ওজন কমাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্ডিয়ো ব্যায়াম করতে হবে, কড়া ডায়েট মানতে হবে— এ ধারণা এখন সেকেলে। বরং দ্রুত ওজন কমাতে গেলে করতে হবে ‘স্মার্ট ওয়ার্কআউট’। যা করে দেখিয়েছেন দুবাইয়ের একজন ফিটনেস ট্রেনার ও যোগাসন প্রশিক্ষক তৃপ্তি। মাত্র দু’মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেছেন তিনি। সে জন্য জিমে যেতে হয়নি তাঁকে। ঘরেই নিয়মিত ৫ রকম ব্যায়াম করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে নিজের প্রোফাইলে ফিটনেস নিয়ে পরামর্শ দেন তৃপ্তি। নানা ধরনের ব্যায়ামও শেখান। তৃপ্তি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ওজন বেড়ে ৬৫ কেজি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি মেদ জমেছিল পেটে। বর্তমানে তাঁর ওজন ৫৮ কেজির আশপাশে। ওজন কমাতে কোনও কড়া ডায়েট করেননি। বাড়ির হালকা খাবার খেয়েছেন ও নিয়ম করে কয়েকটি ব্যায়াম করে গিয়েছেন, যা খুব দ্রুত তাঁর পেট ও কোমরের চর্বি গলাতে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুন:
নি-টু-এলবো ক্রাঞ্চেস
শরীরের নিম্নাংশের মেদ কমাতে এই ব্যায়ামটি করা হয়। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাত দু’টি মাথার পিছনে রাখুন। প্রথমে বাঁ হাঁটু মুড়ে সে অবস্থাতেই পা উপরে তুলুন এবং ডান হাতের কনুই দিয়ে বাঁ হাঁটু ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। পা উপরে তোলার সময়ে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে ও নামানোর সময়ে নাক দিয়ে শ্বাস টানতে হবে। এই ব্যায়াম চিত হয়ে শুয়েও করা যায়।
স্ট্যান্ডিং নি-টু-টো টাচ
ব্যায়ামটি কোর, হ্যামস্ট্রিং (পায়ের পিছনের পেশি) এবং নিতম্বের মেদ ঝরায়। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত উপরে তুলতে হবে। প্রথমে বাঁ পা উপরে তুলুন ও ডান হাত দিয়ে পায়ের পাতা বা বুড়ো আঙুল ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। তার পর অন্য পায়েও একই কাজ করুন। প্রতি পায়ে ১০-২০ বার করে ব্যায়ামটি করতে হবে।
আরও পড়ুন:
নি টুইস্ট এক্সারসাইজ়
কোমরের দু’পাশের মেদ কমাতে এবং শরীরের উপরিভাগের পেশির সক্রিয়তা বৃদ্ধিতে ব্যায়ামটি করা যেতে পারে। নিয়ম করে করলে খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমবে। সোজা হয়ে দাঁড়ান। গভীর ভাবে শ্বাস নিয়ে একটি হাঁটু উপরের দিকে তুলুন এবং শরীরের উপরিভাগকে সে দিকে মোচড় দিন। আবার পা বদলে একই ভাবে ব্যায়ামটি করুন। প্রথম শুরু করলে দুই পায়ে ১০ বার করে ব্যায়ামটি করতে পারেন। তার পর ১৫-২০ বার করে প্রতি পায়ে করতে হবে।
হাই-নি মার্চ
পায়ের পেশি জোর বৃদ্ধি করতে ব্যায়ামটি করা হয়। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে মার্চ করার মতো দুই হাঁটু পর্যায়ক্রমে কোমর অবধি উচ্চতায় তুলতে ও নামাতে হবে। এতে শরীরের মেদ দ্রুত ঝরবে।
ল্যাটারাল লেগ রেজ়
ওয়ার্কআউটের সবশেষে এই ব্যায়ামটি করে কাঁধ, ঘাড়, পিঠ ও ঊরুর পেশি সক্রিয়তা বাড়বে। শরীরে ক্লান্তি আসবে না। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বাঁ পা ও ডান পা তুলতে এবং নামাতে হবে। খুব ধীরগতিতে তা করতে হবে। যে পা তুলছেন, তা কিছু ্ক্ষণ সে ভাবে রেখে নামাতে হবে। আবার অন্য পা তুলতে হবে।