১০০ পাক দৌড়, দু’হাতে ১০ কেজি করে ওজন তোলা, পুশ আপ, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো কায়িক পরিশ্রম নয়, সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকতে হলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডই যথেষ্ট। আয়ু বৃদ্ধি করতে ও বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে নানা রকম চিকিৎসাপদ্ধতি, থেরাপি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন গবেষকেরা। কেউ ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন, আবার কেউ জোর দিচ্ছেন যাপন পদ্ধতিতে। নিউ ইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অফ বাফেলোর গবেষকেরা, ৩০ সেকেন্ডের এক ব্যায়ামের কথা বলেছেন, যা অভ্যাস করলে যৌবন ধরে রাখা যাবে দীর্ঘ দিন।
বার্ধক্যকে থামিয়ে দিয়ে যৌবন ধরে রেখে বাঁচার প্রয়াসই চলছে বিশ্ব জুড়ে। সে জন্যই অ্যান্টি-এজিং নিয়ে এত গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তবে যৌবন ধরে রাখতে গেলে দীর্ঘ সময় বাঁচতেও তো হবে। আর বাঁচতে হবে সুস্থ ও নীরোগ শরীরে। অসুখ বাসা বাঁধলে যৌবন ধরে রাখার কোনও চিকিৎসাই কাজে আসবে না। সে কারণে শুধু অ্যান্টি-এজিং একমাত্র আলোচনার বিষয় নয়, কত দিন আয়ু রয়েছে, তা নিয়েও নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, শরীর যদি সুস্থ থাকে, সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয়, হার্টের রোগ না হয় অথবা রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তা হলেই যৌবন দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব হবে। সে জন্য করতে হবে এক বিশেষ ব্যায়াম।
আরও পড়ুন:
গবেষকেরা প্রায় হজার পাঁচেক মহিলাকে ব্যায়ামটি অভ্যাস করিয়ে দেখেছেন। তাঁদের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। দেখা গিয়েছে, ব্যায়ামটি নিয়ম মেনে করলে জটিল অসুখের ঝুঁকি থাকে না। শরীররও সচল ও তরতাজা থাকে।
কোন ব্যায়ামে আয়ু বাড়বে?
ব্যায়ামটি উৎকটাসন। ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। দুই পায়ের মধ্যে সামান্য ব্যবধান থাকবে। দুই হাত থাকবে দেহের দু’পাশে। এর পর হাঁটু ভাঁজ করে চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গি করতে হবে। তবে কোনও কিছু ধরবেন না। কোনও অবলম্বন ছাড়াই চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গিতে থাকতে হবে অন্তত ৩০ সেকেন্ড। আবার আগের অবস্থানে ফিরতে হবে। এই প্রক্রিয়া অন্তত ৭-৮ বার করতে হবে। ইংরেজিতে এই আসনকে ‘চেয়ার পোজ়’ও বলা হয়। নিয়মিত এই আসন অভ্যাসে সারা শরীরের ব্যায়াম হবে। বয়সকালে বাতের ব্যথাবেদনা, স্নায়ুর জটিল রোগ হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।