কাজ করতে করতে বা দীর্ঘ যাত্রার সময়ে কানে হেডফোন বা ইয়ার বাড গুঁজে গান শোনার অভ্যাস কমবেশি সকলেরই আছে। এখন তো ‘নয়েজ় ক্যানসেলিং’ হেডফোন বা ইয়ারফোনের চাহিদাও বেড়েছে। হেডফোনের স্পিকার এমন ভাবে তৈরি, যাতে বাইরের শব্দ ভিতরে না ঢোকে। অর্থাৎ এই হেডফোন কানে দিলে আপনি বাইরের কোলাহল বা শব্দ শুনতে পাবেন না। ট্রেনে বা বিমানে যাঁরা লম্বা সফর করেন, তাঁরা এমন হেডফোন বা ইয়ারফোনই বেশি ব্যবহার করেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে একটানা দীর্ঘ সময় এমন হেডফোনে গান শুনলে বা কানে লাগিয়ে কথা বললে, মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হতে পারে। অনেকেরই দেখবেন, হেডফোনে বা ইয়ারফোনে একটানা গান শোনার পরে মাথায় ব্যথা হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় হলে ‘হেডফোন হেডেক’। কিছু ক্ষেত্রে যা মাইগ্রেনের ব্যথাও বাড়িয়ে দিতে পারে। তা হলে উপায় কী?
হেডফোন থেকে মাথায় ব্যথা শুরু হলে কী করণীয়?
২০-২০-২০ নিয়ম
হেডফোন খুলে ফেলুন। অন্তত ২০ মিনিটের জন্য মোবাইল, ল্যাপটপ বা কোনও গ্যাজেট ব্যবহার করবেন না। অন্তত ২০ ফুট দূরের দৃশ্যের দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। তার পর কিছু ক্ষণ চোখ বন্ধ করে গভীর ভাবে শ্বাস নিন। এতে ব্যথার তীব্রতা কমবে।
ঘাড় ও কাঁধের ব্যায়াম
শোল্ডার রোল
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই কাঁধ কানের কাছে তুলুন। তার পর ঘুরিয়ে পিছনের দিকে নামিয়ে নিন। এই ভাবে ঘড়ির কাঁটার দিকে ও বিপরীত দিকে ১০ বার করে করুন।
চিন টু চেস্ট
ঘাড় সোজা রেখে চিবুক নীচের দিকে নামিয়ে বুকের সঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করুন। ঘাড়ের পিছনের অংশে টান অনুভব করবেন, এতে মাথা ঘোড়া, মাথাব্যথায় আরাম হবে।
আরও পড়ুন:
নেক রোটেশন
সোজা হয়ে বসে মাথা ধীরে ধীরে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরান, এর পর ৩০ সেকেন্ড থেকে আবার ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরান। এতেও আরাম হবে।
আকুপ্রেশার
আপনার হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ এবং তর্জনীর মাঝখানের মাংসল অংশটিতে অন্য হাতের আঙুল দিয়ে ২-৩ মিনিট বৃত্তাকারে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এটি মাথাব্যথা কমাতে বেশ কার্যকর।
গরম ও ঠান্ডা সেঁক
মাথাব্যথা কমাতে গরম বা ঠান্ডা সেঁক—উভয়ই কার্যকর, তবে ব্যথার ধরন কেমন তার ভিত্তিতে সঠিকটি বেছে নিতে হবে। হঠাৎ তীব্র মাথা বা ঘাড় ব্যথায় বরফ বা ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন। একটি পাতলা কাপড়ে বরফ বা ফ্রোজেন প্যাক পেঁচিয়ে কপালে, ঘাড়ে বা মাথার পেছনে ১০ মিনিট ধরে রাখুন। যদি মাথাব্যথা একটানা চলতেই থাকে, তা হলে গরম সেঁক দিলে উপকার পাবেন।