কমবেশি ১০ ঘণ্টা অফিসে কাজ করেন। তার মধ্যে বেশির ভাগ সময়েই ল্যাপটপে টাইপ করতে হয়। এক টানা চেয়ারে বসে টাইপ করার ফলে ঘাড়, কোমরে ব্যথা তো ছিলই, চোখ থেকেও ক্রমাগত জল পড়ার সমস্যা শুরু হয়েছে। অনেকের আবার কিছু ক্ষণ টাইপ করার পরই আঙুলের ডগায় চিনচিনে ব্যথা শুরু হচ্ছে। সুচ ফোটার মতো অনুভূতিও হয় অনেকের। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে একই ভাবে আঙুলের স্নায়ুর উপর ক্রমাগত চাপ পড়তে থাকলে এই ধরনের ব্যথা হয়। ব্যথা, যন্ত্রণাকে অবহেলা করতে করতে সমস্যা কিন্তু শেষমেশ মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। তখন আর আফসোস করা ছাড়া উপায় থাকে না।
আঙুলের ডগার এই যন্ত্রণা কিন্তু স্নায়ুজনিত রোগের উপসর্গ হতে পারে। হাতের আঙুলের স্নায়ুগুলির সঙ্গে মস্তিষ্ক আর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সংযোগ সাধন করে। দীর্ঘ ক্ষণ টাইপিংয়ের ফলে তৈরি স্নায়ুজনিত এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ডিস্টোনিয়া।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই দিনের বেশির ভাগ সময়টা হাত নাড়াচাড়া করেন কাজের খাতিরে। যেমন টাইপিং, ক্লিকিং, স্ক্রলিং ইত্যাদি। আর এই সব কাজের কারণেই স্নায়ু-সম্পর্কিত সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। ডিস্টোনিয়া হল একটি মুভমেন্ট ডিজ়অর্ডার, যার ফলে পেশিগুলি সঙ্কুচিত হয়। এর ফলে মোচড় দেওয়ার মতো যন্ত্রণা হয়। শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে একই কাজ বার বার করার ফলেই এই সমস্যা শুরু হয়।
যখন এই অবস্থা শরীরের একটি অংশকে প্রভাবিত করে, তখন তাকে ফোকাল ডিস্টোনিয়া বলা হয়। যখন এটি শরীরের দু'টি বা তার বেশি অংশকে প্রভাবিত করে, তখন তাকে সেগমেন্টাল ডিস্টোনিয়া বলে। যখন ডিস্টোনিয়া শরীরের সমস্ত অংশকে প্রভাবিত করে, তখন তাকে সাধারণ ডিস্টোনিয়া বলা হয়। এ ক্ষেত্রে পেশির খিঁচুনি হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে। এই সমস্যা ভীষণ বেদনাদায়ক, এই রোগে আক্রান্ত হলে দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
শরীরের কোন কোন অংশে প্রভাব ফেলতে পারে?
ডিস্টোনিয়ার ফলে ঘাড়ে যন্ত্রণা শুরু হতে পারে। ঘাড় গুঁজে একটানা কাজ করলে এমন সমস্যা হতে পারে। স্ক্রিন টাইম বেশি হলে চোখের পাতাতেও ডিস্টোনিয়া হতে পারে। জিভ বা চোয়ালেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁরা দীর্ঘ ক্ষণ গানবাজনা নিয়ে চর্চা করেন বা বাদ্যযন্ত্র বাজান, তাঁদের স্বরযন্ত্র কিংবা হাতেও এই সমস্যা শুরু হতে পারে।
এই সমস্যাকে শুরুতেই ধরে ফেললে পরবর্তীতে ভোগান্তি কম হবে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ, ফিজ়িয়োথেরাপি দিয়েই রোগটির সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। তবে সমস্যা বাড়াবাড়ির পর্যায় পৌঁছে গেলে কিন্তু নিউরোসার্জারি করানো ছাড়া উপায় থাকে না।