ব্যায়াম মানেই অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ঘাম ঝরানো নয়। আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসে বা শুয়েও করা যায় ব্যায়াম। যোগাসনেই আছে এমন অনেক পদ্ধতি ওজন কমাতে, ডায়াবিটিস বা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে যদি ব্যায়াম করার কথা ভাবেন, তা হলে সবসময়ে বেশি পরিশ্রম করার প্রয়োজন নেই। জিমে গিয়ে কার্ডিয়ো বা ওজন তুলতেও হবে না। বরং মাটিতে বা ম্যাটের উপর পা মুড়ে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসেও ব্যায়াম করে নিতে পারেন। তাতেও ওজন কমবে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে থাইরয়েড ও রক্তচাপ। হরমোনের সমস্যার সমাধানও হবে।
উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড, ডায়াবিটিস এই ধরনের রোগগুলি জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলিকে বলা হয় ‘লাইফস্টাইল ডিজ়িজ়’। বর্তমান সময়ে এই রোগগুলির সঙ্গে যুঝতে গিয়েই নাজেহাল হতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে মানসিক চাপও। শুধু ওষুধ খেয়ে যার নিরাময় সম্ভব নয়। তার জন্য ব্যায়ামও জরুরি। আর সে ব্যায়াম যদি আরামে বসেই করা যায়, তা হলে তো কথাই নেই।
মাটিতে আরামে বসে যে আসনগুলি করতে পারেন
বদ্ধ পদ্মাসন
প্রথমে পদ্মাসনে বসতে হবে। পিঠ টানটান রাখতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এর পর দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের পাতা না ধরে, হাত দু’টি পিঠের দিকে নিয়ে যেতে হবে। দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের আঙুল ধরতে হবে, অর্থাৎ পিঠের দিক থেকে বাঁ হাত দিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল ও ডান হাত দিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে হবে। এই ভঙ্গিমায় ২০ গুণে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।
গোমুখাসন
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। দুই হাত থাকুক কোলের উপর। পিঠ টানটান থাকবে। এ বারে বাঁ হাত কোমরের নীচের দিক থেকে পিঠের দিকে তুলুন। ডান হাত ঘাড়ের পেছন থেকে নীচের দিকে নামান। ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতের আঙুল ধরার চেষ্টা করুন। আসন শুরুর দিকে দুই হাতের আঙুল ধরা মুশকিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তোয়ালে বা রুমালের দুটি কোণ দুই হাত দিয়ে ধরে হাত কাছাকাছি আনতে হবে। এই অবস্থানে ঘাড়, পিঠ ও মাথা সোজা থাকবে। মনে মনে ২০ পর্যন্ত গুনতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
আরও পড়ুন:
অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন
দু’পা সামনের দিকে ছড়িয়ে বসুন। এ বার বাঁ পা ডান পায়ের ঊরুর নীচে রাখুন। এর পর যে পা রেখেছেন, তার উল্টো দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে রাখুন। একটি হাতে সামনের পায়ের পাতা স্পর্শ করে থাকবেন। আর অন্য হাতটি ঘুরিয়ে রাখবেন কোমরে। এই ভঙ্গিতে ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।
বদ্ধ কোণাসন
কোমর-পিঠ টান টান করে মাটিতে বা ম্যাটের উপর বসুন। দুই পাতের পাতা জড়ো করে প্রণাম করার মতো ভঙ্গি করতে হবে। এ বার দুই পাতের পাতা জোড়া অবস্থাতেই টেনে আনতে হবে জননাঙ্গের কাছে। লম্বা শ্বাস নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে মাটিতে স্পর্শ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনও ভাবেই যেন মেরুদণ্ড ভাঁজ হয়ে বা বেঁকে না যায়। শুরুর দিকে এই আসন করতে অসুবিধা হতে পারে। তাই পেট মুড়ে সামনের দিকে ঝুঁকতে না পারলে সোজা হয়ে বসে থাকতে পারেন। নিয়মিত আসনটি করলে পেটের মেদ কমে যাবে।