গ্রীষ্মকালীন ফলের তালিকায় থাকা তরমুজের জনপ্রিয়তা শুধু তার পুষ্টিগুণ নয়, স্বাদের জন্যও। ভিটামিন সি, এ, কপার, পটাশিয়াম-সহ একাধিক ভিটামিন-খনিজের সমন্বয় থাকায় এই ফল স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী। ফাইবার থাকায় তা হজমেও সহায়ক। জলের মাত্রা বেশি থাকায় গরমে জলাভাবও দূর হয় তরমুজ খেলে। কিন্তু সেই ফলও যে ক্ষেত্রবিশেষে পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে, তা অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন না।
গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালের পেটের অসুখের চিকিৎসক অনুকল্প প্রকাশ জানাচ্ছেন, তরমুজের ৯০ শতাংশই জল। ফলে তা সহজেই হজম করা যায়। তবে কখনও কখনও হজমে সমস্যা তৈরি করে এতে থাকা ফ্রুক্টোজ়। বিশেষত ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম বা ফ্রুক্টোজ় হজমে সমস্যা থাকলে, ভারী কিছু খাওয়ার পরে তরমুজ খেলে হজমজনিত সমস্যা হতে পারে। ফ্রুক্টোজ় ঠিক ভাবে হজম না হলে তা কোলনে থেকে যায় এবং ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় তা থেকে গ্যাস হয়। ফলে, পেটে ব্যথা, অস্বস্তি কখনও কখনও হতে পারে।
অনেকেরই ভরপেট খাওয়ার পরে ফল খাওয়ার অভ্যাস থাকে। দুপুর হোক বা রাত, ফল খান কেউ কেউ। ভারী এবং বিশেষত সহজে হজম হবে না এমন খাবার খাওয়ার পরে তরমুজ খেলে সমস্যা বাড়ে। একটি খাবার সহজে পরিপাক হয় না, অন্য দিকে, তরমুজ দ্রুত হজম হয়। হজমের সময়সীমার তারতম্যের কারণেও সমস্যা বাড়ে। বিশেষত ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম, হজমজনিত সমস্যা থাকলে ভরপেট খাওয়ার পরে তরমুজ খেলে সমস্যা হতে পারে।
তরমুজ খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?
প্রাতরাশে খাওয়া যেতে পারে। না হলে প্রাতরাশ এবং মধ্যাহ্নভোজের মধ্যবর্তী সময়ে খাওয়া যায়। আবার দুপুরের ভরপেট খাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক বাদেও তরমুজ খেলে হজমের সমস্যা হবে না।
অনুকল্প মনে করাচ্ছেন, তরমুজ উপকারী হলেও, কোনও ফল অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।তা ছাড়া, অন্য একাধিক খাবারের সঙ্গে না খেয়ে আলাদা খাওয়া ভাল। তরমুজ খাওয়ার আগে বা পরে দুধ চা, দুধ এই ধরনের খাবার এড়িয়ে যাওয়া দরকার। দুগ্ধজাতীয় খাবার তরমুজের সঙ্গে খেলে সমস্যা হতে পারে।