জ্বরজারি ওষুধ খেলে সেরে যায়। তবে পেটের সমস্যা শুরু হলে চট করে তা থেকে মুক্তি মেলে না। ওষুধ খেলে খানিক নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু ওষুধ বন্ধ হলে যে কে সেই! গ্যাস, অম্বল, বদহজম। পেটের স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে তার প্রভাব পড়ে সমগ্র শরীরেই। মুখ-চোখ শুকিয়ে যায়। দিনভর ক্লান্তও লাগে।
আরও পড়ুন:
তবে এই সমস্যার সমাধানে কোনও ওষুধ নয়, পেটের রোগের চিকিৎসকেরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনযাপনে বদল দরকার। সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি নিঃসন্দেহে, তবে এটুকুই যথেষ্ট নয়। রোজের কিছু অভ্যাস পেট ভাল রাখতে, হজমে সহায়ক হয়।
ঘুম থেকে উঠেই ফোন নয়: ঘুম থেকে উঠেই এখন লোকে খোঁজেন মোবাইল ফোনটি। শুরু হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং, কাজের মেল দেখা, রিল দেখা। তবে ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাসটি মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়, বলছেন চিকিৎসক থেকে মনোবিদেরা। মৃত্যু, যুদ্ধ, অসুখের মতো খবরগুলি মন ভার করে দেয়। তা ছাড়া, তা থেকে মানসিক চাপও তৈরি হতে পারে। ঘুম থেকে উঠেই অফিসের প্রয়োজনে মেল চেক, প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা শুরু হলেও তা থেকে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
রোদ লাগানো: শরীরের নিজস্ব ঘড়ি রয়েছে, যা প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সকালের রোদ গায়ে লাগানো খুব জরুরি। একটু হাঁটাহাটি, রোদে ঘোরাঘুরি করলে শরীরও প্রকৃতির সময় অনুযায়ী নিজেকে চালাতে শুরু করে। পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য এই শর্তও জরুরি।
খাওয়ার পরে হাঁটা: খেলেই অম্বল হয়? পেট ফুলে থাকে? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খাওয়ার পর ৫-৭ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে হাঁটতে হবে। জগিং বা জোরে হাঁটা নয়, নিছক পায়চারিও কাজের, কিন্তু এমন অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
মশলা: ভারতীয় খাবারে রকমারি মশলার ব্যবহার হয়। যেমন, জিরে, ধনে, গোলমরিচ, দারচিনি, লবঙ্গ। প্রতিটি উপকরণেরই নিজস্ব গুণ রয়েছে। পেট ভাল রাখতে পারে মশলার পরিমিত ব্যবহার প্রয়োজনীয়। এর মধ্যে কিছু মশলা হজমে সহায়ক, প্রদাহনাশক। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।
১২ ঘণ্টার ফাঁক: রাতের খাবার এবং সকালের খাবারের মাঝে ১২ ঘণ্টার বিরতি থাকা ভাল। এতে পেটে খাবার সঠিক ভাবে পরিপাকের সুযোগ পায়। রাত ৯টায় নৈশভোজ সারলে প্রাতরাশ খেতে হবে পরদিন সকাল ৯টায়। এতে হজমশক্তি ঠিক থাকে।