জ্যোর্তিবিজ্ঞান অনুসারে, রাহু-কেতু হল গাণিতিক বিন্দু বা নোড মাত্র। রাহু উত্তর এবং কেতু দক্ষিণ গাণিতিক বিন্দু। ফলিত জ্যোতিষে রাহু এবং কেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে ধীরগতি সম্পন্ন গ্রহের ফলদানের ক্ষমতা বেশি। রাহু ও কেতু এক এক রাশিতে কমবেশি এক বছর ছয় মাস অবস্থান করে। রাহু-কেতু সর্বদা সমসপ্তমে (রাহুর সপ্তমে কেতু) অবস্থানের কারণে রাশি পরিবর্তনও একই সঙ্গে, একই সময়ে করে। রাহু-কেতু গাণিতিক বিন্দু হলেও জ্যোতিষশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহুর সঙ্গে পার্থিব বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে। রাহু পার্থিব চাহিদা বৃদ্ধি করে। রাহু প্রলোভন, অতৃপ্তি, ভ্রম ইত্যাদি দান করে। যে ঘরে অবস্থান করে তার ফল বৃদ্ধি করে। তবে তা বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। কেতু যে স্থানে অবস্থান করে কোনও না কোনও ভাবে সেই স্থানের ফলদানের ক্ষমতা নাশ করে দেয়। মার্চে কমবেশি সব গ্রহই রয়েছে রাহু-কেতুর আবদ্ধে। সেই কারণে সে সকল গ্রহের ফলদানের ক্ষমতাও হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে। এই সময় রাহু-কেতুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে কোন উপায়গুলি মেনে চলবেন, দেখে নিন।
আরও পড়ুন:
উপায়:
১. অন্যান্য গ্রহের মতো রাহু এবং কেতুরও পৃথক পৃথক বীজমন্ত্র হয়। তাদের প্রকোপ থেকে বাঁচতে প্রতি দিন রাহু-কেতুর বীজমন্ত্র জপ করা যেতে পারে।
২. দানের মাধ্যমে রাহু ও কেতুকে তুষ্ট রাখা সম্ভব। সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহের যে কোনও একটি দিন গরিব-দুঃখীদের কালো তিল ও সর্ষের তেল দান করতে পারেন।
৩. প্রতি সন্ধ্যায় প্রদীপের মধ্যে কর্পূর দিয়ে জ্বালান ও সেই ধোঁয়া সমস্ত বাড়িতে ছড়িয়ে দিন।
আরও পড়ুন:
৪. ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। বিশেষ করে শৌচাগার অবশ্যই পরিষ্কার রাখুন। না হলে রাহুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে।
৫. এই মাসে বচসা, কথা কাটাকাটি এড়িয়ে চলুন। কাউকে কোনও প্রকার কুকথা বলতে যাবেন না। মাথা ঠান্ডা রেখে যে কোনও কাজ করুন।
৬. দরকারে কাউকে ফেরাবেন না। যে কোনও মানুষ আপনার কাছে সাহায্য চাইলে সাধ্যের মধ্যে তার পাশে থাকার চেষ্টা করুন।