মুচমুচে ফ্রেঞ্চফ্রাই মেয়োনিজ়ে ডুবিয়ে মুখে দেওয়ার অনুভূতিই আলাদা। ছোট থেকে বড়— সকলেই ফ্রেঞ্চফ্রাইয়ের অনুরাগী। অরুচির মুখেও তা দিব্যি খেয়ে ফেলা যায়।
কিন্তু এই সুস্বাদু খাবার খেতে গেলেই চিকিৎসকদের সতর্কবাণী চোখে পড়ে। মুচমুচে এই আলু ভাজা বা ফ্রেঞ্চফ্রাই মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এতে, ক্যালোরির মাত্রা বেশি। এই ধরনের খাবার খেলে বাড়তে পারে কোলেস্টেরল। হতে পারে স্থূলত্বের সমস্যাও।
ফ্রেঞ্চফ্রাই কতটা ক্ষতিকর তা নিয়ে সরব হয়েছেন নেটপ্রভাবীরাও। বলা হয়েছে, ফ্রেঞ্চফ্রাই খাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই রক্তে শর্করার মাত্রা রোলারকোস্টারের মতো ওঠাপড়া করে। উচ্চমাত্রার ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে নেপথ্যে।
কিন্তু ফ্রেঞ্চফ্রাই অর্থাৎ আলুভাজা আদতে কি ততটাও ক্ষতিকর? সত্যিই কি তা অত্যন্ত খারাপ খাবারের তালিকায় পড়ে? পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ফ্রেঞ্চফ্রাই কী ভাবে তৈরি করা হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তার উপরেই নির্ভর করছে খাবারটি স্বাস্থ্যকর না কি অস্বাস্থ্যকর। ছাঁকা তেলে আলু ভাজা হলে তা থেকে ওজন বৃদ্ধির ভয় থাকে। ঘন ঘন ফ্রেঞ্চফ্রাই খেলে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে, শরীরে অন্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চফ্রাই যদি আলু সেদ্ধ করে অল্প তেলে ভাজা হয়, এয়ার ফ্রায়ারে স্যাঁকা হয় বা অভেনে বেক করা হয়, তা হলে ক্যালোরির দিক দিয়ে তা আর বিপজ্জনক থাকে না। আলুরও পুষ্টিগুণ আছে। এতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি।তাই আলু খাওয়া ক্ষতিকর নয়, বরং কী ভাবে তা খাওয়া হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে?
নিয়মিত ফ্রেঞ্চফ্রাই খেলে ক্ষতি হতেই পারে। ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমে যায়। বেড়ে যায় টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি। মহিলাদের ক্ষেত্রে পিসিওএসের ঝুঁকিও বাড়ে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অন্য দিকে, পুরুষদের তলপেটে মেদ জমার প্রবণতা তৈরি হয়, হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে।
ক্ষতি এড়াতে কী করণীয়
সুস্বাদু বলেই কোনও খাবার রোজ খাওয়া ঠিক নয়। স্বাদ আর স্বাস্থ্য দুই-ই বজায় রাখার উপায় হল পরিমিত খাওয়া। পুষ্টিবিদেরা বলেন, মাঝেমধ্যে ফ্রেঞ্চফ্রাই খাওয়া যেতে পারে, তবে এক সঙ্গে বেশি নয়। শুধু ফ্রেঞ্চফ্রাই না খেয়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন, তন্দুরি চিকেন, গ্রিলড ফিশ, স্যালাডের সঙ্গে তা খাওয়া ভাল। প্রোটিন এবং স্যালাডের ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেবে না। ফলে খেলেও ক্ষতির আশঙ্কা কমবে।
আলুর বদলে রাঙাআলুর ফ্রাই খেলে পুষ্টির মাত্রা বাড়বে। একই ভাবে অন্য সব্জি দিয়েই এমন মুচমুচে ফ্রাই বানানো যেতে পারে। তবে তা হতে হবে কম তেলে।