চল্লিশের কোঠা পার করেছেন কী করেননি, পিঠে-কোমরে ব্যথা এসে থাবা বসাতে শুরু করেছে? বিশেষ করে যাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের জীবনে শোয়া-বসা-চলার মতো পিঠের ব্যথাও যেন প্রাত্যহিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে দীর্ঘসময়ে বসে থাকার কারণে পেটের মেদও বেড়ে চলেছে। কেবল ডায়েট করে এই মেদ ঝরবে না। তার জন্য জরুরি নিয়মিত শরীরচর্চা। সময়ের অভাবে জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানো সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে ঘরে বসেই করতে পারেন পূর্ণ শলভাসন। এতে ব্যথাবেদনা যেমন সারবে, তেমন পেট-কোমরের মেদও ঝরে যাবে। এই আসনটি করার সময়েই ভঙ্গিমা বদলে করে নিতে পারেন বদ্ধ হস্ত শলভাসন। এতে বুকের পেশি প্রসারিত হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত সমস্যা থাকলে তা কমবে। ফুসফুস ভাল থাকবে।
কী ভাবে করবেন?
১) উপুড় হয়ে ম্যাটের উপর শুয়ে পা দু’টি একসঙ্গে টান টান করে রাখুন। দুই হাত রাখুন দুই ঊরুর নীচে।
২) ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে বাঁ পা উপরের দিকে তুলুন। হাঁটু যেন ভাঁজ হয়ে না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩) এ বার একই ভাবে ডান পা-ও তুলতে হবে। মাটির সঙ্গে অন্তত ৪৫ ডিগ্রি কোণে দুই পা তুলতে হবে।
৪) মাথা ও বুক যতটা পারেন, তুলুন। দুই হাতও পিছনে দিকে একই ভাবে তুলে রাখতে হবে। এই ভঙ্গিমায় শ্বাসপ্রশ্বাস থাকবে স্বাভাবিক। এটি হল পূর্ণ শলভাসনের ভঙ্গি।
আরও পড়ুন:
৫) এর পর একই ভঙ্গিতে থেকে দুই হাত পিঠের দিকে নিয়ে আঙুলগুলি মুষ্টিবদ্ধ করতে হবে। এতে বুক ও কাঁধের পেশি প্রসারিত হবে।
৬) বদ্ধ হস্ত শলভাসনের ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ৫-৬টি সেটে আসনটি অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা:
তলপেটের মেদ দ্রুত কমবে।
পেট, কোমর, ঊরুতে জমা অতিরিক্ত মেদ ঝরবে, নিতম্বেরও ব্যায়াম হবে।
শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
বাতের ব্যথাবেদনা, সায়াটিকার ব্যথার নিরাময় হবে।
এই ব্যায়ামে সারা শরীরের স্ট্রেচিং হবে, হাত ও পায়ের পেশি টানটান হবে।
মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়বে নিয়মিত এই আসন অভ্যাসে।
বদ্ধ হস্ত শলভাসন করলে ফুসফুস ভাল থাকবে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমবে।
স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা থাকলে তার নিরাময় হবে।
কারা করবেন না?
স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আসনটি করা যাবে না।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি করা যাবে না।