পিঠে-কোমরে ব্যথা এখন ঘরে ঘরে। যাকেই জিজ্ঞাসা করবেন, তিনিই বলবেন, বেশি ক্ষণ বসে থাকলেই পিঠটা টনটনিয়ে ওঠে। শিরদাঁড়া বেয়ে ব্যথা এঁকেবেঁকে নেমে আসে কোমরে। তার পরে সেখানেই ঘাপটি মেরে বসে থাকে। বসে থেকে ওঠার সময়ে, শোয়ার সময়, দাঁড়িয়ে থাকলে, এমনকি ঝুঁকে কিছু তুলতে গেলেও ব্যথা যেন সজোরে চাবুক কষায়! ঝনঝন করে ওঠে পিঠ, কোমর। বেশির ভাগ সময়ই কোনও চোট-আঘাত লাগলে, পেশিতে টান পড়লে কিংবা বয়সজনিত কারণে পিঠ আর কোমরের যন্ত্রণা হয়। এর থেকে রেহাই পেতে নিয়ম করে যোগাসন অভ্যাস করা যেতে পারে। মেরু বক্রাসন অভ্যাসে পিঠের ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।
কী ভাবে করবেন?
১) চেয়ারে সোজা হয়ে পা ঝুলিয়ে বসুন। মাথা ও ঘাড় সোজা থাকবে।
২) এ বার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীরের উপরিভাগ বাঁ দিকে ঘোরান। কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ মোচড় দিয়ে ঘোরাতে হবে।
৩) এই অবস্থানে বাঁ হাত রাখুন বাঁ দিকের নিতম্বের কাছে আর ডান হাত বাঁ হাঁটুর উপরে।
৪) একই সঙ্গে বাঁ দিকে ধীরে ধীরে ঘাড়ও ঘোরান। তবে বেশি জোর দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
৫) এ বার শ্বাস নিতে নিতে শুরুর অবস্থানে ফিরে আসুন।
৬) একই ভাবে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ডান দিকে মোচড় দিয়ে শরীর ঘোরান। ডান হাত রাখুন ডান দিকের নিতম্বের কাছ আর বাঁ হাত ডান হাঁটুর উপরে। ডান দিকে ঘাড় ঘোরান। এই অবস্থানে কয়েক সেকেন্ড থাকতে হবে।
৭) ২০-৩০ সেকেন্ড করে ৭-৮ বার আসনটি অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা:
চেয়ারে বসে কোমর থেকে শরীরের উপরিভাগ মোচড় দেওয়া বা স্পাইনাল ট্যুইস্ট নিয়মিত অভ্যাস করলে মেরুদণ্ড টান টান ও সোজা হয়।
আরও পড়ুন:
ঘাড়, পিঠ ও কোমরের ব্যথা সেরে যাবে।
ফ্রোজ়েন শোল্ডারের সমস্যা থাকলেও আসনটি করা যাবে।
স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা নিয়ম করে অভ্যাস করুন মেরু বক্রাসন।
কারা করবেন না?
মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।
স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে আসনটি না করাই ভাল।