তাঁর দেহসৌষ্ঠব মুগ্ধ করার মতোই। ‘বাহুবলী’ ছবির বল্লালদেব তাঁর পেশিবহুল চেহারা ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ করেছিলেন দর্শকদের। তিনি রানা দগ্গুবতি। দক্ষিণী তারকার ফিটনেস নিয়ে রীতিমতো আলোচনা সিনে মহলে। অথচ রানা নিজে জানিয়েছেন, তিনি শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন এক সময়ে। আমিষ ছেড়ে নিরামিষ খেতে শুরু করেন। নুন খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। মাসের পর মাস নুন ছাড়াই খাবার খেয়েছেন রানা। তবে এমন ডায়েট কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?
সম্প্রতি এক টক শোয়ে রানা দগ্গুবতি জানিয়েছেন, তাঁর কোলেস্টেরল এত বেড়ে গিয়েছিল যে, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। চিকিৎসকেরা সব পরীক্ষানিরীক্ষার পরে জানিয়েছিলেন, ধমনীতে পুরু করে কোলেস্টেরলের ‘প্লাক’ জমছে তাঁর। এই কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে। হার্টের মাঝে করোনারি আর্টারি নামে দু’টি ছোট ছোট ধমনী থাকে। এরাই হৃদ্যন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করে। কোনও কারণে এই করোনারি আর্টারি যদি ব্লক হয়ে যায়, তা হলে যে এলাকায় ওই আর্টারি বা ধমনী রক্তের মাধ্যমে পুষ্টি পৌঁছে দেয়, সেই জায়গার হৃদ্পেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। শুধু তাই নয়, কম বয়স থেকেই তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন। কখনওই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সে কারণেও তাঁকে অন্য রকম ডায়েট মেনে চলতে হয়।
আরও পড়ুন:
হার্টের পাশাপাশি কিডনিতেও অস্ত্রোপচার হয় রানার। সেই সময়েও তাঁকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তাই চিকিৎসকেরা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, নুন একেবারেই কম খেতে বা না খেতে। সে কারণেই নুন ছাড়া ডায়েট মেনে চলতে হয়েছিল তাঁকে।
রানা দগ্গুবতি নুন খাওয়া ছেড়েছিলেন বিশেষ কারণে। তবে সকলের জন্য এই ডায়েট একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এমনটাই জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী। কেউ যদি হঠাৎ করে নুন খাওয়া বন্ধ করে দেন, তা হলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
নুন খাওয়া বন্ধ করলে কী কী সমস্যা হবে?
শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা একেবারে কমে গেলে নানা সমস্যা দেখা দেবে। পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম মিলেই তৈরি হয় মানবদেহের ইলেক্ট্রোলাইট পরিবার। স্নায়ু, মাংসপেশি ও হৃৎপিণ্ডের পরিচালনা থেকে দেহের নানা জটিল প্রক্রিয়া পরিচালনাই এদের কাজ। এই খনিজগুলির যদি ঘাটতি হয়, তা হলে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বিগড়ে যাবে।
রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কম হলে তাকে বলে ‘হাইপোনেট্রিমিয়া’। এতে হজমশক্তি কমবে, বমি ভাব বাড়বে, শরীর অত্যধিক দুর্বল হয়ে পড়বে।
এছাড়া, মস্তিষ্কের কোষে জল জমতে পারে। এতে বিভ্রান্তি, অবসাদ এমনকি খিঁচুনি হয়ে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।
অতিরিক্ত নুন যেমন খারাপ, তেমনি খুব কম নুনও হার্টের জন্য ক্ষতিকর। এটি ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কম নুন বা নুন ছাড়া খাবার খেলে সোডিয়ামের ঘাটতির জন্য শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়বে।