ভুঁড়ি বা পেটের মেদ শুধু সৌন্দর্যের নয়, স্বাস্থ্যের জন্যেও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই নিয়মিত ডায়েট করেন, ব্যায়াম করেন, জল বেশি খান, স্বাস্থ্যকর নানা রকম টোটকা মেনে চলেন— তবু ভুঁড়ি যেন কিছুতেই কমতে চায় না। ভুঁড়ি লুকিয়ে কি চলা সম্ভব সব সময়ে? এ এক যুদ্ধ, যা অনেকের ক্ষেত্রেই রোজের সঙ্গী। পোশাক বাছাই করা থেকে শুরু করে হাঁটাহাঁটি, ছোটাছুটি, সবেতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পেটের চর্বি। এর ফলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি আসে। আবার ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই কোনও মতেই শরীরে ফ্যাট জমতে দেওয়া যাবে না। আর সেই কাজের জন্যই ব্যবহার করতে পারেন ত্রিকাটু।
হজম আর বিপাকহার ভাল হলে তবেই মেদ ঝরবে। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে সেগুলি টক্সিনে পরিণত হয়, আর শরীরে জমতে শুরু করে। এই টক্সিনগুলির কারণে বিপাকহারও দুর্বল হয়ে পড়ে, আর সব মিলিয়ে ফ্যাট জমতে শুরু করে শরীরের আনাচকানাচে। বিশেষ করে শরীরের মধ্যপ্রদেশেই মেদ জমে বেশি। জেনে নিন মেদ ঝরাতে কী ভাবে কাজে আসে ত্রিকাটু? জিনিসটি আসলে কী?
ত্রিকাটু আসলে তিনটি মশলার মিশ্রণ। শুকনো আদা, গোটা গোলমরিচ আর পিপলি— এই তিন মশলার মিশেলেই তৈরি হয় ত্রিকাটু। নিয়ম করে এই ত্রিকাটু ডায়েটে রাখলে ফ্যাটের বিপাক ভাল হয়। সারা দিনে এক বার খাওয়ার আগে আধ চা চামচ ত্রিকাটুগুঁড়ো, একটু মধু এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে মিশিয়ে খেয়ে নিলে হজমে সাহায্যকারী উৎসেচকগুলির কার্যকারিতা বেড়ে যায়। এটি খেয়ে খাবার খেলে পেট ভার, গ্যাস, অম্বলের মতো সমস্যাগুলি কমে, ফ্যাটের বিপাকহার বাড়ে। শুধু খাওয়ার আগেই নয়, ত্রিকাটু ঘোলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াদাওয়ার পরেও খেলেও উপকার পাবেন। এ ছাড়া সকালে খালিপেটে লেবুজলে মিশিয়েও খেতে পারেন। তবে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই ভেষজ না খাওয়াই ভাল।
শুধু ত্রিকাটু খেলেই হবে না, সঙ্গে জীবনযাপনেও স্বাস্থ্যকর বদলগুলি আনতে হবে। কোনও ভেষজই ম্যাজিক করে ফ্যাট গলিয়ে দিতে পারবে না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, শারীরচর্চা, আর সঙ্গে ত্রিকাটু— সবের মিশেলেই বদল আসবে শরীরে।