অভিনেত্রী বিদ্যা বালন থেকে অভিনেতা অর্জুন কপূর, দু’জনেই বলেছেন তাঁদের ওজন না কমার নেপথ্যের মূল কারণ ছিল প্রদাহ। সমান্থা রুথ প্রভু বলেছিলেন, তাঁর অটো ইমিউন ডিজ়িজ-এর প্রকোপ কমাতে সাহায্য করেছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটারি খাদ্য বা প্রদাহনাশক খাবার। ওজন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ত্বকে বয়সের ছাপ, সব কিছুই হয়েছে শরীরে প্রদাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে।
প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন আদতে শরীরের এক ধরনের ‘সুরক্ষা কবচ’, যা রোগ প্রতিরোধ শক্তির জন্য জরুরি। শরীরে যখন কোনও আঘাত লাগে বা সংক্রমণ হয়, তখন শরীর নিজেকে রক্ষা করার জন্যই ওই প্রক্রিয়াটি শুরু করে। শরীরে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয় যাতে শ্বেত রক্তকণিকা দ্রুত ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু তা-ই যদি হবে, তা হলে সবাই প্রদাহ নাশ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন কেন?
শরীরের সমস্যা সারানোর জন্য যে প্রদাহ শুরু হয়, তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখনই সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। কারণ, তখন ওই অতিরিক্ত প্রদাহ সুস্থ কোষ এবং সুস্থ পেশিতন্তুকেও আক্রমণ করতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ফলে হৃদ্রোগ, ধমনীতে ব্লকেজ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস বা অস্থিসন্ধির ব্যথা হতে পারে। আবার, অ্যালঝাইমার্স এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে অতিরিক্ত প্রদাহ থেকে। তাই শরীরে প্রদাহ বাড়তে দিলে চলবে না।
কী কী করলে কমতে পারে প্রদাহ?
সকালের ব্যায়াম: সকালে উঠে শরীর নাড়াচাড়া করা ভীষণ জরুরি। ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে ১০-২০ মিনিটের হালকা শরীরচর্চা প্রদাহের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ব্যায়াম না করলেও ব্রিস্ক ওয়াক করতে হবে। এতে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সুগারও বশে থাকবে। বাইরে রোদে বেরিয়ে অ্যাক্টিভিটি করলে ঘুমের চক্রেও উন্নতি হয়।
নিয়ম মেনে উপবাস: প্রদাহ কমানোর জন্য অযথা উপোস করে কিংবা খালি পেটে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে রোজের খাওয়াদাওয়ার সময়টি একটি নিয়মে বেঁধে ফেলা জরুরি। রাতের খাবার তাড়াতাড়ি এবং রোজ নির্দিষ্ট সময়ে সেরে ফেলতে হবে। রাতে শরীর মোটামুটি ৭ থেকে ১২ ঘণ্টার উপবাসে থাকলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমে, ইনসুলিন হরমোনের সেনসিটিভিটি বাড়ে। সব মিলিয়ে প্রহাহজনিত সমস্যা কমে।
ঘুমের সঙ্গে আপস নয়: প্রদাহ দূর করতে চাইলে ঘুম কিন্তু ভীষণ জরুরি। ঘুমোনোর সময় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রদাহ-বিরোধী কাজ করে। তাই বিশেষ করে রাত দশটা থেকে দু’টো পর্যন্ত শরীরকে বিশ্রাম দিতে হবে, এই সময়টা গভীর ঘুমে থাকা ভীষণ জরুরি।