার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জড়িয়ে— সেখানেই শ্যুট করব না? সেই ভাবনা থেকেই শান্তিনিকেতনকে বাছা। নাম শুনে এককথায় রাজি হয়েছে আমাদের স্পনসরও।’’

এ দিকে, স্টুডিওর চার দেওয়াল থেকে বেরিয়ে বিশ্বকবির শান্তিনিকেতন আশ্রমে প্রকৃতির মধ্যে শ্যুটিং, তাই প্রস্ততি শুরু হয়েছিল খুব সকাল থেকেই। খোলামাঠের চারদিকে প্লাইবোর্ড কেটে তার উপর বাংলার আল্পনা এঁকে তৈরি হয়েছিল সেট। গোটা চারেক হাইডেফিনিশন ক্যামেরা, ক্যামেরা পার্সন, ট্রলি, ক্রেন, লাইট কাটার, রিফ্লেক্টর, বিশাল বিশাল আলো এবং সর্বোপরি বিখ্যাত ক্যুইজ মাস্টার— সব মিলিয়ে জমজমাট ব্যাপার। এক দিকে অস্থায়ী ছাউনি বানিয়ে বসার জায়গা করে দেওয়া হয়েছিল দেশের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ— এই চারটি জোনের স্কুলের সেরা ষোলোয় থাকা প্রতিযোগী, সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের। তবে, ঘেরাটোপের মধ্যে শ্যুটিং চলায়, দূর থেকে সামান্য উঁকি মারা ছাড়া সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

কঠিন লড়াই পেরিয়ে এই পর্যায় পর্যন্ত পৌছনো প্রতিযোগীদের জন্য গর্বিত শিক্ষকশিক্ষিকা এবং অভিভাবকেরা। সেমিফাইনালে ওঠা চেন্নাই ভবন্‌সের শিক্ষিকা জয়শ্রী রবি বলছেন, ‘‘খুব খুশি। তবে, টেনশন আরও বাড়ল।’’ অন্য দিকে, সেমিফাইনালের ঠিক আগে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়া স্কুল কোয়েম্বাতুর পিএসবিবিএম-এর শিক্ষিকা পূর্ণিমা সারদেশাই বলছেন, ‘‘ওরা স্কুলের সেরা। এত দূর আসতে পেরেছে, সেটাই তো গর্বের।’’ দুই শিক্ষিকাই জানালেন, ওদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণি থেকেই। ছাত্রদের নিজস্ব প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বইপত্র, ইন্টারনেট, শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত দেখভাল, অভিভাবকদের যুক্ত থাকাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন জয়শ্রীদেবীরা। আর সেমিফানালে যাওয়া চেন্নাইয়ের থমাস আব্রাহাম ও আকাংশ নায়েক বলছে, ‘‘খুব ধৈর্য ধরে একটু একটু করে প্রস্তুতি নিয়েছি। চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’’ রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন নিয়েও সমান ওয়াকিবহল তারা। ফেরার আগে সব কিছু ভাল করে ঘুরেও দেখতে চায়।

প্রতিযোগিতা থেকে সকালেই ছিটকে গিয়েছে কেরলের ভবন্‌স বিদ্যামন্দির কোচি নামক স্কুল। মেয়ে চেতনা নায়ার ও সহপাঠী ভরত নায়ারকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে এসেছেন চেতনার মা পার্বতী নায়ার। তিনি বলছেন, ‘‘সেই ছোট ক্লাস থেকে দশটি দশটি প্রশ্ন দিয়ে শুরুটা হয়েছিল। এ বার পারেনি তো কি হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য সুযোগ নিশ্চিয় পাবে।’’ দিনের শ্যুটিং শেষে ভীষণ খুশি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা দার্জিলিং সেন্ট জোসেপ নর্থপয়েন্ট স্কুলের শিক্ষক সাজিদ আহম্মেদ। তিনি বলছেন, ‘‘আমি ভীষণ খুশি স্কুলের প্রতিযোগিতারা সেরা ষোলোর মধ্যে আসায়। আরও খুশি শ্যুটিংটা শান্তিনিকেতনে হচ্ছে বলে।’’ সাজিদের খুশি হওয়ার আরও একটি কারণ রয়েছে। স্কুলের দুই প্রতিযোগীর মধ্যে তাঁর ছেলে সেহানও রয়েছে।

ডেরেক অবশ্য এ দিন জানালেন, প্রতিযোগীদের রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা হয়নি। তবে, শোয়ের মধ্যেই বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যমণ্ডিত জায়গাগুলিও তাঁরা ছুঁয়ে যাবেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারনেটে দেওয়া হবে পর্বগুলি। দেখা যাবে স্মার্টফোনের বিশেষ অ্যাপেও। ফাইনালের আগে ডেরেক স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘‘আমি রাজনীতি করি ৩৬২ দিন। ক্যুইজ করি তিন দিন। কিন্তু, আমার সংস্থা সারা বছরই ক্যুইজের কাজে যুক্ত।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy