শরীর ভাল রাখতে যে যে জিনিসগুলিকে বাদ দিতে বলা হয়, ময়দা তার মধ্যে একটি। বিস্কুট, কেক, পাউরুটি, লুচি, পরোটা, রুটি— সবেতেই ময়দা ব্যবহার করা হয়। তবে যদি সত্যি খাবার থেকে ময়দা বাদ দেওয়া হয়, কী হবে? ময়দা হল পক্রিয়াজাত খাবার। আটা প্রক্রিয়াকরণের ফলে ময়দা যখন তৈরি হয়, তাতে আর পুষ্টিগুণের কোনওটাই তেমন বজায় থাকে না। বাদ যায় ফাইবার। মিহি সাদা গুঁড়ো ময়দা খাবারের রং এবং স্বাদে অনেকটাই বদল আনতে পারে বলে এর ব্যবহারও যথেষ্ট।
দিল্লির পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রার কথায়, ‘‘কেউ যদি অন্তত ১৪ দিন ময়দাজাতীয় সব খাবার বাদ দেন, শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক বদল চোখে পড়বে।’’
রক্তে শর্করা বশে থাকবে: ময়দা দ্রুত পরিপাক হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়িয়ে দেয় তাড়াতাড়ি। সেই কারণে ডায়াবেটিকদের জন্য ময়দা একেবারেই অনুপযুক্ত। রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। তাই ময়দা এবং চিনি জাতীয় খাবার বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে খাদ্যতালিকায় জুড়তে হবে ফাইবার।
আরও পড়ুন:
পেটের স্বাস্থ্য ভাল হবে: ময়দা বাদ দিয়ে দানাশস্য, গম বা রাগির আটা খেলে হজমক্ষমতা বাড়বে, পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। কারণ, পেটের জন্য ফাইবার জাতীয় খাবার ভাল। ময়দায় ফাইবার প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে বজহজম, পেটফাঁপার সমস্যা কমবে, পেটও পরিষ্কার হবে।
তৃপ্তির বোধ: ময়দা জাতীয় খাবার খেলে চট করে পেট ভরে না। মনের মধ্যে খাই খাই ভাবটা রয়ে যায় অনেক সময়। খানিক পরে আবার ক্ষিদেও পায়। বদলে দানাশস্য, রাগি, জোয়ার জাতীয় খাবার খেলে পেট অনেক ক্ষণ ভরা থাকবে, পাশাপাশি খেয়েও তৃপ্তি হবে।
ওজন কমবে: ওজন কমানোর জন্য ময়দাজাতীয় খাবার বাদ দেওয়া জরুরি। চট করে পেট ভরে না বলে ময়দার খাবার বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যায়। তা ছাড়া, ময়দা জাতীয় বেশ কিছু খাবারের ক্যালোরির মাত্রাও যথেষ্ট।
পুষ্টির মাত্রা ঠিক থাকবে: ময়দা বাদ দেওয়ার পাশাপাশি যদি গম, রাগি বা জোয়ারের আটার তৈরির খাবার খাওয়া হয়, যোগ করা হয় ডালিয়া, ওট্সের মতো খাবার, তা হলে শরীরে বাড়তি পু্ষ্টিও মিলবে। ফাইবার, বি ভিটামিন, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আয়রনের জোগান থাকবে শরীরে।