সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সকলেরই রয়েছে। খাওয়ার আগে, খাওয়ার পরে, হাঁচি দেওয়ার পর। বিশেষ করে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে কোভিড অতিমারির পর থেকে। আর এই অভ্যাস রয়েছে মানেই স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন— এমন ধারণাও পোষণ করেন অনেকে। কিন্তু সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে হাত ধোয়ার পদ্ধতিতে। সেখানে ভুল থেকে গেলে জীবাণু ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
প্রতি দিন অসংখ্য জিনিস স্পর্শ করেন। তা সে মোবাইল ফোন, দরজার হাতল, লিফটের বোতাম হোক বা টাকা, কম্পিউটারের কিবোর্ড-মাউস হোক বা বাস-ট্রেনের সিট। এই সব কিছুর মাধ্যমেই নানা ধরনের জীবাণু হাতে এসে জমা হতে পারে। তা ছাড়া হাঁচি-কাশি থেকেও জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর তাই চিকিৎসকদের মত, সঠিক ভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি ভাবে কমানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়ম মেনে হাত ধুলে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। কিন্তু সমস্যা হল, অধিকাংশ মানুষই হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম মেনে চলেন না। ফলে হাত ধোয়া হলেও অনেক জীবাণু হাতেই থেকে যায়।
কেবল জল যথেষ্ট নয় কেন?
চিকিৎসকদের মতে, সাবান কেবল ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের বাইরের ফ্যাটি আস্তরণকে তরলীভূত করতে পারে। যার কারণে জলে ধুয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু শুধু জল নিলে তা কেবল দৃশ্যমান ধুলোময়লা সরাতে পারে। তাই স্যানিটাইজ়ারের থেকেও সাবান জীবাণু ধ্বংসের জন্য বেশি কার্যকরী। জল আর সাবান হাতের কাছে না পেলে তবেই স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করা উচিত।
কী কী ভুল হয় হাত ধোয়ার সময়ে?
· খুব কম সময় ধরে হাত ধোয়া
· আঙুলের ভাঁজগুলি পরিষ্কার না করা
· নখের নীচের অংশ উপেক্ষা করা
· হাতের উল্টো দিক না ধোয়া
কী ভাবে হাত ধোবেন তা হলে?
প্রথমে পরিষ্কার জলে হাত ভিজিয়ে নিন। তার পর সাবান মেখে নিন। হাতের তালু, হাতের উল্টো দিক, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল এবং নখের চারপাশ এবং ভিতরের অংশ ভাল করে ঘষুন। অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ঘষতে হবে। তার পর পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেলুন। একটি পরিষ্কার তোয়ালে বা বাতাসে হাত শুকিয়ে নিন। হাত ভিজে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও দ্রুত বা়ড়তে পারে।