ব্যস্ততার যুগে সময় নেই জিমে যাওয়ার। অথচ নিজেকে সুস্থ না রাখলেই নয়। তাই ব্যস্ততার মাঝেও সকালবেলা সময় বার করতে পারেন প্রাণায়ামের জন্য। প্রাণায়াম বা শ্বাসের ব্যায়ামে কেবল ফুসফুস ভাল থাকবে তা নয়, লিভারও ভাল থাকবে। লিভারের রোগ এখন ঘরে ঘরে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা জীবনধারার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। যিনি মদ্যপান করেন না, তাঁরও লিভারে চর্বি জমছে। কারণটা অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস। লিভারে চর্বি জমতে শুরু করলে তা সহজে ঝরবে না। বরং বাড়তেই থাকবে। অন্তিম পরিণতি সিরোসিসে গিয়ে রোগীর প্রাণসংশয় হবে। কাজেই গোড়া থেকেই যদি রোগ নির্মূল করতে হয়, তা হলে শুধু ওষুধ খেয়ে বা ডায়েট করে কাজ হবে না। বরং সহজ কিছু প্রাণায়াম ও শ্বাসের ব্যায়াম নিয়মিত করলে তা লিভারের রোগও নির্মূল করতে পারবে।
ফ্যাটি লিভার নির্মূল হবে কোন কোন প্রাণায়ামে
কপালভাতি
মাটিতে হাঁটু মুড়ে বসে প্রথমে স্বাভাবিক ভাবে কয়েক বার শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। এ বার প্রক্রিয়া শুরুর সময়ে শ্বাস নিতে হবে স্বাভাবিক ভাবে, কিন্তু তা ছাড়ার সময়ে যথেষ্ট জোর প্রয়োগ করতে হবে। এতে পেট ভিতরের দিকে ঢুকবে ও বেরোবে। কপালভাতি অন্তত ২০-৩০ বার পর্যন্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন:
ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম
মেরুদণ্ড টানটান করে প্রথমে মুখ দিয়ে শ্বাস ছেড়ে ফুসফুসের সব বাতাস বার করে দিতে হবে। আবার গভীর শ্বাস নিয়ে যতটা সম্ভব ফুসফুসে বাতাস ভরে নিতে হবে। এর পর যতক্ষণ সম্ভব শ্বাস আটকে রাখুন। আবার জোরের সঙ্গে সব বাতাস বার করে দিন। হজমশক্তি বৃদ্ধিতে ও লিভার ভাল রাখতে এই প্রাণায়াম উপযোগী।
অগ্নিসার ক্রিয়া
পদ্মাসনে বা সুখাসনে বসে গভীর ভাবে শ্বাস টানতে হবে। তার পর শ্বাস ধরে রেখে পেট বা নাভি অঞ্চলকে খুব দ্রুত ভিতরে বা বাইরে সঞ্চালন করতে হবে। এতে তলপেটের পেশিগুলির ব্যায়াম হবে। যত ক্ষণ সম্ভব দম আটকে রেখে এটি করে যেতে হবে। পেটের যে কোনও সমস্যার সমাধানে এই ব্যায়াম খুবই কার্যকরী।
সূর্য ভেদন প্রাণায়াম
সোজা হয়ে বসে বাঁ দিকের নাসারন্ধ্র বন্ধ রেখে কেবল ডান দিকের নাসারন্ধ্র দিয়ে জোরে শ্বাস টানতে হবে এবং বাঁ দিকের নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে। এবার একই প্রাণায়াম ডান দিকের নাসারন্ধ্র বন্ধ রেখে করুন। ১০-১২ বার করে প্রক্রিয়াটি করে যেতে হবে। এই প্রাণায়ামে শরীরের ভিতরে তাপ উৎপন্ন হয় যা লিভারে জমা চর্বি গলাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, হজমশক্তি বাড়ে ও শ্বাসের সমস্যাও দূর হয়।