Advertisement
E-Paper

৬ ঘণ্টার কম বা ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম? নিদ্রার দুই চরম অভ্যাসে কোন রোগ ডেকে আনছেন জানেন কি

কেউ রাত জেগে কাজ করেন, কারও ঘুম আসে না, আবার একই সঙ্গে ছুটির দিনে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের এই দুই চরম অভ্যাসই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ২০:০১
ঘুমের সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্য়ের সম্পর্ক কী?

ঘুমের সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্য়ের সম্পর্ক কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ব্যস্ত যাপন, কাজের চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার অভ্যাসের কারণে এখন ঘুমের অভাবের কথা শোনা যায় ঘরে ঘরে। অনেকেই আজকাল ঠিকমতো ঘুমোতে পারেন না। কেউ রাত জেগে কাজ করেন, কারও ঘুম আসে না, আবার একই সঙ্গে ছুটির দিনে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের এই দুই চরম অভ্যাসই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। হার্টের স্বাস্থ্যের অবনতির ঝুঁকি থেকে যায়।

ঘুমের অনিয়মে নানা রোগের ঝুঁকি।

ঘুমের অনিয়মে নানা রোগের ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস এই যুক্তির সঙ্গে সহমত। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কম ঘুম হওয়ার নানাবিধ কারণ থাকে। তার উপর এখন চারদিকে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। রোগী নাক ডাকছেন বলে ভাবছেন, হয়তো বা ঘুম সম্পূর্ণ হয়েছে। অথচ সেই সময়ে আদপে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছোচ্ছে না। ফলে যথেষ্ট ঘুম হচ্ছে না। সেটা বোঝা যাচ্ছে পরের দিন কাজ করতে গিয়ে। সারা দিন শরীরে জমছে ক্লান্তি।’’ ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত। ঘুমোনোর সময় শরীরের কোষ নিজেকে মেরামত করে, মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় এবং বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে। তাই ঘুমের সময় কমে গেলে বা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেলে শরীরের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলি ব্যাহত হতে পারে।

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম বা ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমোনো দীর্ঘ মেয়াদে হার্টের অসুখ তৈরি করতে পারে। তাঁর কথায়, ‘‘অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়, এমন অভ্যাসে কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে, তবে এই বিষয়ে কোনও প্রামাণ্য তথ্য নেই। কিন্তু হ্যাঁ, হার্টে চাপ পড়ে ঘুমের এ দিক-ও দিক হলে।’’ কম ঘুমোনোর ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া, প্রদাহ বেড়ে যাওয়া এবং রক্তনালির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘বেশি ঘুমের নেপথ্যেও কিন্তু কম ঘুমই রয়েছে। ঘুমের ঘাটতি রয়েছে বলেই অস্বাভাবিক ভাবে ঘুম বেড়ে যেতে পারে। কখনও আবার মানসিক চাপের জন্যও ঘুম বেশি হতে পারে। তাতেও একই রকম ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে স্বাস্থ্যে। ঘুমের সময় খুব কম হলে যেমন সমস্যা হয়, তেমনই খুব বেশি হলেও শরীর খারাপ হতে পারে। অর্থাৎ ঘুমের ক্ষেত্রেও একটি ভারসাম্য জরুরি।’’

কী কী করলে ঘুম ভাল হবে?

· প্রতি দিন প্রায় একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা

· ঘুমোনোর আগে মোবাইল ব্যবহার কমানো

· রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলা

· শোয়ার ঘরকে শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা

· দিনের বেলায় কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটার অভ্যাস করা

heart disease sleep cycle
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy