কালোজিরের গুণ অনেক। শুধু রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধিতে নয়, নানা রকম ব্যথাবেদনার উপশমেও কালোজিরের ব্যবহার বহু আগে থেকেই হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময়ে রোগে ভুগে শরীর দুর্বল, মুখে অরুচি, সে ক্ষেত্রেও ওষুধ হতে পারে কালোজিরে। মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের ব্যথা উপশমে কালোজিরের তেলের উপযোগিতা নিয়ে নানা সময়ে গবেষণা হয়েছে। সম্প্রতি পাবমেড থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কালোজিরের তেল মাথায় মাখলে মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম হতে পারে। মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে তীব্র মাথাযন্ত্রণায় ভুগলে, সে ক্ষেত্রেও দাওয়াই হতে পারে কালোজিরের তেল।
মাইগ্রেনের ব্যথা বড় কষ্টের। যাঁদের হয় তাঁরাই বোঝেন। ব্যথা একবার শুরু হলে, তা সহজে কমে না। টানা ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টাও ব্যথা থাকে। সেই সঙ্গে গা গোলানো ভাব, মাথা ঘোরার সমস্যাও হয়। চোখে আলো পড়লেই যন্ত্রণা আরও বাড়ে। মাইগ্রেন যাঁদের থাকে, তাঁদের সবসময়েই সঙ্গে ওষুধ রাখতে হয়। যদি এমন পরিস্থিতি আসে যে সঙ্গে ওষুধ নেই, এ দিকে মাথায় যন্ত্রণা শুরু হল, তখন আরাম দিতে পারে কালোজিরের তেল। এটি ব্যবহার করলে খুব তাড়াতাড়ি যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়েছে গবেষণায়।
কালোজিরের তেলের প্রধান উপাদান হলো থাইমোকুইনোন। এটি প্রদাহনাশক। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে ও স্নায়ুর প্রদাহ কমায়। মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়ার সময়ে কালোজিরের তেল মাখলে তীব্র প্রদাহ কমে যাবে। তবে কালোজিরের তেল ব্যবহার করার কিছু নিয়ম আছে।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে মাখলে দ্রুত উপকার হবে?
কালোজিরে ও পুদিনার তেল
পুদিনার তেলে থাকা মেন্থল পেশির প্রদাহ কমায়। ২ চামচ কালোজিরের তেলের সঙ্গে ৩-৪ ফোঁটা পুদিনার তেল মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি হালকা হাতে মাথায় ও কপালে মালিশ করতে হবে।
কালোজিরে ও তিলের তেল
সাইনাসের কারণে তীব্র মাথাব্যথা হলে, এই তেলের মিশ্রণ কাজে আসবে। মানসিক উত্তেজনার কারণে যাঁদের মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে গিয়েছে, তাঁরা ব্যবহার করলেও উপকার পাবেন। সমপরিমাণ কালোজিরের তেল ও তিল তেল হালকা গরম করে নিতে হবে। এ বার ঘাড়ের পিছন থেকে শুরু করে পুরো মাথায় মালিশ করুন। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করবে।
কালোজিরে ও লেবুর রস
মাইগ্রেনের ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হলে এই মিশ্রণটি আরাম দিতে পারে। এক চা-চামচ কালোজিরের তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে কপালে ঘষুন। ব্যথা কমে যাবে অনেকটাই।