পেটে মাঝেমধ্যেই যন্ত্রণা। কিছু খেলেই পেট ফুলেফেঁপে ওঠা নিছক পেটের গোলমাল নয়। এর কারণ গ্যাস্ট্রিক আলসারও হতে পারে। পেপটিক আলসার হলে পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে সেই ক্ষত হতে পারে। এই ক্ষতগুলি থেকেই পরবর্তী কালে জটিলতার সৃষ্টি হয়। খাদ্যনালিতে অধিক মাত্রায় অ্যাসিড তৈরি হলেই এই রোগ হয়। গ্যাসট্রিক আলসার হলে রোগীর খাবার খাওয়ার দু’তিন ঘণ্টা পর পেটের ব্যথাটা বাড়ে। খাবার খাওয়ার পর যদি এমনটা প্রায়ই ঘটে, তা হলে তা আলসারের লক্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে গলা-বুকে জ্বালা হবে। বুকজ্বালা করলে অনেক ক্ষেত্রেই অম্বলের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। ঘন ঘন এমনটা হওয়া কিন্তু আলসারের লক্ষণ হতে পারে।
আলসার হলে ওষুধ খেতেই হবে। সে সঙ্গে পথ্যও কিন্তু জরুরি। এমন কিছু খেতে হবে যাতে শরীর থেকে বাড়তি টক্সিন বেরিয়ে যায়। হজমশক্তি বাড়ে এবং আলসারের ক্ষত ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
কী কী খেলে পেটে যন্ত্রণা কমবে?
পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যার কারণে ব্যথা হলে আদা খুবই ভাল। দীর্ঘ সময় ধরে আলসারের ব্যথায় কষ্ট পেলে, রোজ সকালে আদা ও মধুর চা খেতে পারেন। আবার শসা, লেবু ও আদা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। তার পরে না ছেঁকে শাঁস সমেত ওই স্মুদি পান করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
পেট ঠান্ডা রাখতে পালং শাক ও শসাও খুব উপকারী। এক মুঠো পালং শাক, অর্ধেক শসা, ১টি আপেল একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। ঘন স্মুদি তৈরি হবে। উপরে সামান্য দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে নিন। এই পানীয় প্রতরাশের সঙ্গেও খেতে পারেন।
পেটের যাবতীয় সমস্যা দূর করতে প্রোবায়োটিক খুব জরুরি। দই হল প্রোবায়োটিকের ভাল উৎস। পেটে যন্ত্রণা যদি মাঝেমধ্যেই ভোগায় তা হলে পুদিনা ও দইয়ের শরবত খেতে পারেন। এই পানীয়টি পেট ঠান্ডা রাখবে। ছোটদেরও নিয়মিত খাওয়াতে পারেন। ১ কাপ টক দই, একমুঠো টাটকা পুদিনা পাতা, লেবুর রস, বিট নুন নিতে হবে। পুদিনা পাতা আগে বেটে নিন। তার পর দই ও বাকি উপকরণ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
মৌরি প্রাকৃতিক ‘অ্যান্টাসিড’ হিসেবে কাজ করে। এক গ্লাস জলে এক চামচ মৌরি ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করুন। সরাসরি মৌরি চিবিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
গরমে ডায়েরিয়ার সমস্যা এমনিতেও বাড়ে। তার উপরে আলসারের ব্যথা হলে পেট ঠান্ডা রাখা খুব জরুরি। এর জন্য খেতে পারেন ডাবের জল। তবে সরাসরি নয়। এর সঙ্গে মেশাতে হবে আরও কিছু উপকরণ। এক কাপ ডাবের জল, ৩ কাপ তরমুজের রস, ১ চামচ পাতিলেবুর রস নিয়ে নিন। সব উপকরণ মিশিয়ে নিয়ে সামান্য সৈন্ধব লবণ দিন। এই পানীয়ে চিনি বা মধু মেশানোর প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি পুদিনা পাতা উপরে ফেলে দিতে পারেন।