সত্তর পেরিয়ে গেলে ঘরে শুয়ে-বসে থাকতে হবে, এমন ধারণায় এখন আর কেউ তেমন বিশ্বাসী নন। তাই ষাট বা সত্তর বছরের বৃদ্ধকেও অনায়াসে জিমে গিয়ে কসরত করতে দেখা যায়। শরীর ও মনে ঠিক থাকাই লক্ষ্য। বয়স যতই হোক না কেন, ভাবনার গতিপ্রকৃতি এখন সে দিকেই যাচ্ছে। অভিনেতা হোন বা সাধারণ মানুষ, এই ধারাতেই গা ভাসিয়েছেন। সম্প্রতি অভিনেতা ভিকি কৌশলের বাবা সত্তরোর্ধ্ব শ্যাম কৌশলকেও জিমে গিয়ে রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং করতে দেখা গিয়েছে। আর এখন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকরকেও দেখা গেল কঠিন ট্রাইসেপ ডিপ করতে। ৭৬ বছরের নানার ফিটনেস দেখে হতবাক তাঁর ভক্তেরাও।
বলিউডের অন্যতম কৃতী অভিনেতা নানা পটেকর। তাঁর অভিনয় দক্ষতা যতটা প্রশংসা পেয়েছে, ততটাই আলোচনা হয়েছে তাঁর ফিটনেস ও সুশৃঙ্খল যাপন পদ্ধতি নিয়েও। নিরামিষ আহার করেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। আর এখন তো পেশির শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ট্রাইসেপ ডিপও করছেন। অভিনয়ে ফিরেছেন নানা। সে জন্য শরীর ঠিক রাখতেই হবে। জানিয়েছেন, এক বারে ১৫টি ট্রাইসেপ ডিপ করতে পারেন তিনি। তবে এই বয়সে এমন ব্যায়াম করা কি নিরাপদ?
শরীরের ঊর্ধ্বাংশের পেশির জোর বৃদ্ধি করার ব্যায়াম ট্রাইসেপ ডিপ। মূলত হাতের পেশি শক্তিশালী করতে ব্যায়ামটি করা হয়। ট্রাইসেপ ডিপ নানা ভাবে করা যায়। নানা যে ভাবে করছেন, তাতে একটি যন্ত্রের দুই হাতল ধরে হাতের উপর ভর দিয়েই শরীর উপরে তুলছেন ও নামাচ্ছেন। সবটাই হাতের উপর ভর দিয়ে করতে হবে। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকবে ও হাতের ব্যায়ামও হবে। হাতের পেশি শক্তপোক্ত হবে।
আরও পড়ুন:
আরও এক ভাবে করা যায় ট্রাইসেপ ডিপ। এতে যন্ত্রপাতি লাগে না। ব্যায়ামটি করতে একটি মজবুত চেয়ার বা বেঞ্চের সামনে দাঁড়াতে হবে। উল্টো দিকে ফিরে দুই হাত বেঞ্চের প্রান্তে রাখতে হবে। দুই পা বাড়িয়ে দিতে হবে সামনের দিকে। শরীরের ওজন হাতের উপরে থাকবে। এ বার কনুই ভাঁজ করে ধীরে ধীরে শরীর নীচের দিকে নামাতে হবে ও হাতে জোর দিয়ে আবার ঠেলে উপরে তুলতে হবে।
বয়স্করা কি করতে পারেন?
বয়স্কেরাও ব্যায়ামটি করতে পারেন, তবে নিয়ম মানতে হবে। যাঁদের কাঁধে বা কব্জিতে চোট রয়েছে, তাঁরা এমন ব্যায়াম করতে পারবেন না। বয়স্কেরা দেওয়ালে ভর দিয়েও ব্যায়ামটি করতে পারেন, তা হলে শরীরের উপর চাপ কম পড়বে। হার্টের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ব্যায়াম করা যাবে না।
ট্রাইসেপ ডিপ ঠিকমতো করতে পারলে বাতের ব্যথাবেদনা হবে না, হাত ও পা বয়সকালেও সচল থাকবে। হাঁটতে-চলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে।