খাবেন। তার পরে হজম হবে না। রাতে শুতে যাওয়ার সময়ে বুকের কাছে দলা পাকিয়ে থাকবে অস্বস্তি, জ্বালা ভাব— এ সবই কারও কারও জীবনে এতটাই নিত্য নৈমিত্তিক যে, কেউ কেউ বিষয়টি মেনেও নিয়েছেন। যে দিন এমন হয় না, সে দিনই বরং বিস্মিত হন তাঁরা! কিন্তু সারা দিন যেখানে কোনও সমস্যা হচ্ছে না, সেখানে রাতেই ওই সমস্যা বাড়ছে কেন, তা ভেবে দেখেছেন কি কখনও? কারণ আছে। আর তার সমাধানও সম্ভব।
কেন রাতেই বাড়ে ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’?
মূলত দু’টি কারণে। একটা খুব সোজাসাপটা বিজ্ঞান। মাধ্যাকর্ষণের টান। দাঁড়িয়ে থাকলে বা বসে থাকলে স্বাভাবিক নিয়মেই পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিডিক উপাদান থাকে নীচের দিকে। ফলে খুব বেশি অ্যাসিড তৈরি না হলে ঠেলে উপরে উঠে আসে না। কিন্তু রাতে শুয়ে পড়লে অ্যাসিড আর নীচের দিকে থাকে না। ফলে সহজেই খাদ্যনালীতে উঠে এসে অস্বস্তি তৈরি করে।
দ্বিতীয় কারণটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরীরের বিশেষ রসায়ন। রাতে শোওয়ার পরে মুখে লালা নিঃসরণ কমে যায়। মুখগহ্বর নিঃসৃত স্যালাইভা স্বভাবসিদ্ধ ভাবেই পাকস্থলীর অ্যাসিডকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে। রাতে তার অভাব হলে অস্বস্তি বাড়ে।
অস্বস্তি দূর করার সহজ উপায়
খাবার ও ঘুমানোর ব্যবধান: রাতের খাবার খাওয়ার ঠিক পরেই ঘুমোনো উচিত নয়। খাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর বিছানায় যান।
শোয়ার ভঙ্গি: বিছানায় মাথার দিকটি সামান্য উঁচুতে রেখে ঘুমোন। এতে অ্যাসিড সহজে উপরে উঠতে পারবে না।
খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এবং ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন। এড়িয়ে চলুন প্রাণীজ খাবারও। বদলে উদ্ভিজ্জ খাবার রাখুন থালায়। ওই ধরনের খাবার অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমাতে সহায়ক হবে।
প্রয়োজনীয় ওষুধ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এইচ-টু ব্লকার বা অ্যালজিনেট জাতীয় ওষুধ শোয়ার আগে খাওয়া যেতে পারে, যা রাতের অ্যাসিড উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। তবে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের চেয়ে পুরোপুরি নিরাময়ের চেষ্টা করাই ভাল।
মনে রাখবেন
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দীর্ঘ দিন ধরে হতে থাকলে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাতে অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দিনের পর দিন সহ্য না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।